ফেসবুক লাইভে ঘোষণা দিয়ে প্রবাসীর আত্মহত্যা

স্ত্রী গ্রেফতার

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:২৪ | আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৩৮

​বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের শার্শায় ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে দোষারোপ করে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বিদেশ ফেরত রফিকুল ইসলাম (৩৫)। বৃহস্পতিবার যশোর ২৫০ শষ্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রফিকুল শার্শা উপজেলার নাভারন কাজিরবেড় গ্রামের দিদার আলীর ছেলে।

স্বজনরা জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন রফিকুল। বিদেশ থেকে স্ত্রীর নামে পাঠিয়েছেন প্রায় ১৪ লাখ টাকা। তার ঘরে জন্ম নিয়েছে একটি কন্যা সন্তান। কিন্তু দেশে ফিরে তার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। তাকে ছেড়ে অর্থ ও দামি আসবাবপত্র নিয়ে পরকীয়ায় জড়িয়ে প্রবাসী স্বামীর ঘর ছেড়েছেন একই উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মনিরা ইয়াসমিন। স্ত্রীকে না পেয়ে ক্ষোভে অভিমানে বাড়িতে এসে ফেসবুক লাইভে কয়েকজনকে দায়ী করেন। তাদের নাম স্ট্যাম্পে লিখে বিষ পান করেন রফিকুল। 

স্বজনরা আরও জানান, রফিকুল বিদেশ থেকে ফিরে স্ত্রী-সন্তানকে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। বিভিন্নভাবে মনিরাকে বুঝিয়েও ফেরাতে পারেননি বাড়িতে। পাননি সন্তানের দেখা। এ ব্যথা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন প্রবাসী রফিকুল। 

রফিকুল ইসলাম বিকালে ফেসবুক লাইভে বলেন, আমি আর ১০ মিনিট পরে আত্মহত্যা করবো। আমার বাবাকে বলছি, আমার বালিশের নিচে স্ট্যাম্পে অভিযুক্তদের নাম লেখা আছে, তাদের নামে মামলা করতে। আমি এই লাইভে বলছি, আমার মৃত্যুর জন্য আমার স্ত্রী মনিরা, শাশুড়ি আয়শা আক্তার, খালা রিনা পারভিন, খালু আবদুল, মামা শ্বশুর মিঠু ও যশোরের লাইব্রেরি প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান দায়ী।

দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে সন্তানকে দেখার ও দোয়া করার আকুতি জানিয়ে বিষপান করেন রফিকুল। অভিযুুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়ে যান তিনি। 

স্বজনরা তাকে দ্রুত যশোর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এলে পরিবারের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া। 

এ বিষয়ে তার বোনের স্বামী রেজোয়ানুল ইসলাম সীমান্ত বলেন, রফিকুল স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নিয়ে থানায় গিয়ে স্ত্রীকে অনুরোধ করলেও মনিরা বাড়িতে ফিরে আসেননি।

এ ব্যাপারে যশোরের নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান জানান, রফিকুলের বাবা দিদার আলী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে শার্শা থানায় মামলা করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে মোবাইল ও স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। ফোনে লাইভ ভিডিও ও স্ট্যাম্পের লেখা নিয়ে তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে ভিকটিমের স্ত্রী মনিরাকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হচ্ছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেফতার করা হবে।

পিডিএসও/হেলাল