reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ০৬ জানুয়ারি, ২০২৩

নৈতিক শিক্ষার প্রধান উৎস পরিবার

ফাইল ছবি

মোহাম্মদ আবু ইউসুফ

মানব সমাজের ভিত্তি পরিবার। সুখি-সমৃদ্ধ ও কল্যাণময় জীবন গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন হলো সমাজের ক্ষুদ্রতম অথচ গুরত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিবারকে সুষ্ঠুভাবে গঠন করা। কেননা, আদর্শ সমাজের জন্য প্রয়োজন আদর্শ পরিবার। কারণ পরিবার এমন একটি জায়গা, যেখানে প্রেম-প্রীতি ভালোবাসা ও মায়া মমতায় ভরা এমন একটি সুসজ্জিত বাগানের নাম যেখানে প্রতিটি সদস্য তার চারিত্রিক গুণাবলী বিকশিত করার পর্যাপ্ত সুযোগ পায়। নৈতিক গুণাবলীসমৃদ্ধ হয়ে তারা পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে করে মোহিত, সুবাসিত। এটা এমন এক নিরাপদ আবাসস্থল, যা বাইরের যাবতীয় পঙ্কিলতা ও আক্রমণ থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখে। তাই পরিবারবিহীন মানুষ নোঙরহীন নৌকা বা বৃন্তচ্যুত পাতার মতো স্থিতিহীন।

আল কুরআনে পরিবারকে দুর্গের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং পারস্পরিক জীবনযাপনকারী নারী-পুরুষ ও ছেলেমেয়েকে বলা হয়েছে ‘দুর্গের অভ্যন্তরে সুরক্ষিত লোকগণ’। দুর্গ যেমন শত্রুর পক্ষে দুর্ভেদ্য তার ভেতরে জীবনযাত্রাও সেরকম নিরাপদ, ভয়ভাবনাহীন ও সর্বপ্রকার আশঙ্কামুক্ত।

ইসলামে পরিবারের গুরুত্ব : পরিবারের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে ও তোমাদের আহল (পরিবার পরিজন)-কে দোজখের আগুন থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। (সূরা আত্ তাহরীম : ৬)

তবে কিভাবে এই আগুন থেকে মানুষ রক্ষা পাবে তার মৌলিক দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় সূরা লোকমানে উল্লেখিত হযরত লোকমানের উপদেশগুলোতে।

পরিবার প্রথার অবর্তমানে সমাজ টিকে থাকতে পারে না। সমাজ ও সংস্কৃতির সুস্থতার জন্য পরিবার অপরিহার্য।

মহান আল্লাহতায়ালা প্রেম, প্রীতি ভালোবাসা, দয়া, স্নেহ, সহানুভূতি মানুষের প্রকৃতিগত করে দিয়েছেন। এসব শুভ মানবিক গুণাবলীই মানুষকে প্রকৃতপক্ষে মানুষের মর্যাদা দান করেছে। এসব গুণাবলী সংরক্ষণের জন্য যে পারিবারিক জীবন অপরিহার্য তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।

বস্তুত সমাজ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে পরিবার এবং পারিবারিক জীবন হচ্ছে সমাজ জীবনের ভিত্তিপ্রস্তর। এই পরিবারেরই হয়ে থাকে সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার হাতেখড়ি।

তাই পারিবারিক জীবনকে সুস্থ ও সর্বাঙ্গীন সুন্দর করে গড়ে তোলা সকলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পরিবারকে সমাজ দেহের হার্ট এর সাথে তুলনা করা চলে। এই হার্ট যদি দুর্বল বা বিকল হয়ে পড়ে তাহলে পুরো সমাজ ব্যবস্থাই বিকল হয়ে যাবে।

সমাজ জীবনের মূল্যবোধের যত অবক্ষয় ঘটেছে তার অধিকাংশেরই কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে দুর্বল পারিবারিক ব্যবস্থা।

পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতগুলো পারিবারিক জীবনের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতার প্রতি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত করে- ‘তার নির্দেশনাবলীর মধ্যে রয়েছে- তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জোড়া বানিয়েছেন, যাতে তোমরা তাদের নিকট শান্তি লাভ করতে পারো। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও করুণার সঞ্চার করে দিয়েছেন। (সূরা আর রূম : ২১)

