জাহিদুল হক মনির, শেরপুর প্রতিনিধি

  ২৬ নভেম্বর, ২০২০

হারিয়ে যাওয়া উঠান ঢেঁকি শেরপুরের বিয়ে বাড়িতে

গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য উঠান ঢেঁকি আজ হারাতে বসেছে। কয়েক বছর আগেও গ্রামবাংলার প্রতিটি পরিবারের মা ও বোনদের উঠানে বা বাড়ির আঙ্গিনায় জাতা বা ঢেঁকি দ্বারা পাড় দিয়ে ধান ভানতো। কিন্তু এখন ধান ভানার প্রচলন আর নেই বললেই চলে। উঠান ঢেঁকিতে শুধু ধান মাড়াই নয়, হলুদ-মরিচ সহ বিভিন্ন মশলাও গুঁড়া করা হতো।

এ উঠান ঢেঁকিতে একজন দাড়িয়েই ধান মাড়াই করতে পারতো। এই ঢেঁকি ছোট আকারের তৈরি করে সেটি দিয়ে পান বা বিভিন্ন মসলা গুঁড়া করার কাজও হতো।  এটি ‘হাম্বল দিস্তা’ নামেও পরিচিত। তবে হাম্বল দিস্তাটি একটু বড় এবং এর লাঠিটি একটু লম্বা হতো। যাতে মেয়েরা দাড়িয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

এরপর একটু আধুনিক ছোঁয়ায় আসে পাত ঢেঁকি বা পা দিয়ে ব্যবহার করা ঢেঁকি। বর্তমানে উঠান ও পাত ঢেঁকি উভয় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যদিও গ্রামে-গঞ্জে কোন কোন স্থানে পাত ঢেঁকি বা পা দিয়ে মাড়াই করা ঢেঁকি দেখতে পাওয়া যায়। তবে তা খুবই বিরল। আধুনিক মাড়াই যন্ত্রের ভীরে ওইসব প্রাচীনকালের মাড়াই যন্ত্র বিলুপ্তির তালিকায় রয়েছে।

তবে উঠান ঢেঁকি সম্প্রতি শেরপুর জেলা শহরের রঘুনাথ বাজার এলাকায় একটি হিন্দু বাড়িতে দেখা গেছে। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের জন্য হলুদ বাটার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়েছে। এসময় গাঁয়ে হলুদ দিতে আসা নারীরা আনন্দের সঙ্গে  হলুদ গুঁড়া করে বরের হলুদ অনুষ্ঠান পালন করেন।

বরের বড় ভাই পরিবহন ব্যবসায়ী শুভ্র রায় জানায়, আধুনিক যুগে ঢেঁকির প্রচলন না থাকলেও আমার বাড়ির মেয়েরা অনেক খুঁজে পাত ঢেঁকি না পেয়ে ওই উঠান ঢেঁকি বা হাম্বল দিস্তাটি সংগ্রহ করেছে। এতে বিয়ে বাড়িতে বাড়তি আনন্দের যোগ হয়েছে। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় আমরা আজ আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাপ-দাদাদের প্রথা বা রীতিনীতি হারিয়েই ফেলছি। তাই কিছুটা হলেও সেই পুরোনো কৃষ্টি পালনে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পিডিএসও/ জিজাক

শেরপুর,বিয়ে বাড়ি,হারিয়ে যাওয়া,উঠান ঢেঁকি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়