দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

  ০২ ডিসেম্বর, ২০২০

খেতে খড় বিছিয়ে রসুন আবাদ

কোনো চাষ ছাড়াই কাদার মধ্যে মসলাজাতীয় ফসল উৎপাদন করছেন রাজশাহীর দুর্গাপুরের কৃষক। বিনা চাষে রসুন আবাদ কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখন কৃষক বিনা চাষে রসুন উৎপাদনে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কৃষি অফিসও তাদের দিচ্ছে বিনা চাষে রসুন উৎপাদনে নানা পরামর্শ।

২০১৯ সালে দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের মৃত সামাদের ছেলে সজিব উদ্দিন ৪০ শতাংশ জমিতে বিনা চাষে রসুন আবাদ শুরু করেন। তার এ অভিনব চাষাবাদ দেখে এলাকার অনেক কৃষক তার পরামর্শ নিয়ে বিনা চাষে রসুন উৎপাদনে ঝুঁকে পড়ছেন। চলতি মৌসুমে ওই এলাকার প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন কৃষক বিনা চাষে রসুনের আবাদ করেন।

------
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর বলছে, দুর্গাপুরে হঠাৎ করেই বিনা চাষে রসুনের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, এ উপজেলায় রসুন চাষও বেড়ে চলেছে। এমনকি বিগত দিনের চেয়ে বিনা চাষে রসুনের আবাদে বাম্পার ফলন হচ্ছে। এতে যেমন কৃষক লাভবান হচ্ছেন; তেমনি কৃষিবিভাগেরও উন্নয়ন ঘটছে। চলতি বছরে বিনা চাষে ২৫০ হেক্টর ও চাষে ৯০ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হচ্ছে। তবে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সময় আরো দুই সপ্তাহ রোপণের মেয়াদ রয়েছে। ফলে আরো ১০০-২০০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হবে। এরমধ্যে বিনা চাষে বেশি জমি রসুন চাষের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা যায়।

কৃষক সজিব উদ্দিন জানান, ২০১৮ সালে পাবনায় এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে ওই আত্মীয়র বিনা চাষে রসুন উৎপাদন দেখে তার মধ্যে আগ্রহ জাগে। তিনি বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরই জমিতে পানি সরে যাওয়ার পর কাদার মধ্যে ৪০ শতাংশ জমিতে বিনা চাষে রসুন বপন করেন। ওই রসুন খেতে খড় বিছিয়ে দেন। দুটি সেচ দেওয়ার ফলে ওই খড় পচে মাটিতে মিশে যায়। এতে সার ও কীটনাশক কম লাগে। তার এ পদ্ধতি দেখে অনেক কৃষক নানা কথা বললেও ওই জমিতে উৎপাদিত রসুন প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিক্রি করেন তিনি। এ বছর ৫০ শতাংশ জমিতে রসুন চাষ করেছেন।

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, আবহাওয়ার কারণে বর্ষার পানি সরতে ও চাষ করতে রসুন আবাদে এক-দেড় মাস পিছিয়ে যেতে হয়। এ কারণে সামান্য কাদার ওপর রসুন লাগালে সময় এগিয়ে আসে। এতে উৎপাদন খরচ কম হয় ও ফলন বাম্পার হয়। ফলে কৃষক লাভবান হচ্ছেন। এ পদ্ধতির চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ করা হচ্ছে। উপজেলায় চলতি বছর ৩০৪ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ২৫০ হেক্টর জমিতে বিনা চাষে এবং ৯০ হেক্টর জমিতে চাষে রসুনের আবাদ হয়েছে।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়