সন্তান-সন্তুতিতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া : সন্তান প্রাকৃতিকভাবেই নৈতিক চরিত্রবান হয়ে উঠতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ নিয়মে লালন-পালন উত্তম পারিবারিক শিক্ষা। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। কিভাবে দোয়া করতে হবে এ বিষয়ে সুরা আল ফোরকানের ৭৪ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হে আমার পালনকর্তা! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের দ্বারা চক্ষুসমূহের শীতলতা দাও। আর আমাদেরকে আল্লাহভীরু লোকদের নেতা বানাও।’

পারিবারিক রীতি ও বন্ধন ছাড়া পবিত্র কুরআনের এসব নির্দেশ ও দৃষ্টিভঙ্গি কিছুতেই বাস্তবায়িত হতে পারে না। ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, উন্নত চরিত্রসম্পন্ন জাতির অভ্যুদয় ঘটেছিল সুস্থ-সুন্দর ও পবিত্র পারিবারিক ভিত্তির উপর। বস্তুত উন্নত ও নৈতিক বোধসম্পন্ন এ পরিবার ও পারিবারিক জীবনই হলো সুস্থ সমাজের রক্ষাদুর্গ।

প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় পরিবার : বর্তমান সমাজে পরিবারের দায়িত্ববোধ কমে যাওয়ায় এবং এর গুরুত্বকে খাটো করে দেখায় এর প্রতি সদস্যদের আকর্ষণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে বাবা-মা-ভাই-বোন কেউই কারো প্রতি মায়া-মমতা, ভালোবাসা যথাযথ দায়িত্ববোধ অনুভব করছে না।

বস্তুবাদী এ সমাজের পেছনে ছুটতে ছুটতে বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। ছেলেমেয়েরা মুরুব্বীদের পরোয়া করছে না। সামান্য ব্যাপারেই পরিবারব্যবস্থায় ভাঙন ও বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ন্যূনতম মনুষ্যত্ব ও মানবতা বোধের পরিচয় দিতেও ব্যর্থ হচ্ছে। পরিবার থেকে পাচ্ছে না মানুষ হওয়ার প্রকৃত শিক্ষা।

আমাদের মুসলিম সমাজে পরিবার নামক দুর্গ এখনো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে না গেলেও এতে ঘুণ ধরে অনেকটা অন্তঃসারশূন্য করে দিচ্ছে। তার উপর আকাশ সংস্কৃতি ও মাদকের সর্বনাশা ছোবলে পরিবারের ভীতকে অনেকটা নড়বড়ে করে দিয়েছে। যার কারণে চারদিকে আজ হিংসাত্মক সংঘাতের ছড়াছড়ি। নৃশংসতার মাত্রা এতখানি এসে পৌঁছেছে যে কোথাও বাবা সন্তানকে, সন্তান বাবাকে, মা তার আদরের পেটে ধরা সন্তানকে গলাটিপে হত্যা করছে। এ অমানবিক বিপর্যয়ে গোটা দেশ যেন একটা পাগলা গারদে পরিণত হতে যাচ্ছে। পারিবারিক দায়িত্ববোধের অভাবে এ অনৈতিকতার ছড়াছড়ি সর্বত্র।

পরিবারের মূল লক্ষ্য : পরিবার উদ্দেশ্যহীন কোন বন্ধনের নাম নয়। পারিবারিক জীবন যাপন নিছক পাশবিক লালসা সর্বস্ব নিরুদ্দেশ যৌন চর্চা নয়, বরং তার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সন্তান জন্মদান, সন্তানদের লালন-পালন ও তাদের নৈতিক শিক্ষা দিয়ে এমনভাবে যোগ্য করে তোলা যেন তারা ভবিষ্যৎ সমাজের নাগরিক হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ পরিবার হচ্ছে মূলত মানুষ তৈরির কারখানা। এই কারখানায় পরিবারের প্রধান কর্ণধার পিতা ও মাতা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে নির্ঝঞ্ঝাট ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নতুন বংশধারাকে মৌলিক আকীদা শিক্ষা, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও আদব আখলাক, শিক্ষা, শিশুর নৈতিক প্রেরণা উজ্জীবিত করা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহানুভূতি, ত্যাগ কুরবানী, ধৈর্য্য ও দৃঢ় সংকল্পের প্রশিক্ষণ দেবেন।

নৈতিক শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র পরিবার : পরিবারই হচ্ছে শিশুর প্রাথমিক ও নৈতিক শিক্ষার প্রাথমিক ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান। এখান থেকেই তার চরিত্রের ভিত্তি গড়ে উঠে। তাই পরিবারে পিতামাতার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সন্তানকে ছোট থেকেই নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা।

পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও।’

আল কুরআনের এ আয়াতের অর্থই হচ্ছে- তোমরা তোমাদের নিজেদের ও পরিবার পরিজনদের সুশিক্ষা ও ভালো অভ্যাসের সাহায্যে পরকালীন জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।

হযরত আলী (রা.) এ আয়াতের ভিত্তিতে বলেছেন, ‘তোমরা নিজেরা শেখো ও পরিবারবর্গকে শিখাও সমস্ত কল্যাণময় রীতিনীতি এবং তাদের সে কাজে অভ্যস্ত করে তোল।’ সন্তান সন্তুতিকে উন্নতমানের ইসলামী আদর্শ শিক্ষাদান ও ইসলামী আইন-কানুন পালনে আল্লাহকে ভয় ও রাসূলে করীম (সা.)-কে অনুসরণ করে চলার জন্য অভ্যস্ত করে তোলা পিতামাতারই কর্তব্য। এটা হচ্ছে পিতামাতার প্রতি সন্তানের বড় হক।

তিনি অন্যত্র বলেছেন, তোমাদের সন্তানদের সম্মান করো এবং তাদের ভালো স্বভাব-চরিত্র শিক্ষা দাও। তাই দেখা যায় যে পরিবার সন্তানের নৈতিকতা গঠনের ব্যাপারে যত্নশীল সে পরিবারের সন্তানেরাও উন্নত মানুষ হিসেবে সমাজে তত বেশী প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত।

নৈতিক শিক্ষা : নৈতিক শিক্ষা বলতে বোঝায় এমন ধরনের উন্নত আচরণের শিক্ষা, যার মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে ভালো-মন্দ পার্থক্য বোধের সৃষ্টি হবে এবং যা তাকে সমাজে অধিকাংশের কাছে গ্রহণযোগ্য বা কাঙ্ক্ষিত আচরণে অভ্যস্ত করে তুলবে।

মূলত, যে শিক্ষা মানুষকে ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে শেখায় এবং এমন উন্নত আচরণের শিক্ষা দেয়, যা অধিকাংশ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও কাঙ্ক্ষিত। এ সমস্ত নৈতিক গুণাবলীগুলো হচ্ছে সত্যবাদিতা, সাহসিকতা, পরিশ্রমপ্রিয়তা, অনুগ্রহ, সহানুভূতি, সুবিচার, ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য্য বা সংযম শক্তি, অর্ন্তদৃষ্টি, দূরদৃষ্টি, দৃঢ়তা,উচ্চাশা, ভ্রাতৃত্ব, স্বদেশপ্রেম ইত্যাদি।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের শরীরে এমন একটি জিনিস আছে যা অসুস্থ হলে গোটা দেহই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং যা সুস্থ থাকলে গোটা দেহই সুস্থ থাকে সেটা হচ্ছে ক্বলব বা অন্তঃকরণ।

নৈতিকতা শিক্ষায় বাবা-মা’র করণীয় : যেহেতু শিশুর নৈতিকতা গঠনে বাবা-মায়ের দায়িত্ব সর্বাগ্রে তাই প্রত্যেক বাবা-মায়ের উচিত বিবাহপূর্বে বা সন্তান গর্ভে আসার পূর্বেই এ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জন।

মানুষকে প্রকৃত মানুষ রূপে গড়ে তোলার কাজটি এত সহজ নয়। তার ওপর আমাদের সমাজের অনৈতিক পরিবেশ, শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষার অনুপস্থিতি সব মিলিয়ে একটা নেতিবাচক পরিবেশ থেকে সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে যদি না পরিবারে একেবারে ছোট কিংবা আরো পূর্বে ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই এ প্রস্তুতি নেয়া না হয়। উত্তম পরিকল্পনার স্বামী-স্ত্রী উভয়ে মিলে গুরুত্বের সঙ্গে এ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হতে হবে। তাই এ কথা বলতেই হবে পরিবার নামক গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠান চালাতে প্রস্তুতিমূলক শিক্ষার অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে করণীয় দিকগুলো হচ্ছে-

১. পরিবারকে শিশুর জন্য লালন পালনে সুন্দর ও উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা।

