কে এম ছালেহ আহমদ বিন জাহেরী

  ২৬ নভেম্বর, ২০২১

ধর্ম

কন্যাসন্তান আল্লাহর রহমত

আল্লাহতায়ালার দেওয়া রহমতের মধ্যে অন্যতম সন্তান-সন্ততি। সমাজের এমন অনেক মানুষ আছে, যারা সন্তানের আকাক্সক্ষায় অজস্র চোখের পানি ফেললেও হচ্ছে না আশা পূরণ। জুটছে না কপালে একটি সন্তান। মহান আল্লাহতায়ালা মানুষকে দুই ভাগে সৃষ্টি করেছেন। পুরুষ এবং নারী। যার প্রচলন পৃথিবীর প্রথম মানুষ হজরত আদম ও হাওয়া থেকে। আল্লাহতায়ালা কাউকে শুধু কন্যাসন্তান দান করেন আবার কাউকে পুত্রসন্তান। কাউকে আবার পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন। কাউকে কোনো সন্তানই দান করেন না। এ বণ্টন একমাত্র আল্লাহতায়ালার বিশেষ হিকমত ও কল্যাণ-জ্ঞানের ভিত্তিতেই হয়।

পক্ষান্তরে মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এত জঘন্য ও নিকৃষ্ট হয়ে থাকে যে, তাদের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতা বিবেককে প্রকম্পিত করে তোলে। ইসলামের প্রাক্কালে আরবদের নিকট কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া বাবার জন্য অপমানজনক ছিল। সেই অপমান সহ্য করতে না পারায় তারা কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিত। অমানবিক ও জঘন্য অপরাধ আরব সমাজকে বিশ্বদরবারে আজও নিন্দিত ও ধিক্কার দিয়ে আসছে। শান্তির দূত মহামানব বিশ্ব নবী মুহাম্মদ (সা.) জাহেলি যুগের কলুষিত অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে আরব জাতিকে সুসভ্য জাতিতে পরিণত করেছেন।

বর্তমানে আমাদের সমাজে এমন অপরাধ সংঘটিত না হলেও দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা অনেক সময় ঘটে যায়। কন্যা ও নারীদের সমাজে মূল্যহীন হিসেবে বিবেচনা করা কতটা বিবেকহীন ও জঘন্য, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আল্লাহতায়ালা বলেন, তাদের কাউকে যখন কন্যাসন্তানের

সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তাদের মুখম-ল কালো হয়ে যায় এবং তখন তারা অসহনীয় মনস্তাপক্লিষ্ট হয়। তাদের যে সংবাদ দেওয়া হয় তাতে গ্লানি ঢাকতে সে নিজ সম্প্রদায় হতে আত্মগোপন করে। চিন্তা করে তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে দেবে। সাবধান তাদের এ সিদ্ধান্ত পৃথিবীতে নিকৃষ্টতম’ (সুরা নাহল ৫৮-৫৯)।

ইসলাম এই নিষ্ঠুর ও জঘন্য অপরাধ নির্মূল করে মানুষকে শিক্ষা দিয়েছে কন্যাদের লালন-পালন করতে, শিক্ষাদীক্ষা দিতে, নেক আমল ও স্বামী সংসারে কাজে পারদর্শী করে তুলতে। এটা বাবা-মার দায়িত্ব ও কর্তব্য। উপযুক্ত করে গড়ে তোলার মাধ্যমে তারা অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। সন্তানদের প্রকৃত শিক্ষা দিয়ে মানুষ করে তুলতে না পারলে তার জন্য তারা অপরাধী হিসেবে আল্লাহতায়ালার দরবারে জবাবদিহি করবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কন্যাসন্তানকে কেয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল’ (সুরা তাকবির ৭-৮)।

হাদিস শরিফে রাসুল (সা.) বলেন, ‘কন্যাসন্তান জন্মের মাধ্যমে যে বাবা-মাকে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হয়। তারপর যে তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার ঢাল হয়ে দাঁড়াবে’- (মিশকাত হাদিস ৪৯৪৯)।

অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুটি কন্যাকে বিয়ে দেওয়া পর্যন্ত লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করবে, আমি এবং সেই ব্যক্তি কিয়ামতের দিন এভাবে একত্রে থাকব। এই বলে তিনি নিজের আঙুলগুলো মিলিয়ে বলেন, যার কন্যাসন্তান আছে, সে তাকে জীবিত কবর দেয়নি, তাকে দানহীন ও লাঞ্ছিত করেও রাখেনি আল্লাহতায়ালা তাকে জান্নাতে স্থান দেবেন। যার তিনটি কন্যা আছে, সেজন্য সে যদি সবর করে এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের ভালো কাপড় পরায়, তাহলে তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ পাবেন’ (আবু দাউদ)। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী, মৌকারা দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা।

[email protected]

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close