শাহজাহান সাজু

  ২৬ নভেম্বর, ২০২০

নিত্যপণ্যের মজুদ বাড়াচ্ছে সরকার

নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় ও স্থিতিশীল রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এজন্য খোলাবাজারে পেঁয়াজ, ভোজ্য তেল, চিনি, মসুর ডালসহ অন্য পণ্যের বিক্রি কার্যক্রম আরো বাড়ানো হচ্ছে। বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে এসব পণ্যের মজুদ ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য দেড় লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে যাচ্ছে টিসিবি।

সম্প্রতি টিসিবির ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিয়ে এসব পণ্য কেনায় সহযোগিতা দিতে সোনালী ব্যাংককে এলটিআর গ্যারান্টার (লোন অ্যাগেইনস্ট ট্রাস্ট রিসিপ্ট) হতেও অনুরোধ করা হয়েছে। তা ছাড়া স্থানীয়ভাবে ১০ হাজার টন ভোজ্য তেল, সাত হাজার টন চিনি ও তিন হাজার টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শেষ করেছে সংস্থাটি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, খাদ্যপণ্যের দাম সহনীয় ও স্থিতিশীল রাখতে এবং আগামী রমজানকে সামনে রেখে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। পণ্যের মজুদ বাড়াতে টিসিবিকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সক্ষম করা হয়েছে। এখন দুভাবে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। বেসরকারি খাতে কটি প্রতিষ্ঠানকে আমদানির দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি টিসিবি নিজেও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে। তবে পেঁয়াজ ছাড়া অন্যান্য পণ্য স্থানীয় উৎপাদক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা হবে। এই উদ্যোগ ক্রেতাপর্যায়ে দাম সহনীয় ও স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, করোনাকালে মানুষের আয় কমে গেলেও বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যায়। টিসিবি ট্রাকে করে আলু-পেঁয়াজ বিক্রি করে দাম নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন। ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২০ লাখ টন। তা ছাড়া চিনির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৮ লাখ টন এবং মসুর ডালের চাহিদা পাঁচ লাখ টনের মতো। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে নেওয়া উদ্যোগ হিসেবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—টিসিবি নীতিমালা অনুসারে প্রয়োজনে অধিক ডিলার নিয়োগ করবে। এসব ডিলারের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ, বিপণনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিয়োগ করা ডিলারের পাশাপাশি বা যেখানে টিসিবির নিজস্ব ডিলার নেই; প্রয়োজনে সেখানে স্থানীয় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট জেলার চেম্বারের সহায়তায় সরবরাহ ও বিপণন কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। প্রয়োজনে খাদ্য বিভাগ এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের ডিলারদের সহায়তা গ্রহণ করা যেতে পারে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনকে তাদের চ্যানেলে বিক্রি-কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। বেসরকারি পর্যায়ের উৎপাদক, আমদানিকারক, পরিবেশক এবং পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার জন্য বন্দরগুলোতে আমদানি করা পেঁয়াজসহ অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাধাহীনভাবে খালাস করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হবে।

টিসিবি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে খোলাবাজারে পেঁয়াজ ৩০ টাকায়, চিনি ৫০ ও মসুর ডাল ৫০ টাকায় আর প্রতি লিটার ভোজ্য তেল (সয়াবিন) ৮০ টাকায় বিক্রি করছে টিসিবি। দেশব্যাপী ২৭৭ জন নিজস্ব ডিলারের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকায় ৪০টি, চট্টগ্রামে ১০টি, রংপুরে ৭, ময়মনসিংহে ৫, রাজশাহীতে ৫, খুলনায় ৭, বরিশালে ৫, সিলেটে ৫, বগুড়ায় ৫, কুমিল্লায় ৫, ঝিনাইদহে ৩ ও মাদারীপুরে ৩টি করে ১০০টি স্থানে ট্র্যাকের মাধ্যমে এসব পণ্য ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রি করা হয়। অন্যান্য জেলার প্রতিটিতে ২টি করে ১০৪টি এবং আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাভুক্ত উপজেলায় আরো ৫টি করে মোট ৬০টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এর বাইরে বন্যাকবলিত জেলা হিসেবে ময়মনসিংহে ৪টি, রংপুরে ৪, বগুড়ায় ৩ ও মাদারীপুরে অতিরিক্ত ২টি করে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। রমজানে এই কার্যক্রমে ছোলা ও খেজুর যুক্ত হয়। আর দেশে প্রথমবারের মতো এবার টিসিবির বিক্রি প্রক্রিয়ায় যোগ হয়েছে আলু, যা এখন প্রতি কেজি ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পিডিএসও/হেলাল

সরকার,নিত্যপণ্য,টিসিবি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়