২. পরিবারকে ভক্তি ও ভালোবাসার আকর্ষণীয় কেন্দ্রবিন্দু বানানো।

৩. পরিবারে শিশুর প্রতিপালনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

৪. পিতামাতার পাশাপাশি সর্বোত্তম শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে, এলাকার শ্রেষ্ঠ মেধাবী ও শক্তিমান শিক্ষকদের দ্বারা।

৫. সবার আগে পিতামাতাকে সন্তানের কাছে নিজেকে মডেল হিসেবে তুলে ধরতে হবে।

৬. পরিবারের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করা।

৭. মাঝে মাঝে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রশিক্ষণ মিটিং এর প্রয়োজন।

৮. সন্তানকে বেশি বেশি সাহচর্য দিন।

৯. “নিজে আচরি ধর্ম অপরকে শেখাও” এ মূলমন্ত্র ধরে নিজেদের উত্তম চরিত্রের অধিকারী হতে হবে।

১০. পরিবারের সদস্যদের সংশোধনের প্রচেষ্টার সিস্টেম হচ্ছে- (ক) উত্তম ভাষায় নসীহত (খ) প্রয়োজনীয় শাসন ও (গ) ক্ষমা।

১১. সন্তানকে ভালো একটি ফ্রেন্ড সার্কেল গড়ে দিতে হবে। কারণ হাদীসে আছে, মানুষ তার বন্ধুর দ্বারা প্রভাবিত হয়। অতএব, তাকে ভেবে দেখতে হবে কাকে সে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছে।

সর্বোপরি পরিবারে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে হযরত লোকমান হাকীমের নসীহতগুলো গ্রহণ করতে হবে। হযরত লোকমান হাকীম তার সন্তানদের যে পরামর্শ দিয়েছিলেন তা সূরা লোকমান আকারে তুলে ধরেছেন-

১. হে প্রিয় পুত্র! আল্লাহর সঙ্গে শিরক করো না। কেননা শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় জুলুম।

২. হে পুত্র! একটু পরিমাণ শিরক কোনো জিনিসেও যদি কোনো প্রস্তরের অভ্যন্তরে কিংবা আসমান-জমীনের কোনো এক নিভৃত কোনেও লুকিয়ে থাকে, তবুও আল্লাহ তাআলা তা অবশ্যই এনে হাজির করবেন। বস্তুত আল্লাহ বড়ই সূক্ষ্মদর্শী। গোপন জিনিস সম্পর্কেও তিনি পূর্ণ অবগত।

৩. হে পুত্র! নামায কায়েম করো।

৪. ভালো কাজের আদেশ করো আর অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকো।

৫. যা কিছু দুঃখ-কষ্ট, লাঞ্ছনা আসবে এ কাজে তা সব উদারভাবে বরদাশত করো। কেননা এটি এমন কাজ, যা সম্পন্ন করা একান্তই জরুরি ও অপরিহার্য।

৬. লোকদের প্রতি অহংকার প্রদর্শন করো না, অহংকার করে ঘৃণাভরে লোকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না।

৭. জমিনের উপর গৌরব ও অহংকারে স্ফীত হয়ে চলাফেরা করো না। কেননা আল্লাহ যেকোনো অহংকারীকে মোটেই পছন্দ করেন না তাতে সন্দেহ নেই।

৮. চলনে-বলনে সবসময় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো।

৯. তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো। কেননা সবচেয়ে ঘৃণ্য হচ্ছে গাধার কর্কশ আওয়াজ।

হযরত লোকমানের এ নসীহতটি শিশুর নৈতিক শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে ছোটবেলা থেকেই অন্তরে গেঁথে নিতে হবে। পরিবারে বাবা-মায়ের দায়িত্ব সন্তানকে যতদূর সম্ভব চরিত্রসম্পন্ন করে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করা। তবে এ কর্তব্য পালনে তার নিজের চেষ্টা সাধনা ও যত্নের উপর একান্তভাবে নির্ভরশীল হলে চলবে না। আমাদের এ ব্যাপারে অন্যান্য বিষয়ের মতো আল্লাহর উপরই ভরসা বা নির্ভরতা স্থাপন করতে হবে।

সর্বশেষ, আমরা যেন এ সর্বোত্তম কাজটিকে আরোও যত্ন ও সচেতনতার সাথে করতে পারি মহান আল্লাহর কাছে এ দোয়া চাচ্ছি।

লেখক : সাংবাদিক

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ইসলাম,কুরআন,পরিবার,চরিত্র
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়