রংপুর ব্যুরো

  ২৪ জানুয়ারি, ২০২১

রংপুরে মরা তিস্তা নদী পুনঃখনন কাজ শুরু

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোহাম্মদ আহসানুল হক চৌধুরী (ডিউক) বলেছেন, এই প্রকল্পের আওতায় বিএমডিএ, বদরগঞ্জ উপজেলায় ৩৮কিলোমিটার খাল ৩টি বিল, ১৩টি পুকুর পুনঃ খনন ও ৩শ’ জন কৃষককে আধুনিক চাষাবাদ ও কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।

এছাড়া খালে পানি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ক্রসড্যাম নির্মাণ ও জনগনের পারাপারের জন্য ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। খননকৃত খাল, বিল ও পুকুরের ধারে ৬৭ হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধী বৃক্ষরোপন করা হবে, যা অতিরিক্ত বনজ সম্পদ সৃষ্টি, পরিবেশ উন্নয়ন ও পুষ্টিমান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

রোববার দুপুরে মরা তিস্তা নদী পুনঃ খনন কাজের উদ্বোধন কালে তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, ভূ-পরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার মরা তিস্তা নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। পৌনে ৪ কিলোমিটার  দীর্ঘ এই খাল খননে ব্যায় হবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। 

এসময় বিএমডিএ রংপুর সার্কেলের ইআইআরপি প্রকল্প পরিচালক হাবিবুর রহমান খান জানান, খাল বিল ও পুকুর পুনঃখনন করা হলে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম হবে, জলাবদ্ধ জমি সমুহ কৃষি উপযোগী হয়ে উঠবে, সঞ্চিত পানি সেচ কাজের পাশাপাশি হাঁস চাষ, মৎস্য চাষ ও গৃহস্থলী কাজে ব্যবহার করা যাবে। ফলে ভু-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে ও ভু-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে। এর মাধ্যমে প্রতি কিলোমিটার  খালের পানিতে প্রায় এক হাজার একর জমিতে সম্পুরক সেচ প্রদান করা সম্ভব হবে। 

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি সুইট, বদরগঞ্জ পৌরসভা মেয়র আহসানুল হক চৌধুরী টুটুল, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের ইআইআরপি প্রকল্প পরিচালক এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান খান, বিএমডিএ রংপুর সার্কেলের নির্বাহী প্রকৗশলী মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় ‘ভূ-পরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বৃহত্তর রংপুরর ৫ জেলার (রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা) ৩৫টি উপজেলায় খাল, বিল পুকুর পুনঃখনন কাজ, এলএলপি স্থাপন, পাতকুয়া স্থাপন, ফুট ওভার ব্রিজ, ক্রসড্যাম নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ কাজ করা হবে। এর মজুদকৃত পানি ভু-গর্ভস্থ পানির স্তর পুর্নভরনে অগ্রনী ভুমিকা রাখবে।

এছাড়া চলতি অর্থবছরে  এই প্রকল্পের আওতায় ২০ কিলোমিটার খাল, ৩টি বিল, ১০টি পুকুর, ১০টি সৌরশক্তি চালিত এলএলপি, ১০ টি বিদ্যূৎ চালিত এলএলপি, ১০টি সৌরশক্তি চালিত পাতকুয়া স্থাপন এবং ৩১ হাজার বৃক্ষরোপনের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।  

পিডিএসও/এসএম শামীম

 

রংপুর,তিস্তা নদী,পুনঃখনন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close