মিজান রহমান

  ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটনশিল্প

করোনার ধাক্কা সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটনশিল্প। দীর্ঘদিন পর খুলে দেওয়ায় ভিড় বাড়তে শুরু করেছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। কঠোর বিধিনিষেধে বন্ধ থাকায় আর্থিক অনটনে পড়লেও এখন নতুন উদ্যমে কাজ করছেন এ খাতের পেশাজীবীরা। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে কক্সবাজারের হোটেল- মোটেলে ঠাঁই নেই বললেই চলে। একইভাবে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের ঘোরাফেরা বেড়েছে। তবে করোনা সংক্রমণের হার কমে এলেও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সচেতন থাকার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে পর্যটন খাতে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। পাশাপাশি দেশকে আরো বেশি করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরিও হয়েছে। জাতিসংঘের পর্যটনবিষয়ক সংস্থা ইউএনডব্লিউটিও। ১৪ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির কমিশন ফর সাউথ এশিয়ায় (সিএসএ) ২০২১-২৩ মেয়াদে ভাইস চেয়ার নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। এর পেক্ষাপটে নড়েচড়ে বসেছে এ খাতের নীতিনিধারকরাও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধান ও জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের সমাগম বৃদ্ধি পাওয়ায় সেসব এলাকার হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন মিলিয়ে সব ব্যবসায়ই যেন এখন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তবে করোনার কারণে বিদেশ ভ্রমণের ঝামেলা থাকায় পর্যটক তথা ভ্রমণপিপাসুরা দেশের ভেতরেই ঘুরতে যাচ্ছেন।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) সূত্রে জানা গেছে, করোনার আগে প্রতি বছরে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ পর্যটক দেশের বিভিন্ন স্পটে ভ্রমণ করেন। তবে এবার করোনার কারণে পর্যটন ব্যবসা থমকে যায়। বর্তমানে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় সব খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে আবার জমতে শুরু করেছে এই খাতের ব্যবসা। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে দুই সপ্তাহ ধরে চলছে হোটেলে-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে নানা ধরনের মূল্যছাড়ের অফার।

জানতে চাইলে টোয়াব সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ঘরে বসে থেকে হাঁপিয়ে উঠছিল। সবকিছু খুলে দেওয়ায় তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিংবা দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের বুকিং দেখলেই তা বোঝা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা মহামারির কারণে গত বছর কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে জনসমাগম ছয় মাস বন্ধ ছিল। এবারও তা প্রায় চার মাস বন্ধ থাকে। জীবিকা নিয়ে বিপাকে পড়েন পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কয়েকজন জানান, পর্যটকরা না থাকলে অনেক সমস্যা হয় ব্যবসা চালাতে। সব বন্ধ করে বসে থাকতে হয়। এখন আগের থেকে বিক্রি অনেক বেড়েছে। অনেকদিন পর আবার ব্যবসা ভালো হচ্ছে। মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। এখন আর সেই অবস্থা নেই। সাগর পাড়ে ভাড়ায় কাজ করা ফটোগ্রাফার আর বিভিন্ন রাইডের ব্যবসায়ীরাও মানবেতর জীবন শেষে স্বপ্ন দেখছেন সচ্ছলতার। এরই মধ্যে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে শুরু করছে সাগর পাড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেলগুলো।

কক্সবাজারের রয়েল টিউলিপ হোটেলের ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) আমজাদ হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘এখন অবস্থা সম্পূর্ণভাবে ইতিবাচক। আমাদের সবকিছুতেই একটা ইতিবাচক প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। ছুটির দিকগুলোতে প্রচুর পর্যটক আমাদের এখানে আসেন। কোনো কক্ষ খালি নেই।

এদিকে প্রাকৃতিক নৈসর্গের লীলাভূমি বাংলাদেশে পর্যটনশিল্পের অপার সম্ভাবনা দেখছেন এ শিল্প সংশ্লিষ্টরা। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। পর্যটনকে শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করায় বাংলাদেশে এ শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে। সম্প্রতি পর্যটন খাতে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। পাশাপাশি দেশকে আরো বেশি করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের পর্যটনবিষয়ক সংস্থা ইউএনডব্লিউটিওর কার্যক্রম পরিচালিত হয় ছয়টি আঞ্চলিক সংগঠনের সমন্বয়ে। যার মধ্যে কমিশন ফর সাউথ এশিয়া (সিএসএ) অন্যতম। ১৪ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির কমিশন ফর সাউথ এশিয়ায় (সিএসএ) ২০২১-২৩ মেয়াদে ভাইস চেয়ার নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। এতে পর্যটন খাতে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। পাশাপাশি দেশকে আরো বেশি করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ।

এ অর্জনে কী কী সুফল আসবে জানতে চাইলে জাবেদ আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটনে আমাদের নেতৃত্ব দেওয়া এবং ভূমিকা রাখার জায়গা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের পযর্টনকে আরো পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতার জায়গায় বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হলো। তিনি আরো বলেন, কমিশন ফর সাউথ এশিয়ায় ভাইস চেয়ার হওয়ার ফলে আমরা এখন যে কোনো অনুষ্ঠান বাংলাদেশে করার প্রস্তাব করতে পারব। এখন বিভিন্ন দেশের পর্যটনের শীর্ষ ব্যক্তিরা আসবেন এখানে। তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে জানবেন। এর সুফল আমরা পাব। এর আগে ২০১৯-২১ মেয়াদে কমিশন ফর সাউথ এশিয়ার ভাইস চেয়ার ছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কা। তারাও এর সুফল পেয়েছে। তাই দেশের পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে কাজ করার কথা বললেন।

নতুন সম্ভাবনায় ঘুরে দাঁড়াবে পর্যটন খাত বলে মনে করছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। তিনি প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রিকভারি প্ল্যান নেওয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ফলে সংকট কাটিয়ে আবারও পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়াবে। আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান। যারা বেকার হয়েছেন, তারা আবারও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, রিকভারি প্ল্যানে অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে পর্যটন খাতের বিকাশের যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close