ক্ষেতলাল (জয়পুরাট) প্রতিনিধি

  ৩১ জুলাই, ২০২১

গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ : স্বামী গ্রেপ্তার

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গৃহবধূর শরীরে আগুন দিয়ে বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার।

জানা গেছে, জয়পুরহাটের বানিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুস সবুর সরদার তার মেয়ে মঞ্জিলা খাতুনকে (২৮)  পাঁচ বছর পূর্বে ক্ষেতলাল উপজেলার রোয়াইর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে শারফুল ইসলাম রনির (৩২)  সাথে বিয়ে দেন।

মঞ্জিলার বাবার দাবি বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে জামাই কারণে-অকারণে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করেন। একাধিকবার সতর্ক করার পরও তার জামাই এমন আচরণ করতে থাকেন। সোমবার দুপুর ১টায় তুচ্ছ এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঞ্জিলাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘরের দরজা বন্ধ করে শারীরিক নির্যাতন করে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন স্বামী। আর্ত চিৎকার শুনে রনির বড় ভাই আরিফুল ইসলাম ও একই গ্রামের মীর বক্স এর ছেলে খয়বর আলী ছুটে এসে ঘরের দরজা ভেঙে মঞ্জিলাকে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে তার কোমর থেকে মুখ পর্যন্ত ও দুই হাত পুড়ে যায়। প্রতিবেশীরা দ্রুত তাকে শহীদ জিয়াউর মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিউটে স্থানান্তর করেন।

এবিষয়ে মঞ্জিলার বাবা বাদী হয়ে স্বামী শারফুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে ক্ষেতলাল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত রনির কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন, ঈদ পরবর্তীতে জামাই শারফুল ইসলাম রনি শ্বশুর-শাশুড়িকে তার বাড়িতে আসার জন্য দাওয়াত করেন। তাদের মধ্যে জমি কটকবলা ও টাকা পয়সা লেনদেন বিষয় নিয়ে মনমালিন্য হওয়ায়, তারা জামাইয়ের বাড়িতে আসেন নি। এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাটি হয়। এক পর্যায়ে গৃহবধূর আত্মচিৎকার ও ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে আমরা ছুটে গিয়ে দরজা ভেঙে শরীর পুড়ে যাওয়া মন্জিলাকে উদ্ধার করি।

ক্ষেতলাল থানার ওসি নীরেন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, এবিষয়ে মেয়ের বাবা থানায় একটি মামলা করেছেন।  আমরা ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে আসামিকে আটক করেছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে বিজ্ঞ আদালত মঞ্জুর করেছেন।

পিডিএসও/ জিজাক

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ক্ষেতলাল,পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা,আগুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close