লালমনিরহাটে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় ৩ মামলা

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২০, ২০:৪৪

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে আবু ইউনুস মো. শহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্তের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি গঠনের পর শনিবার বিকেলে লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল ওয়াহাব ভূঞা।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার দুদিন পর এ ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। শনিবার রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল ওয়াহাব ভূঞা ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় ডিআইজি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এরমধ্যে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি, বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে একটি এবং পুলিশ বাদী হয়ে অপর মামলাটি দায়ের করে।

বৃহস্পতিবার শহিদুন্নবী জুয়েল নামের ওই ব্যক্তিকে তুচ্ছ ঘটনায় একটি মসজিদের ভেতর থেকে বের করে এনে মারধর করার পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হলেও সেখান থেকে উত্তেজিত জনতা বের করে এনে পিটিয়ে হত্যার পর তার মরদেহ পুড়িয়ে দেয়। স্থানীয় ইউএনও এবং থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে চেষ্টা করেও তাদের থামাতে ব্যর্থ হন। বিক্ষুব্ধ জনতা তাদেরও ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম নওয়াজ নিশাত বাদী হয়ে যে মামলাটি দায়ের করেছেন তাতে ২২ জনের নাম এজাহারে উল্লেখ এবং আরো অজ্ঞাত ৫শ থেকে ৬শ জনকে আসামি করা হয়েছে। তার মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে হামিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে। ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং ওই ব্যক্তিকে মারধর করছিলেন। তার বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। এই তিনটি মামলার ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৫ জনকে আটক করলেও তদন্তের খাতিরে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

এছাড়াও এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। পাটগ্রাম থানার ওসি এম শাহজাহান আলী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশের মামলায় আসামিদের সংখ্যা এখনো বলা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলাটিতেও আসামির সংখ্যা এখনো জানা সম্ভব হয়নি।

পিডিএসও/এসএম শামীম