ব্রেকিং নিউজ

সৌদিফেরত আমিনুল পেঁপে চাষে লাখপতি

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

আশরাফুল আলম, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

পেঁপে চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকার সৌদিফেরত যুবক আমিনুল ইসলাম। তিনি ওই এলাকার মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। পেঁপে চাষ করেই তিনি এখন লাখপতি।

২০১৩ সালে বাড়ির পাশে এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকায় মাত্র ২২ শতক জমি লিজ নিয়ে পেঁপে চাষ শুরু করেন। সেই থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে আমিনুল একজন সফল পেঁপেচাষি। তার বাগানে তিন শতাধিক গাছ রয়েছে। সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি গাছে রয়েছে পেঁপে। প্রতিদিন বাজারে বিক্রি করলেও গাছের পেঁপে যেন শেষই হচ্ছে না। বাজারেও চাহিদা বেশ ভালো। তবে পাকা পেঁপে চান সবাই। তার খেতের পেঁপে দারুণ মিষ্টি। তাই চাহিদাও বেশি, দামও বেশ ভালো।

পেঁপেচাষি আমিনুল ইসলাম জানান, শুরুর দিকে পেঁপের বাজার দর ছিল কম। ব্যবসায় তেমন সুবিধা না হওয়ায় তিনি সৌদি আরব চলে যান। কয়েক বছর পর দেশে ফিরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে পেঁপে চাষ পদ্ধতি জেনে পুনরায় ২০১৮ সালে পেঁপে চাষ শুরু করেন। চারা রোপণের পর নিয়মিত গাছের পরিচর্যায় ফলন পান ভালোই।

আমিনুল বলেন, প্রথমে ২২ শতক জমি লিজ নিয়ে ৩০০ পেঁপে চারা রোপণ করি। চারা রোপণের পর নিয়মিত পরিচর্যা ও সার-সেচ দেওয়ায় প্রতিটি গাছে ফলন আসে ৭০ থেকে ৮০টিরও বেশি। পরিপূর্ণ অবস্থায় প্রতিটি পেঁপের ওজন হয় প্রায় দুই কেজি। সর্বোচ্চ একটি পেঁপের ওজন হয় তিন কেজি। স্থানীয় অনেক পাইকার ও ব্যবসায়ী তার বাগান থেকে কাঁচা ও পাকা পেঁপে নিতে আসে। তিনি বলেন, চারা লাগানোর তিন মাসের মাথায় গাছে ফল ধরলেও তা ছিঁড়ে দেই। পরে আবার ফল ধরলে আট মাসের মাথায় গাছ থেকে পেঁপে তোলা শুরু করি। সবজি জাতীয় এ ফলের কদর রয়েছে দেশজুড়ে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ বাজারে এ ফলের চাহিদা রয়েছে সবসময়। পেঁপে চাষে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মেটে অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হওয়া যায়। এ বছরের শুরুতে মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচ করে গড়ে তোলা পেঁপে বাগান থেকে এরই মধ্যে লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করা হয়েছে। আরো প্রায় ৫০ হাজার টাকা পেঁপে বিক্রি করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি। এতে করে এক বছরে খরচ বাদে তার লাভ হবে প্রায় দেড় লাখ টাকা।

আমিনুলের সফলতা দেখে তার বাগানের আশপাশের অনেকেই পেঁপে চাষ শুরু করছেন। তিনি জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পুষ্টিমানসমৃদ্ধ পেঁপে চাষে ভাগ্য বদলে যায়। পেঁপে চাষে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে। বেকার যুবকরা যদি পেঁপে চাষে অগ্রসর হয় তাহলে তারাও লাভবান হবে। পেঁপে চাষের পাশাপাশি মরিচসহ বিভিন্ন শীতকালীন শাক-সবজিও চাষ করেন তিনি। সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরা আক্তার জানান, উঁচু জমিতে পেঁপে চাষ করতে হয়।

 

"