ইবি প্রতিনিধি

  ১৫ মে, ২০২৪

তিন বন্ধুর আমেরিকা জয়

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে পরিচয়। কথায়-আড্ডায় প্রকাশ হয় তিনজনেরই আগ্রহ গবেষণা ও উদ্ভাবনী। তখন থেকেই বন্ধুত্ব নাঈম হোসেন, মামুনুর রশিদ ও সুমন আলীর।

তারা একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি শুরু করেন গবেষণার কাজ। গবেষণা করলেও পড়াশোনায় রাখেননি কোনো কমতি। কাকতালীয়ভাবে তিনজনের বিবিএ ও এমবিএ রেজাল্টও আসে এক।

রেজাল্টের মতো এবার একসঙ্গে পেয়ে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ। বলছিলাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন, মামুনুর রশিদ ও সুমন আলীর আমেরিকা জয়ের গল্প। ফুল ফান্ডেট স্কলারশিপ নিয়ে তিন বন্ধুর মধ্যে নাঈম হোসেন ফিন্যান্সিয়াল ইকোনোমিকস বিষয়ে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ওরল্যান্সে। এছাড়াও ফিন্যান্স বিষয়ে মামুনুর রশিদ এবং সুমন আলী পেয়েছেন যথাক্রমে সান আন্টোনিওর ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস ও এল পাসোর ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসে।

নাঈম, মামুনুর ও সুমনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিবিএ তৃতীয় বর্ষে থাকাকালীন সময়ে ২০২০ সালের শুরুর দিকে হাসান’স রিসার্চ ল্যাব নামে একটি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হন তারা। এর পরেই গবেষণার কাজ শুরু করেন তারা। এসময় নাঈম ও মামুনুর বিশ্ববিদ্যালয়ের লালনশাহ্ থাকলেও সুমন শহীদ জিয়াউর রহমান হলে থাকতেন। এজন্য গবেষণাগুলো লালনশাহ্ হলের কমন রুমেই করা হতো। পরে করোনাকালীন সময়ে গবেষণার বেসিক বিষয়গুলো শেখার পর তিন বন্ধু আলাদাভাবে কাজ শুরু করে দেন। এর মধ্যেই বিভিন্ন জার্নালে নাঈমের ৭টি, মামুনের ১০টি ও সুমনের ৬টি গবেষণা প্রকাশনা হয়েছে। এছাড়াও তাদের প্রত্যেকেরই কিছু পেপারস প্রসেসিংয়ে আছে। এই গবেষণাগুলোই তাদের ফুল ফান্ডেটে স্কলারশিপ পেতে সুযোগ করে দিয়েছে।

মামুনুর বলেন, প্রথম বর্ষ থেকেই দেখতাম আমাদের বিভাগের ড. মো. বখতিয়ার হাসান স্যার গবেষণার কাজে যথেষ্ট সক্রিয়। তখন থেকেই আমরা তিনজন স্যারের সাথে ভালো একটা সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেছিলাম। স্যার আমাদের আগ্রহ দেখে সাদরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে স্কলারশিপ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, গবেষণায় সফলতা কিছুটা পাবার পর আমরা আইএলটিএস এবং জিআরই-এর দিকে ফোকাস দেই। প্রথমে আমরা ঠিক করি আইএলটিএস দিবো।

নাঈম বলেন, সেসময় জিআরই পরীক্ষা ফি ছিলো প্রায় ২৫০০০ টাকা। দ্বিতীয়বার পরীক্ষার টাকা ম্যানেজ করাও কঠিন ছিল। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের ২৭ তারিখে দ্বিতীয়বারের জিআরই পরীক্ষায় বসে সুমন। এবার সে তার কাক্সিক্ষত স্কোর ৩১৪ পেয়ে যায়। সেটা দেখে আমি আর মামুনুর খুবই মোটিভেশন পেলাম। সুমন যেহেতু পেরেছে। আমরাও পারবো।

তিনি বলেন, তারপর মামুনুর পরীক্ষায় বসে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের ১৬ তারিখে। আল্লাহর রহমতে সেও তার কাক্সিক্ষত স্কোর ৩০৬ পেয়ে যায়। অন্যান্য ডকুমেন্টস রেডি করে অনলাইনে আবেদন শুরু করে মামুনুর আর সুমন।

ব্যবসায় ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে যাঁরা উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চায় তাদের জন্য কি পরামর্শ থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমেরিকার বিজনেস পিএইচডি প্রোগ্রামগুলো খুবই প্রতিযোগিতাপূর্ণ। তারমধ্যে ফাইন্যান্স প্রোগ্রাম আরও বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ। মাত্র ২-৩ জন স্টুডেন্ট ভর্তি করায় প্রত্যেক বছরে। তাই আইইএলটিএস স্কোরের ক্ষেত্রে ৭ ব্যান্ড তোলার চেষ্টা থাকতে হবে। তবে জিআরইর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বিজনেস ফ্যাকাল্টিতে এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এখানে ৩১০ এর মতো স্কোর তুলতে পারলে যেকোনো পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।

তিন ছাত্রের সাফল্যে গর্বিত তাদের ল্যাব সুপারভাইজার ও ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বখতিয়ার হাসান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যবসায় শাখার দিকটি অনেক পিছিয়ে আছে। তার যখন আমার কাছে প্রথম আসছিলো গবেষণার বিষয়ে তাদের আগ্রহ ও চেষ্টা দেখে না বলতে পারিনি। আমি শুধু তাদের পরার্মশ ও গাইডলাইন দিয়েছি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close