এস এম রাফি, চিলমারী (কুড়িগ্রাম)

  ০৫ আগস্ট, ২০২২

শেষ রক্ষা হচ্ছে না স্কুল এন্ড কলেজটির

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের নদের অব্যাহত ভাঙনের মুখে নয়ারহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল এন্ড কলেজ। ইতিমধ্যে মুল ভবনটি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলানো হলেও থামানো যাচ্ছে না ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন। প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা করা না গেলে ওই ইউনিয়নের প্রায় ৭ শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। যেকোনো মূল্যে ভাঙন ঠেকানো জরুরী দরকার। তা না হলে প্রতিষ্ঠানসহ ওই এলাকার কয়েকশ পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বেন বলেও জানিয়েছেন তারা।

প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়টির জন্য ওই এলাকায় জায়গা কিনে একটি টিনসেট ঘর করা হয়েছিলো। কিন্তু আকস্মিক ঝড়ে সেটিও দুমড়ে মুচরে যায়। তবে নদী ভাঙন রোধে নানামুখী পদক্ষেপ নিলেও ভাঙনের ঠিক সামনেই ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলোন করছেন বালু দস্যুরা। যার ফলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছেন ওই এলাকার প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকশ বসতবাড়ি।

গত বন্যায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল এন্ড কলেজটির মুল ভবন নদীগর্ভে চলে গেছে। সম্প্রতি এবারও পানি বৃদ্ধির ফলে টিনসেটের অন্য আরেকটি ভবনও নদীতে ভেঙে যায়। এখন ভাঙনের দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটির অপর আরেকটি ভবন। ভাঙন ঠেকানো না গেলে যেকোনো সময় অবশিষ্ট সেই ভবনটিও নদীতে বিলিন হবে। দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল এন্ড কলেজটিতে বর্তমানে ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। শ্রেণি কক্ষের অভাবে ঠিকমতো হচ্ছে না পাঠদান কার্যক্রম। এতে ব্যহত হচ্ছে ওই এলাকার লেখাপড়ার মান। দেখা দিয়েছে বাল্যবিয়ের প্রবনতা।

শিক্ষার্থী আকিবুল, রাসেল জানায়, গতবছর থেকে ভাঙছে স্কুল এন্ড কলেজটি। প্রতিবার বন্যার আগে এবং পরে ভাঙন দেখা দেয়। যার ফলে দুইটি ভবন নদীতে গেছে। এই জন্যে আমাদের ক্লাস করতে সমস্যা হয়। স্কুল সহ আশেপাশের বাড়িগুলোকে রক্ষা করা দরকার।

শাহ্আলম নামে এক অভিভাবক বলেন, নদীতে ভবন ভেঙে যাওয়ার ফলে আপাতত এখানে ক্লাস ঠিকভাবে হচ্ছেনা। যার ফলে দেখা যায় ছেলে মেয়েরা স্কুল যেতে চায় না। এখন ভাঙন একটু কমেছে। তবে হয়তো সামনের বন্যায় এই ভবনটি রক্ষা করা যাবে না।

দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বলেন, এখানে ক্লাস নেওয়া সমস্যা হচ্ছে। আর যেকোনো সময় এই ভবনটিও নদীতে চলে যাবে। প্রতিষ্ঠানটির জন্য জায়গা কিনে ঘর বানাচ্ছি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে হয়তো সেখানে ক্লাস নেওয়া যাবে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান যে ভবনটি আছে সেটি নদীর উপরে আছে। তবে জিও ব্যাগ ফেলানোয় কিছুটা কমেছে ভাঙন। প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নয়ারহাট ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, বর্তমানে ভাঙন কমেছে। তবে এরপর ভাঙন শুরু হলে ভবনটি রক্ষা করা যাবেনা। সাথে ওই এলাকার বাড়িঘরও রক্ষা হবে না। তবে বিদ্যালয়ের ভবনটি যদি নিলামে না দেওয়া হয় তাহলে প্রতিষ্ঠানে ভালো কমিটি করে দিতে হবে যাতে মালামাল নয়ছয় না করতে পারে। শক্তিশালী কমিটির মাধমে বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু তাহের বলেন, আপাদত অবশিষ্ট ভবনটির জানালা খুলে নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। নিলামের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠান রক্ষা করার চেষ্টা চলছে। ভাঙন ঠেকাতে ইতিমধ্যে জিওব্যাগ ফেলানো হয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরেও যদি নির্দেশ না মেনে বালু উত্তোলন করে তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুএকদিনের মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কুড়িগ্রাম,ব্রহ্মপুত্র,দক্ষিণ খাউরিয়া
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close