আবু সাইদ খোকন, আমতলী (বরগুনা)

  ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

স্মার্টফোন আসক্তিতে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

যে বয়সে খেলাধুলা ও বাবা-মায়ের সঙ্গে খুনসুটি নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সে বয়সে শিশুরা আজ বসে আছে স্মার্টফোন নিয়ে।

আমতলী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের চার বছর বয়সী শিশু মো. হাফিজ (ছদ্মনাম)। ঘুম থেকে উঠেই স্মার্টফোনে গেম খেলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে হাফিজ। কার্টুন দেখা তো রয়েছেই, এমনকি তাকে খাওয়াতে গেলেও হাতে স্মার্টফোন তুলে দিতে হয় মায়ের। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে হাফিজের গায়ে হাত তুলেন তিনি। 

হাফিজের মা বলেন, দুই বছর বয়স থেকে হাফিজ স্মার্টফোনের প্রতি আসক্ত হতে শুরু করে। খাবার খেতে চায় না। স্মার্টফোন দিয়ে খাবার খাওয়ানো শুরু করি। এখন দেখছি স্মার্টফোন ছাড়া তার চলে না।  হাফিজের মতোই অবস্থা আমতলী উপজেলার সর্বত্র।  

আমতলী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিবার জানায়, তাদের ১৪ বছর বয়সী ছেলে স্মার্টফোন কিনে দেওয়ার বায়না ধরে। বাধ্য হয়ে তাকে অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনে দিতে হয়। এখন ছেলে সারাদিন স্মার্টফোনে গেম খেলা আর কার্টুন দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। খাওয়া আর গোসল করা নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই তার। বারবার খাওয়ার জন্য ডাকলেও আসে না।

জানা গেছে, করোনাকালে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিশুদের খেলনার তালিকায় প্রথমেই ছিল বাবা-মায়ের স্মার্টফোন। কিন্তু এখন স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি শিশুদের ক্ষতি করছে। চোখের ক্ষতি, মেজাজ খিটমিটে হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে শিশুরা। সব মিলিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অভিভাবকরা। 

১০ বছর বয়সী শিশু নাজমুল ও তার ছোট ভাই কাবিল ঘুম থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে টিকটক ভিডিও নিয়ে। হাতমুখ ধোয়ার আগেই স্মার্টফোনে টিকটক দেখা শুরু করে তারা। তাদের মা চায়না বেগম বলেন, নাজমুল ও  কাবিল  এখন নিজেরা টিকটক ভিডিও তৈরি করছে। ওরা কি করে আমি কিছুই বুঝি না। অবস্থা এমন হয়েছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে স্মার্টফোন হাতে না পেলে তাদের মেজাজ খারাপ  হয়ে যায়। 

আমতলী সরকারী কলেজের (অব.) সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন বিশ্বাস বলেন, স্মার্টফোন ব্যবহারে শিশুদের সুস্থ মনো-সামাজিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা থেকে আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ শিশুদের রক্ষা করতে হবে। পরিবারগুলোকে সচেতন হতে হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
স্মার্টফোন,আমতলী,শিশু
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close