বদরুল আলম মজুমদার

  ১৩ জানুয়ারি, ২০২১

জেতার আশা ছাড়াই মাঠে বিএনপি

দ্বিতীয় ধাপে ৬১টি পৌরসভা নির্বাচনে মাঠ ছাড়বে না বিএনপি। হার-জিত যা-ই হোক, নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

বিএনপির কয়েকজন নেতা বলছেন, সারা দেশে প্রার্থীদের অফিসে হামলা, প্রচারে বাধাসহ নানা প্রতিকূলতা তৈরি করা হচ্ছে সরকারদলীয় প্রার্থীদের পক্ষ থেকে। তাদের প্রার্থীরা অবাধ প্রচারের সুযোগ থেকে বার বার বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই দ্বিতীয় ধাপের এ নির্বাচন প্রথম দফার মতোই একপক্ষীয় হবে বলে মনে করছেন তারা। এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে জেতার আশা ছেড়ে দিলেও মাঠ ছাড়তে রাজি নয় বিএনপি।

জানা যায়, পৌর নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে মেয়র পদে ৫৭ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও দুজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া চারটি পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। বর্তমানে ৫৫টি পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে থাকলেও প্রচারে বাধা পাওয়ার অভিযোগ করছেন বেশির ভাগ প্রার্থী। এর বাইরে দেশের অনেক জায়গায় প্রার্থীদের ওপর হামলারও অভিযোগ আসছে। এ অবস্থায় প্রার্থীরা মাঠে থাকলেও জেতার আশা করছেন না। অন্যদিকে সরকারি দলের একাধিক ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকলেও বিএনপির ক্ষেত্রে সে ঝামেলা একেবারেই কম।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরামর্শে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবার স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য একটি দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেটি মেনেই এবার তৃণমূল থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সুপারিশ করা ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র শুধু সই করেছে। ফলে প্রতিবারের মতো এবার বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। তবে আমাদের প্রার্থীরা মাঠে নামতে পারছেন না, প্রচারণাও করতে পারছেন না। অনেক জায়গায় প্রার্থীদের বাড়িতে ও নির্বাচনী অফিসে হামলার খবর পাচ্ছি আমরা। আসলে দেশে এখন নির্বাচন নেই। আছে শুধু নির্বাচন খেলা, এ খেলায় তারাই (সরকারি দল) খেলে, তারাই গোল দেয়। ভোটাররা এখানে দর্শকের ভূমিকা পালন করে মাত্র। তাই নির্বাচন নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই। নির্বাচনী পরিবেশ যেমনই হোক আমাদের প্রার্থীরা মাঠে থাকবেন।’

সারা দেশে বিএনপির প্রার্থীদের ওপর হামলা, প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘চলমান পৌর নির্বাচনও ভোট ডাকাতির আওয়ামী মার্কা নির্বাচন। আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা প্রথম দফা পৌর নির্বাচনে প্রশাসনের সহায়তায় যেভাবে ভোট জালিয়াতি, ভোট ডাকাতি, নির্বাচনের ফল কারচুপি করেছে দ্বিতীয় দফায়ও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত সোমবার গাজীপুর ও ফেনীতে যেভাবে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, কুপিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে জখম করা হয়েছে তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। যেখানে বিএনপির একজন মেয়র প্রার্থী নিরাপদ না সেখানে কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায়? নির্বাচন কমিশন এসব দেখেও মুক ও বধির হয়ে বসে আছে। নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের নীরবতা ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের আরো উৎসাহিত করছে। মূলত বর্তমান নির্বাচন কমিশনই আওয়ামী ভোট ডাকাতির পৃষ্ঠপোষক।’

জানা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে গত রবিবার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দুই দলের ৩৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। প্রার্থীর বসতবাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার জন্য আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করেছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট কাজী খান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত। তাই তার কর্মী-সমর্থকেরা আমার লোকদের ওপর হামলা করেছে। বসতবাড়িসহ আমার নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। আমাকে নির্বাচনী প্রচারণা করতে না দেওয়ার ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।’

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে নৌকার পক্ষে সেøাগান দিয়ে বিএনপির প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএনপির অভিযোগ, ওই সময় বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী এস এম এ ছোবহানসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গত সোমবার টাঙ্গাইলে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন দলের মেয়র পদপ্রার্থী এস এম এ ছোবহান। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, রবিবার সন্ধ্যায় ধনবাড়ীর নওয়াব ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে তিনি নির্বাচনের কেন্দ্র কমিটি গঠনের জন্য যান। এর একটু পরই ৪০ থেকে ৫০ জন লোক নৌকার স্লোগান দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ওই সময় লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেয়র পদপ্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের আহত করে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ধনবাড়ী থানা ও নির্বাচন অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল

বিএনপি,রাজনীতি,পৌরসভা নির্বাচন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়