মো. বশির উদ্দিন, ডেমরা (ঢাকা)

  ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩

ডেমরায় অবৈধ পার্কিং : অসহ্য যানজট

রাজধানীর প্রবেশদ্বার ব্যস্ততম ডেমরা সড়কে যত্রতত্র যাত্রীবাহী বাস, সিএনজি, লেগুনাসহ অন্যান্য যানবাহনের পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। এতে সড়কে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজটসহ নানা প্রতিবন্ধকতা, বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। অভিযোগ, পরিবহন সেক্টরে নানা অব্যবস্থাপনা ও পার্কিংয়ের স্থান সংকটে সড়কের যত্রতত্র এসব অবৈধ পার্কিং করতে হচ্ছে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিসহ অন্যান্য যানবাহনের।

মূল শহরের খুব কাছে বলে স্বাধীনতার পর থেকেই ডেমরা ও আশপাশের এলাকাগুলো আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ডেমরা দিয়ে এখানকার অন্তত ১০ লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, গার্মেন্টকর্মী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচল এখানে। আর প্রতিনিয়ত এখানে মানুষ ও যানবাহন বাড়ছেই। তাই ক্রমবর্ধমান মানুষের সুষ্ঠু যাতায়াতের সুবিধার্থে শিগগিরই ডেমরায় বাসস্ট্যান্ড বা যানবাহন পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরাসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কের চৌরাস্তা থেকে ডিএনডি খালের পাশ দিয়ে স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত সড়কের একপাশ দখল করে থাকে যাত্রীবাহী বিভিন্ন কোম্পানির বাস। পাশাপাশি একইভাবে স্টাফ কোয়ার্টার হাজী হোসেন প্লাজা মার্কেটের পশ্চিম দিকেও পার্কিং করে রাখে যাত্রীবাহী বাস। ডেমরা-রামপুরা সড়কের হাজী হোসেন মার্কেটসংলগ্ন পূর্ব পাশে স্টপেজের দোহাই দিয়ে প্রতিনিয়ত একের পর এক বাস পার্কিং করে যাত্রী ওঠানো হয়। একইভাবে ওই সড়কের অপর পাশে হাজি গফুর মার্কেটের সামনে যাত্রী নামানো হয়। ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কের স্টাফ কোয়ার্টার সংলগ্ন পাকা ব্রিজ ও ওভারপাসের নিচে দুই পাশেই অবৈধ দোকানপাট বসানো হয়েছে। আর অবৈধ স্থায়ী-অস্থায়ী ওইসব দোকানপাট স্থাপন করে চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছে কিছু দখলদার। পাশাপাশি ডেমরা-রামপুরা সড়কের একপাশে অবৈধ দোকানপাটসহ অবৈধ স্থায়ী সিএনজি স্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে। আর এসব দোকানপাট ও সিএনজি স্টেশন থেকেও চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছে দখলদাররা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কে এমন নৈরাজ্য চলছে পুলিশের মদদে। ট্রাফিক ও ডেমরা থানা পুলিশ চাইলে যে কোনো সময় সড়কে এ ধরনের নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব। আর সড়কে অবৈধ পার্কিংসহ এসব নৈরাজ্যের কারণে যানজট, দুর্ঘটনা ও নানা প্রতিবন্ধকতাসহ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরাসহ যাত্রীদের। সড়কে ব্যাহত হচ্ছে শৃঙ্খলা। তাছাড়া ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার শহরের বিভিন্ন রুটের বাসের শেষ স্টপেজ হলেও এখানে সুশৃঙ্খল যানবাহন পরিচালনাব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। যাত্রীদের ওঠানামাতেও ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।

পরিবহন মালিক ও চালকরা বলছেন, ডেমরায় পার্কিংয়ের জায়গাসহ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বেশিরভাগ সময় রাস্তায় গাড়ি রাখতে হয়। এতে যানজট সৃষ্টি, ট্রাফিক পুলিশের বিড়ম্বনাসহ পথচারী ও যাত্রীদের গালমন্দ পর্যন্ত শুনতে হয়। তবে গাড়ি রাখার বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে সড়কের পাশে অবৈধ পার্কিংয়ের ঝামেলায় পড়তে হতো না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যাতায়াত ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কারণে ডেমরায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে মানুষ। সে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন যানবাহন। প্রতিদিনই নতুন করে রাস্তায় নামছে বাস, লেগুনা ও সিএনজিসহ যাত্রীবাহী বিভিন্ন পরিবহন। প্রতিদিন ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার থেকে ডেমরা-রামপুরা ও ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কে শত শত যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করছে। এ বিষয়ে হাজি হোসেন প্লাজা মার্কেটের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্টাফ কোয়ার্টার ও ডেমরা-রামপুরাসহ ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়ক মানেই বিশৃঙ্খলা। এখানে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিবন্ধকতাসহ দুর্ঘটনা হচ্ছেই। আর অনিয়ম ও অব্যবস্থপনার কারণে প্রতিনিয়ত সড়কে যানজটসহ বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকে। আর এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে অবশ্যই থানা ও ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতা কামনা করি।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়কের স্টাফ কোয়ার্টারে বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা সমন্বয়ভিত্তিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। তবে সড়ক উন্নয়ন কাজ অব্যাহত থাকায় এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছি না। এক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসন ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সড়কে সুশৃঙ্খল পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক বলেন, ডেমরা এলাকায় অবৈধ দখলে থাকা সড়ক ও জনপথের জায়গা শিগগিরই দখলমুক্ত করা হবে। বিশেষ করে এখানকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কের নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। তাই সড়কে অপরিকল্পিতভাবে যে যার মতো যানবাহন চলাচল করছে। অবৈধ দখল জায়গা দখলমুক্ত হলে অন্য সব সমস্যাও সমাধান হতে পারে।

সড়কে পার্কিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ডেমরা ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. ফেরদৌস মোবাইল ফোনে বলেন, ট্রাফিক আইন বজায় রাখতে সড়কের পাশে আমরা কোনো প্রকার যানবাহন পার্কিং করতে দিই না। প্রতিনিয়ত মামলা ও রেকারিং করা হচ্ছে। কথা না শুনলে অনেক সময় চালকদের আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থাও করি। আমি প্রতিনিয়ত সকালে ডেমরায় গেলে অবৈধ কোনো পার্কিং দেখি না। তবে আমি চলে আসার পর যদি পরিবহন চালকরা পার্কিং করে তাহলে সেটি আমার চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close