ইয়াকুব আলী, চৌগাছা (যশোর)

  ১২ এপ্রিল, ২০২১

সরকারের রাজস্ব ক্ষতি

চৌগাছায় পশুহাট নিয়ে চলছে টানা হেঁচড়া

দীর্ঘদিন ধরে যশোরের চৌগাছার ঐতিহ্যবাহি পশুহাট নিয়ে পাশ্ববর্র্তী ঝিনাইদাহের মহেশপুর উপজেলার কতিপয় ব্যাক্তি টানা হেঁচড়া করে আসছে। এ পশুহাটের উপর তারা একের পর মামলা করছেন। ফলে এ পশুহাটের নির্ধারিত ইজারর সময় উত্তীর্ণ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইজারা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রতিবছর সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব লোকসান হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ পশুহাটটি উচ্ছেদের জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করা হলেও পৌর মেয়রের সার্বিক প্রচেষ্টায় এখনও বহাল রয়েছে। 

জানা গেছে, ১৯৭৭ সালে থানা গঠনের পর হতে পশুহাটটি চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কের পাশে সরকারি ভূমি অফিসের জমিতে বসত। সময়ের ব্যবধানে উপজেলার পরিধি বেড়েছে। এর আগে থেকেই এ উপজেলার একমাত্র পশুহাটটি চলে আসছে।  

সম্প্রতি ভূমি অফিসের জমি সংকট দেখা দিলে পৌর কর্তৃপক্ষ পশুহাটটি স্থানান্তরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই মোতাবেক পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে চৌগাছা-মহশেপুর সড়কে কংশারীপুর ঋষিপাড়া সংলগ্ন জমি ক্রয় করে পশুহাট সেখানে স্থানান্তর করেন। শিল্প কলকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বোপরি সকল মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পৌর কর্তৃপক্ষ পশুহাট শুক্র ও সোমবারের পরিবর্তে রোববার ও বুধবার দিন ধার্য করেন। কিন্তু এতেই বাঁধসাধে পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পশুহাট মালিকরা। 

মহেশপুরে ৫টি পশু হাট থাকা সত্বেও তারা চৌগাছার একমাত্র পশুহাটটি উচ্ছেদের জন্য নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন বলে জানান এলাকাবাসী ও গরু ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, নানাবিধ চক্রান্তে সফল না হয়ে তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। তারপরও পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেলের নেতৃত্বে চৌগাছার আপামর জনতা হাটকে ফিরে পেতে নিরলসভাবে কাজ করেন। 

চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনের সংসদ সদস্যের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় পুনরায় পশুহাটটি কংশারীপুর নতুন স্থানেই চলতে থাকে। পশুহাটের সাথে সম্পৃক্ত সামাউল ইসলাম, আজগার আলী, আবু কালাম, রিপন হোসেন, মহিদুল ইসলাম, হাফিজুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, পাশ্ববর্র্তী ঝিনাইদাহ জেলার মহেশপুর উপজেলার কতিপয় ব্যক্তি এ পশুহাটটি নিয়ে টানা হেঁচড়া করে আসছে।

ফলে এ পশুহাটের নির্ধরিত ইজার সময় উত্তীর্ণ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ইজারা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকারের প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার রাজস্ব লোকসান হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ পশুহাটটি উচ্ছেদের জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করা হলেও পৌর মেয়রের সার্বিক প্রচেষ্টায় এখনও বহাল রয়েছে। তারা এক জেলার বাসিন্দা আমরা আরেক জেলার। তাদের উপজেলাতে পাঁচটি পশুহাট, সেখানে চৌগাছাতে মাত্র পশুহাট আছে। আমরা আমাদের সুবিধা মত কোন দিনে হাট চালাবো সেটি সম্পূর্ণ আমাদের ব্যাপার। অথচ দিন নিয়ে তারা বারংবার আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছে। আমরা তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। 

এ বিষয়ে পশুহাটের সাবেক ইজারাদার ডাবলু দেওয়ান বলেন, পশুহাটটি আমাদের এলাকার গরু ব্যবসায়ীদের প্রধানতম হাট। এই হাটে অর্ধশত মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয়। কিন্তু আদালতে মামলার কারণে দুই বছর ধরে হাট ইজারা বন্ধ। আমরাও বেশ কষ্টে আছি।

পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল বলেন, আমরা চৌগাছাবাসীর কথা বিবেচনা করে পশুহাট স্থানান্তর ও দিন পরিবর্তন করেছি। এটা তো আমাদের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু এতে পাশ্ববর্তী মহেশপুরের কতিপয় ব্যক্তি চরম বিরোধীতা করে আসছে। তারা একের পর এক মামলা করে হাট ইজারা বন্ধ করে রেখেছে। চৌগাছায় যেহেতু একটি মাত্র পশুহাট। তাই এই হাট কিভাবে চলবে তা শুধুমাত্র চৌগাছাবাসী নির্র্ধারণ করবে। তিনি আরও বলেন, মহামান্য আদালত বিষয়টি বিবেচনাপূর্বক পশুহাটের উপর যত মামলা আছে তা দ্রুত মীমাংসা করে হাটটি ইজারার ব্যবস্থা করবেন।

পিডিএসও/এসএম শামীম

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
চৌগাছা,পশুহাট
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close