শংকর চৌধুরী, খাগড়াছড়ি

  ০২ আগস্ট, ২০২১

৭ বছরেও শেষ হয়নি শিশুসদনের আবাসিক ভবন নির্মাণ

এক এক করে পেরিয়ে গেছে সাতটি বছর। তবুও শেষ হয়নি প্রজ্ঞাবংশ শিশুসদনের আবাসিক ভবনের নির্মাণ কাজ। উপরে ছাঁদ আর চারপাশে পিলারের স্তম্ভ, ব্যস্ এটুকুতেই থমকে আছে দ্বিতল এই ভবনটি। ইতোমধ্যে ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটলও ধরেছে, ছাদ বেয়ে চুইয়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি। আবাসন সংকটে দুর্ভোগের শেষ নেই অনাথ শিশুদের। সীমাহীন কষ্টে কাটছে তাদের রাত, তবে খবর রাখে না কেউ।  

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের বুলিপাড়ায় রয়েছে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী শাক্যমুণি বৌদ্ধবিহার। এই বিহারের পাশেই ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো প্রজ্ঞাবংশ শিশুসদন। লক্ষ্য ছিলো পাহাড়ি প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনাথ শিশুদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি, নিজ নিজ মাতৃভাষায় এবং ধর্মীয় অনুশাসনে দীক্ষিত করবার। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৯৪ জন অনাথ শিশু শিশুসদনটিতে বেড়ে উঠছে। আর শিশুদের পাঠদানসহ যাবতীয় দেখভালের জন্য অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষসহ নিয়োজিত রয়েছেন ৯ জন ধর্মীয় গুরু।

কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে শিশুসদনটির আবাসিক ভবন নির্মাণে ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে প্রথম ধাপে ৫ লাখ টাকা এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দ্বিতীয় ধাপে ১০ লাখ টাকা প্রাথমিক বরাদ্দ দিয়েছিল খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। কথা ছিলো পরবর্তীতে তৃতীয় ধাপের বরাদ্দের মাধ্যমে পুরোপুরি শেষ করা হবে ভবনটির নির্মাণ কাজ। তবে গত সাত বছরেও সেই বরাদ্দ আর হয়ে ওঠেনি।   

শিশুসদনের আবাসিক শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেশি পড়ুয়া সাথোং মারমা, দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া অংকজাই মারমা, চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া রাহুল ত্রিপুরা ও ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া থোয়াইচিংনু মারমা জানায়, বিহারের বারান্দায় কিংবা খাবার ঘরে গাদাগাদি করে রাত্রিযাপন করতে হয় তাদের।

শিশুসদনের সহকারী পরিচালক উপাধ্যক্ষ অগ্রসার ভিক্ষু বলেন, ‘আবাসিক ভবনটি সম্পন্ন করতে না পারায় শিশুদের রাত্রিযাপনে বেশ অসুবিধা হচ্ছে। যে ঘরে খায়, সে ঘরেই ঘুমোতে হয় তাদের। জায়গা সংকুলান না হওয়াতে অনেকে আবার বারান্দাতেই নিদ্রাপাতে। বর্ষা মৌসুমে তাদের কষ্ট বাড়ে।’ 

শিশুসদনের পরিচালনা কমিটির দপ্তর সম্পাদক সুইচিংমং মারমা (ইন্দ্রবংশ) বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে অনাথ শিশুরা এভাবেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। বরাদ্দের জন্য প্রতিবছরই খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে আবেদন করা হয়। তবে তাতে কোনো লাভ হয় না।’

শিশুসদনটির প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ প্রজ্ঞাবংশ মহাথের বলেন, ‘২০০৭ সালে টিনের চালার বেড়ার ঘরে শুরু হয় শিশুসদনটির কার্যক্রম। সময়ের ব্যবধানে এটি এখন একটি আলোকিত ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে। তবে কেবলমাত্র আবাসনের অসুবিধার কারণে অনাথ শিশুরা এখানে থাকতে আগ্রহ হারাচ্ছে।’

এছাড়া শিশুসদনটির অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণে এবং অনাথ শিশুদের দুর্ভোগ লাঘবে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নবোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই ধর্মীয় গুরু।

এদিকে ২০১৬ সালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর কাছে আবেদন করা হয়। তিনি তখন জানিয়েছিলেন, পরবর্তী অর্থবছরে শিশুসদনটির অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণের জন্য বরাদ্দ দেবেন। অথচ তার মেয়াদে কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি শিশুসদনটির জন্য। এরইমধ্যে ২০২১ সালের শুরুর দিকে পরিষদের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। বর্তমানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত আছেন মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু। 

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু বলেন, ‘শিশুসদনটিতে বরাদ্দ কবে দেয়া হয়েছিলো তা আমি অবগত নই। আমি দায়িত্বভার গ্রহণের পর কেউ কোনো আবেদনও করেননি। তবে খোঁজখবর নিয়ে প্রকল্প প্রণয়নের সময় বিষয়টি বিবেচনা করবো।’

পিডিএসও/ জিজাক

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
খাগড়াছড়ি,শিশুসদন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close