রিফাত হত্যা মামলার রায় সমাজকে আশ্বস্ত করেছে

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

ঘটনার ১৫ মাস পর একটি খুনের মামলার রায় হলো। মামলাটি সে সময় দেশ জুড়ে ছিল আলোচিত। এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সচরাচর খুব একটা চোখে পড়ে না। মিডিয়ার উৎকর্ষতা আর খুনিদের বেপরোয়া ঔদ্ধত্য তা প্রকাশ্যে এনেছে। দেশবাসী তা দেখার সুযোগ পেয়েছে। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, ‘এই হামলা মধ্যযুগীয় পৈশাচিক বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।’ বিচারকের এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে দেশের বেশির ভাগ মানুষই একমত পোষণ করেন। তারা বলছেন, উচ্চ আদালতে গিয়ে রায় কী হবে তা আমাদের জানা নেই। তবে, আদালতের এই রায় জাতিকে একটি শিক্ষা দিয়েছে। আর সে শিক্ষাটি হলো, পুরো জাতিকে সমাজ গঠনে নতুন করে ভাবতে হবে। ভাবতে হবে, এই খুনের ঘটনার সঙ্গে যারা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলÑ আদালত তাদের শাস্তি দিয়েছেন। এক দিনে তারা এ রকম দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হয়নি। এ ঘটনার আগে আরো অনেক অঘটনের মধ্য দিয়ে তারা এখানে এসে পৌঁছেছে। প্রশ্ন উঠেছে, কারা এদের সৃষ্টিকর্তা? কাদের ছত্রছায়ায় থেকে এরা নিজেদের বিকশিত করার সুযোগ পেয়েছে। কার বা কাদের কারখানায় নির্মিত হয়েছে এসব রোবটীয় দানব। সেই কারখানা চিহ্নিত করা দরকার। যারা এই তরুণদের এ রকম পৈশাচিক কাজ করার সাহস জুগিয়েছে, সার্বিক সহায়তা দিয়ে একেকজন ফ্রাঙ্কেনস্টাইনে পরিণত করেছে, তাদের মুখোশ উন্মোচিত হওয়াটা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারখানা ধ্বংস এবং মালিকদের নিশ্চিহ্ন করা না গেলে উৎপাদন থেমে থাকবে না। আগামীতে আরো বড় মাপের ফ্রাঙ্কেনস্টাইন তৈরি হবে এবং এর চেয়েও ভয়ংকর পৈশাচিক ঘটনা ঘটতে থাকবে।

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় কী রায় হয়, সেদিকেই দৃষ্টি ছিল সবার। ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে ফিল্মি স্টাইলে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল রিফাতকে। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের বর্বরতার দৃশ্য সামনে এলে দেশব্যাপী চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের সূত্র ধরে একটি শহর ঘিরে গ্যাং কালচারের নানা কুৎসিত দিকও সামনে চলে আসে। হামলার মূলহোতা নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীদের ‘০০৭’ গ্রুপের দীর্ঘদিনের অপকর্মে বরগুনা পরিচিতি পায় ‘বন্ডদের শহর’ হিসেবে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাই এসব দানব তৈরির নেপথ্য কারিগর। এই মামলার ১৪ আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে তাদের মামলা স্থানান্তর করা হয়েছে এবং সেখানেই তাদের বিচার চলছে।

আদালত বলছে, তরুণসমাজ যাতে ভুলপথে অগ্রসর না হয়, তার জন্য এ রায়। এ রায় যুবকদের ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবে। আমরাও আদালতের এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত হয়ে বলতে চাই, উৎপাদন বন্ধ না হলে আদালতকে বারবার এ রকম রায়ের পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। আমরা উৎপাদন বন্ধ দেখতে চাই। কারখানায় তোপ দাগিয়ে তা নিশ্চিহ্ন করতে আগ্রহী। আদালত যেন আমাদের সেই আগ্রহের প্রতি সদয় হয়ে ১৭ কোটি মানুষের প্রত্যাশাকে পূরণ করেন।

 

"