অনলাইন ডেস্ক
  ২৬ নভেম্বর, ২০২০

ঝুঁকির সামগ্রী অবাধে বিক্রি রুখতে হবে

মানহীন সুরক্ষাসামগ্রীর ব্যবহার করোনাভাইরাসের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাজধানীর যত্রতত্র এসব সামগ্রী অবাধে বিক্রি হচ্ছে। কেউ কেউ রাস্তার পাশে, কেউ ভ্যানে আবার কেউ ঝুড়িতে সার্জিক্যাল মাস্ক, পলিথিনের হ্যান্ডগ্লাভস, সার্জিক্যাল হ্যান্ডগ্লাভস, ফেস-শিল্ড, সার্জিক্যাল ক্যাপ, পিপিই, সাধারণ মাস্ক বিক্রি করছেন। কঠিন এ সময়ে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হতে পারে এমন উদাসীনতা। যত্রতত্র এ ধরনের মানহীন সুরক্ষাসামগ্রী সুরক্ষা নয়, বরং বিপদ ডেকে আনবে। এ অনিয়ম রুখতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

শীতের শুরু থেকেই দেশে বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু। এ অবস্থায় জনগণকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় বাধ্য করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। ফলে চাহিদা বেড়েছে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত পরিশোধকসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রীর। আর এ সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী। তাদের প্রধান টার্গেট স্বল্প আয়ের মানুষ। ফুটপাতে প্রকাশ্যে এসব সামগ্রী বিক্রি বাড়লেও কোনো নজরদারি নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্য কোনো সংস্থার। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত ‘ঝুঁকির সামগ্রী অবাধে’ শীর্ষক বিশেষ প্রতিবেদনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মানুষ মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ নানা সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করছে। দাম কম হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ ফুটপাতের পণ্যগুলোই বেশি কিনে থাকে। কিন্তু মানহীন উপাদানে তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে পারে না বরং থেকে যায় স্বাস্থ্যঝুঁকি। মানসম্মত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইথানল দিয়ে তৈরি হয়, তবে ফুটপাতে যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে তার বেশির ভাগই মিথানল দিয়ে তৈরি। কিন্তু ইথানল স্যানিটাইজারে জীবাণু মরে, তবে মিথানল স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া মাস্ক সাধারণত তিনস্তরের হলেই মানসম্মত হয়। তবে ফুটপাতে খুবই নিম্নমানের মাস্ক বিক্রি হচ্ছে। এসব মাস্ক ব্যবহার করা উচিত নয়। মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার অবশ্যই নিয়মকানুন মেনে তৈরি করা এবং অনুমোদিত স্থানে বিক্রি করা উচিত। না হলে জনজীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। অপরদিকে, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে এসব মানহীন পণ্য সরবরাহ করছে। তবে অধিকাংশ চোরাই পথে বিদেশ থেকে আসছে। কিছু তৈরি হচ্ছে দেশেই। এগুলো আমদানি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী। খুচরা পর্যায়ে ফুটপাত, পাড়া-মহল্লার মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে এসব সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। এগুলো ব্যবহারে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যাপক হারে বাড়ছে। এসব নকল ও মানহীন সুরক্ষাসামগ্রীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরো বৃদ্ধি এবং এসব পণ্য আমদানি ও বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্টদের আরো তৎপর হতে হবে।

------
বলা সংগত, করোনার মতো প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক এবং স্যানিটাইজার পিপিইর ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নকল মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে কোনো লাভই হবে না। উল্টো স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব পণ্য আমদানি, বিক্রি ও বিপণনের ক্ষেত্রে সরকারের আরো কঠোর হওয়া দরকার।

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়