গাজী শাহনেওয়াজ

  ২৬ নভেম্বর, ২০২১

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

আজ প্রচার শেষ, মাঠে থাকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

* আতঙ্কে প্রশাসন প্রার্থী ও ভোটার * ৫৯ ইউপিতে বাড়তি নিরাপত্তা

আগামী ২৮ ডিসেম্বর তৃতীয় ধাপে এক হাজারের মতো ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সহিংসতামুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। এজন্য কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হচ্ছে বাড়তি ফোর্স। সকালেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হবে ব্যালট, ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনী সামগ্রী। কমিশন থেকে মাঠপর্যায়ের নির্বাচনের নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন হতে যাওয়া ৩৬টি ইউপিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) সহায়তায় ভোট নেওয়া হবে।

ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকায় থাকবে সাধারণ ছুটি। সকাল ৮টা থেকে টানা ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনে মোতায়েন থাকবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটানিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি আনসার, গ্রাম পুলিশ ও চৌকিদার। নির্বিঘ্নে ভোট সম্পন্নে শেষ করেছে কমিশন সব প্রস্তুতি। এদিকে, আজ মধ্যরাতে প্রার্থীদের টানা ২১ দিনের প্রচার শেষ হচ্ছে। আর কাল শনিবার মধ্য রাত থেকে বন্ধ হবে নির্বাচনী এলাকায় অনিবন্ধিত মোটরসাইকেলসহ যান্ত্রিক যান। তবে, মহাসড়ক ধরে চলাচল করতে পারবে দূরপাল্লার যানবাহন।

এদিকে, কমিশনের নানামুখী পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি সত্ত্বেও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা কাটছে না ভোটার, প্রার্থী এবং সাধারণ মানুষের। এমনকি জেলা প্রশাসকরা নিরপেক্ষ নির্বাচন করা নিয়েও তাদের শঙ্কার কথা জানাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনকে। ভোটের দিন বিজিবি ও র‌্যাবসহ আধা-সমারিক বাহিনীর তৎপরতা বাড়াতেও কমিশনের কাছে দেন-দরবার করছেন তারা।

এদিকে ভোটগ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে কমিশন ও কমিশন সচিবালয় মাঠ প্রশাসনকে সর্বদা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তাদের অসুবিধাও শুনছেন। সে অনুযায়ী প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচনী সহিংসতায় প্রতিদিনই নিহত হচ্ছেন মানুষ। এ নিয়েও উদ্বিগ্ন কমিশন। ইসি বলছে, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রভাব বিস্তার, বংশীয় দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক প্রার্থীকে ঘায়েল করাই নির্বাচনী সহিংসতার মূল কারণ। প্রতিটি ঘটনা রাতের অন্ধকারে হওয়ায় পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সবই করা হচ্ছে। কেন্দ্রগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তার চাদরে মোড়া থাকবে। তল্লাশী চৌকি থাকবে নিরাপত্তা রক্ষীদের। সন্দেহ হলে তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। তিনি বলেন, নির্বাচন হবে পুরোপুরি ফেয়ার। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। মাঠ প্রশাসনকে সে ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কুষ্টিয়ার এক ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি; খতিয়ে দেখে তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশনের এ অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, কারচুপি হলে ওই ইউপির ভোট স্থগিত হবে। দায়িত্বে অবহেলা পেলে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স পাঠাতে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং কে কোন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন সে প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। আজ থেকে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনের মাঠে নামছেন। এসব বাহিনী ভোটের আগে দুই দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরে একদিন মোট চারদিন দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের তথ্যমতে, আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে এরই মধ্যে মোতায়েন হওয়া ফোর্সের বাইরে ৫৯টি ইউপিকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় আরো অতিরিক্ত ১২৬ প্লাটুন বিজিবি, ৪৬ টিম র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন আনসর সমন্বয়ে স্ট্রাইকিং ফোর্স ১২ টিম এবং ৩ সেকশন কোস্টগার্ড নিয়োগ করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রার্থী ও নির্বাচন কমিশনের মাঠ কর্মকর্তা, রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকদের অনুরোধে ইসি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশন থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা ইউপি হচ্ছে লালমনিরহাট সদর ও কালীগঞ্জ, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই ও বরকল, বান্দরবানের রুমা, আলী কদম, নরসিংদীর রায়পুর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও পলাশবাড়ী, নওগাঁও বদলগাছী ও মান্দা, নোয়াখালীর সেনবাগ, শেরপুরের নকলা ও নালিতাবাড়ী, চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহের সদর, মুক্তাগাছা ও ত্রিশাল, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, বরিশালের উজিরপুর, বাবুগঞ্জ ও মালাদী, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গা ও পীরগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জ, সাতক্ষীরার দেবহাটা ও কালিগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ সদর ও টংগীবাড়ী, নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ, কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নবীনগর ও সরাইল, বগুড়ার সদর শাহজাহানপুর ও ধুনট, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও বড়লেখা, হবিগঞ্জ সদর ও নবীগঞ্জ, ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন, নাটোরের সালপুর ও বাগতিপাড়া, নীলফামারীর জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ, বরগুনার পাথরঘাটা, কুড়িগ্রামের সদর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী এবং টাঙ্গাইলের কালিহাতি ও নাগরপুর।

২২ ইভিএম হচ্ছে যে, ইউপিতে তা হচ্ছে মুকুন্দপুর, কামদিয়া, কিশোরগাড়ী, বরিশাল, এরুলিয়া, পাঁচুপুর, মহাদেবপুর, ধামইরমাট, উমার, শিমুলিয়া, পদ্মবিলা, প্রেমবাগ, গয়েশপুর, রমজাননগর, টিয়াখালী, টাঁদপাশা, তারাকান্দা, কাকনী, গালাগাঁও, ঢাকুয়া, চরসিন্দুর, ফতুল্লা, বুল্লা, শশীদল, কাশিনগর, রাজারগাঁও, রায়শ্রী (উত্তর), রায়শ্রী (দক্ষিণ), জয়লস্কর, উত্তর জয়পুর, হাজিরপাড়া, ভবানীগঞ্জ, হাবিলাসদ্বীপ, কুসুমপুরা, ফাঁসিয়াখালী ও মানিকছড়ি।

উল্লেখ্য, ১০০৭টি ইউপিতে ২৮ ডিসেম্বর ভোট আয়োজনে তফসিল দেওয়া হলেও সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের মামলাসহ নানা কারণে প্রতিনিয়ত নির্বাচন স্থগিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৫ থেকে ৬টি ইউপির নির্বাচন স্থগিত হয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close