৩ বার্তা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:৩৪

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অনিয়ম রোধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স এই তিন বার্তাকে সামনে রেখে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশের নতুন মিশন। কক্সবাজার জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান পিপিএম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মেজর (অবঃ) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের পর ইমেজ সংকটে পড়া পুরো কক্সবাজার জেলা পুলিশ নতুন আঙ্গিকে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে যাত্রা শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে নতুন করে কক্সবাজারের ৮টি থানা, তদন্ত কেন্দ্র, ফাঁড়িসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে ১৩৯ এসআই, ৯২ জন এএসআই, ১ হাজার ৫৫ জন নায়েক ও কনস্টেবলকে ইতোমধ্যে পদায়ন করা হয়েছে। ইতোপূর্বে কক্সবাজার জেলা থেকে ১ হাজার ৩৪৭ জন পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়।

১৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম বারকে রাজশাহীর পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়। ঝিনাইদহের এসপি মো. হাসানুজ্জামান পিপিএমকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার পদে পদায়ন করা হয়। নবাগত এসপি মো. হাসানুজ্জামান পিপিএম গত বুধবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার এসপি মাসুদ হোসেন কক্সবাজার থেকে বিদায় নেন। ২১ সেপ্টেম্বর বদলি করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ জেলার অপর ৭ শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

কক্সবাজারের নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, এটি নিয়মিত বদলির অংশ। কক্সবাজার জেলার পুরোটা পুলিশে পরিবর্তন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বদলি হওয়া সদস্য ছাড়পত্র নিয়েছে এবং নিয়োগকৃতরা যোগদান করছে। িতিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অনিয়ম রোধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স এই তিন বার্তাকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশের নতুন মিশন।

এসপি বলেন, ইমেজ সংকটে পড়া জেলা পুলিশকে ঢেলে সাজানোর পরই শুরু হবে ইয়াবা বিরোধী বিশেষ অভিযান। এ অভিযানকালে কোনো পুলিশ সদস্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার পরিণতি কী হতে পারে এ ব্যাপারে বিশেষ ব্রিফ দেওয়া হচ্ছে কক্সবাজারে যোগ দেওয়া নতুন পুলিশ সদস্যদেরকে।

পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, যেসব পুলিশ সদস্যকে কক্সবাজার জেলা থেকে পুলিশের অন্য ইউনিটে বদলি করা হয়েছে, তাদের একটি বড় অংশই ঘুরেফিরে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি, তদন্তকেন্দ্র, গোয়েন্দা পুলিশসহ বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকায় তাদের কেউ কেউ নানা ধরনের বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকায় ইয়াবা কারবারিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধীচক্রের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে উঠেছিল। যে কারণে এ সম্পর্কের সুতা কেটে দিতেই পুলিশ সদর দপ্তর কক্সবাজার জেলা থেকে সব পুলিশকে বদলির সিদ্ধান্ত নেয়, যেন নতুন আঙ্গিকে জেলা পুলিশকে ঢেলে সাজিয়ে ইয়াবা বিরোধী বিশেষ অভিযান নতুনরূপে শুরু করা যায়।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালে দেশে মাদকবিরোধী যে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছিল, তার সূচনা করে র‌্যাব। তখন পুলিশের বর্তমান আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ র‌্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় র‌্যাবও কক্সবাজার জেলায় ইয়াবা বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। র‌্যাবের হাতে ধরাশায়ী হয় বেশকিছু বড় ইয়াবাকারবারি। যে কারণে কক্সবাজারের ওপর বর্তমান আইজিপি বিশেষ নজর দিয়েছেন।

পিডিএসও/এসএম শামীম