বাংলার আলোকবর্তিকা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:০৮ | আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:১৮

কাইয়ুম আহমেদ
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল গুলশানের সাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় শিল্পীর আঁকা ছবিতে স্বাক্ষর করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম

‘হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ, তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদ্ঘাটন-সূর্যের মতন। রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন। ব্যক্ত হোক জীবনের জয়, ব্যক্ত হোক তোমামাঝে অসীমের চিরবিস্ময়।’ এই শুভক্ষণ আর কারো নয়, বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে এবং পঁচাত্তর পরবর্তী জাতির কান্ডারি, মানবতার জননী, নির্লোভ, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। বাংলার আলোকবর্তিকা তিনি। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ এখন সমৃদ্ধ-শস্যে, শান্তিতে এবং কল্যাণে। তিনি ছুটে চলেছেন অবিচল লক্ষ্যে। যে লক্ষ্য শুধুই কাজের, উচ্ছ্বাসের, স্বপ্ন দেখার, স্বপ্ন দেখানোর। তিনি উচ্ছ্বাসিত কর্মযজ্ঞের আনন্দে।

আজ দেশরত্ন শেখ হাসিনার দিকেই তাকিয়ে থাকে জাতি। তিনি জাতির শেষ ভরসার স্থল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মতো তিনিও তৃতীয় বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত, মেহনতি মজলুম জনগণের বন্ধু, মানবতার জননী আমাদের পরম শ্রদ্ধা আর ভরসার আশ্রয়স্থল।

গতকাল সোমবার ছিল তার পৃথিবীতে শুভাগমনের মাহেন্দ্রক্ষণ। এ দিন ৭৩ বছর পেরিয়ে ৭৪-এ পা রাখলেন তিনি। এই শুভক্ষণেই জ্বলে উঠল আনন্দ আলো, যে আলো ছড়িয়ে গেল বাঙালি ও বাংলার হৃদয়ে।

এই দিনে তিনি চাননি কোনো আনুষ্ঠানিকতা। মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। দেশকে সোনার বাংলায় রূপ দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার জন্মদিনে দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জনগণের কাছে দোয়া প্রার্থনা করে বলেছেন, আপনাদের দোয়া চাই। যাতে যতদিন বাঁচি যেন সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারি। যেন দেশের মানুষ আমার কাছ থেকে উপকৃত হয়। শান্তির জন্য আজীবন ব্রতী বলেই শুভ্র স্মিত হাসিতে তিনি আমাদের মন ভরিয়ে দেন। আপাদমস্তক বিনয়ী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বললে টের পাওয়া যায় কী ভীষণ দৃঢ়চেতা তিনি। কী বিস্ময়কর তার মানুষকে ভালোবাসার ক্ষমতা। শ্বেত কপোতের মতোই শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি ছোঁয়া ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে দলের হাল ধরেন প্রায় চার দশক আগে। তারপর থেকে জীবন্ত কিংবদন্তি।

চলার পথটা সহজ ছিল না তার। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেই শিকার হয়েছেন হামলার। দেখেছেন হামলার বীভৎস রূপ। ঝড়ঝঞ্ঝা, হামলা মাথায় নিয়েই চষে বেড়িয়েছেন বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। শেখ হাসিনার জন্মের সময় পিতা (কাছে) ছিলেন না। বেড়ে ওঠার সময় পিতা বেশির ভাগ সময় অনুপস্থিত ছিলেন। পিতা তো বেশির ভাগ সময় জেলখানাতে থাকতেন। বিয়ের সময়ও বাবা জেলখানায়। তার পুরো জীবনটা সংগ্রামের, আজো তিনি সংগ্রামের মধ্যেই। অনেকে মনে করেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কোনো ব্যক্তিগত জীবন নেই। সারাক্ষণ দেশ, দল এগুলো নিয়ে ভাবতে হয়, কাজ করতে হয় এবং নানা সমস্যা সামাল দিতে হয়। এখনো তাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এগোতে হচ্ছে।

শেখ হাসিনা ঝড়, বৃষ্টি, আঁধার রাতে সব ঝঞ্ঝা, সংকটে, সংগ্রামে বাঙালি জাতির পাশে ও সঙ্গে থেকেছেন। তাকে ১৯ বার হত্যার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি বার বার মৃত্যু উপত্যকা থেকে ফিরে এসেছেন। কখনো বিচলিত ও দ্বিধান্বিত হননি; বরং আরো প্রত্যয়ী হয়ে মানুষের রুটি-রুজির সংগ্রামের কাফেলাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়ে ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণকারী শেখ হাসিনা তার লক্ষ্য ঠিক করেছেন ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশের কাতারে নেবেন, পূরণ করবেন জাতির জনকের স্বপ্ন। তার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন এখন বিশ্বেও রোল মডেল। তারই নেতৃত্বে বদলে গেছে বাংলাদেশ। এখন গ্রামে শহরের অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। গ্রামে এখন আর কুঁড়েঘর নেই। আকাশ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম চেনা যায় না। ১০ থেকে ১২ বছর আগে যিনি বিদেশে গেছেন, তিনি এসে এখন দেশ, শহর, গ্রাম চিনতে পারেন না। এটিই শেখ হাসিনার বদলে দেওয়া বাংলাদেশ।

পিডিএসও/হেলাল