দুর্গাপুরে করোনা-বন্যার থাবায় বিপর্যস্ত বালুমহাল

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:২৪

কলিহাসান, দুর্গাপুর

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে করোনা মহামারির প্রার্দূভাব ও সোমেশ্বরী নদীতে ঘনঘন বন্যার পানিতে বিরিশিরি হতে কেরণখলা ৩নং বালুমহালের ইজারাদার কর্তৃপক্ষ চরম অর্থনৈতিক দৈন্যদশার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে ওই বালুমহাল সরেজমিন ঘুরে এ দূর্দশার করুণ চিত্র দেখা গেছে।

দিনভর নদীতে অসংখ্য ড্রেজারের মালিক, শ্রমিক কর্মহীন অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। বালু বিক্রি করতে না পেরে ১-২ শত ড্রেজার শ্রমিক বিকল্প কর্মের সন্ধ্যান খুঁজছেন। সংসারের হাল ধরতে অনেক ড্রেজার মালিক, অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন তাদের ড্রেজার।

এদিকে চরম বিপাকে পড়েছেন বালুমহালের ইজারাদার ঝুলন সাহা ও অংশীদারিত্বরা। আর্থিক ক্ষতি পোষাতে বালুমহালের ইজারা সংশ্লিস্ট ব্যক্তি ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী ইজারাদার ঝুলন সাহা। সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও,চরম ভোগান্তিতে রয়েছে ইজারাদার। ভারী যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত রাস্তা, করোনার প্রাদুর্ভাব ও ঘনঘন বন্যার পানি কোটি কোটি টাকা ক্ষতির কারণ বলে শঙ্কা করছেন সচেতনমহল।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পৌরশহরের বিরিশিরি ব্রিজ থেকে কেরণখলা কেয়াঘাট থেকে ৩নং বালু মহালটি ১৪২৭-১৪২৮ খ্রিঃ এক বছরের জন্য ইজারা নেন ঝুলন কুমার সাহা। এ বছর ওই বালু মহালটির ইজারামূল্য ১২ কোটি ৪ লক্ষ টাকা। ভ্যাটসহ সর্বসাক্যুল্যে ইজারা মূল্য পড়েছে ১৪ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা। গত অর্থবছরের অধীকমূল্যে এ মহালটি থেকে রাজস্ব পায় সরকার।

সীমান্ত ঘেঁষা সুসং দুর্গাপুরে বেশ কয়েক বছর ধরে বালু মহাল ইজারা নিয়ে ব্যবসা করছেন স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীরা। এতে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছে। তবে এ বছর করোনার কারণে বালু বিক্রির পিক আওয়ার লকডাউনের কারণে বালু মহালটি বন্ধ হয়ে যায়। লক ডাউন শেষে বালু মহাল পুনরায় চালু হলেও একদিকে করোনার প্রভাব।

অন্যদিকে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত হওয়া ও আবাসন খাতে স্থবিরতা নেমে আসায় ওই বালু মহালের ইজারাদার বালু বিক্রি করতে পারছে না। ১৯৮৮ সালের পর দীর্ঘ ৩২ বছরের মধ্যে এ বছরই ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। দেশের অধিকাংশ জেলায় বন্যার পানির কারণে আবাসনসহ উন্নয়ন মূলক কাজে গতি না থাকায় বালু ব্যবসায়ীরা বালু বিক্রি করতে না পেরে চরম বেকায়দায় ও অর্থ সংকটে পড়েছে। তাদের ইজারামূল্য তো দূরের কথা আসলের এক চতুর্থাংশ টাকা ফেরত আসবে কিনা তা নিয়েও উদ্বিগ্নে রয়েছেন ৩নং বালামহালের ইজারাদার ঝুলন কুমার সাহা। 

ড্রেজার মালিক আবুল কালাম, আশিকুল, মানিক মিয়া, আব্দুল হালিম এ প্রতিবেদককে জানান, করোনাভাইরাসের প্রভাবে ৩নং বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন করলে দিনের পর দিন অপক্ষো করেও বালবাহী ট্রাক, ট্রাক্টর, মিনি ড্রাম ট্রাক না আসায় বিক্রি করতে পারছিনা। বালু উত্তোলনে খরচের তেল ধার দেনা করে দিচ্ছি। এভাবে কতদিন চলবো। দুদিন পরপর নদীতে পানি এসে যায়। অনেকে ড্রেজার মেশিন পানিতে ভেসে নিয়ে যায়।

৩নং বালুমহালের ইজারাদার ঝুলন কুমার সাহা কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রতিবেদককে জানান, আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। স্থানীয় বেশকজন অংশীদার নিয়ে ওই বালুমহালটি এক বছরের জন্য ইজারা নেই। দায়িত্ব হাতে নেয়ার পূর্বেই করোনা মহামারি আকারে রুপ নেয়। সকল ধরনের ভারী যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। ‘মরার উপর খারার ঘা’ দুদিন পর পর সোমেশ্বরী নদীতে তৈ তৈ বন্যার পানি। অনেকের পানিতে তলিয়ে যায় অসংখ্য ড্রেজার। করোনা আমাদের সব শেষ করে ফেলছে। কি করব ভেবেই পাচ্ছি না। ট্রাক আসেনা বালু বিক্রি করতে পারছি না। কি করব দিশেহারা হয়ে গেছি।

তিনি বলেন, একদিকে বালু বিক্রি করতে পারছিনা অন্যদিকে শেয়ার হোল্ডারদের প্রচন্ড চাপে ভোগছি। ইজারা মূল্যের চাইতে কয়েক গুন বেশি দামে বালুমহালটি ইজারা নিলেও এখন চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছি। এ ব্যাপারে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষসহ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা কামনা করছি। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা খানম প্রতিবেদককে জানান, ‘যথাযথ নীতমালা অনুসরণ করেই সরকার ৩নং বালুমহালটি একবছরের জন্য ইজারা দিয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রভাব সারাবিশ্বেই ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। তবে এসব ক্ষতি পুষিয়ে দেয়া না দেওয়া সরকারের ব্যাপার’। আর বন্যার পানি তো একটা প্রাকৃতিক বিপর্যয় বটে। এটা প্রতিবছরই বেশ কয়েকবার হয়ে থাকে। 

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কাজি আব্দুর রহমান জানান, করোনার প্রভাব সব ক্ষেত্রেই পড়েছে। তবে সরকারের সিদ্ধান্তের উপর সব নির্ভর করছে।

পিডিএসও/এসএম শামীম