বিশ্বময় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

আজ ১২ রবিউল আউয়াল। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) এর জন্ম ও মৃত্যুদিবস। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আর ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে একই দিনে ইহলোক ত্যাগ করেন।

আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করতে এদিনে তৌহিদের মহান বাণী নিয়ে এসেছিলেন এ মহামানব। বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়সহ শান্তিকামী প্রত্যেক মানুষের কাছে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) গোটা মানবজাতির জন্য এমনকি সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত ও আশীর্বাদ হিসেবে ধরাধামে আবির্ভূত হন। মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) কোনো একটি বিশেষ দল বা সম্প্রদায়ের নবী ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বের মানুষের মুক্তিদূত বিশ্বনবী।

এ মর্মে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘অন্য নবীরা তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন আর আমি বিশ্বের সমগ্র মানবের জন্য প্রেরিত হয়েছি।’ নবী করিম (সা.) বিদায় হজের ভাষণে ঘোষণা করেন, ‘আমি শেষ নবী আমার পরে আর কোনো নবী নেই।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) নবুওয়াত প্রাপ্তির পর সর্বপ্রথম পবিত্র কোরআনের আয়াতের দ্বারা বিশ্বের মানুষকে তাওহিদ তথা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি আহ্বান জানান, হে মানবজাতি, তোমরা বলো, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তাহলে তোমরা সফলকাম হবে। তিনি মানবগোষ্ঠীর প্রতি সত্য প্রচারে নিবিষ্ট হন এবং তাদের সরল-সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। যাতে তারা জীবনের সফলতা অর্জনে ফলপ্রসূ হতে পারে আর ইহকালীন জীবনে শান্তি ও সৌভাগ্য লাভ করতে সক্ষম হয়। বিশ্বনবী হজরত মুহম্মদ (সা.) এমন এক সমাজে আবির্ভূত হন, যেখানে লোকেরা তাদের মানবিক গুণাবলি ও চারিত্রিক আদর্শ হারিয়ে ফেলেছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের নিজের সুন্দর আচরণ, উত্তম চরিত্র মাধুর্যের দ্বারা মানবিক গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেন এবং আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি ও তার আনুগত্যের মাধ্যমে মানবজীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের পথনির্দেশনা প্রদান করেন। আত্মভোলা ও পথভ্রষ্ট মানুষকে মানব মর্যাদা, স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্ক, মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য শিক্ষা দেন। জীবন ও মরণের উপলব্ধি সৃষ্টির দ্বারা রাসুলুল্লাহ (সা.) আরব সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা, সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় মানব ইতিহাসে অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

বর্তমানে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় ধুঁকছে গোটা বিশ্ব। দশ লাখেরও বেশি মানুষ এরই মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে দেশে দেশে হানাহানি ও যুদ্ধবিগ্রহ চলছে। নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরছে। আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ বিনষ্ট হচ্ছে। এই রূঢ় কঠিন বাস্তবতায় একমাত্র রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুপম আদর্শ ও সর্বজনীন শিক্ষা অনুসরণই বহু প্রত্যাশিত শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আমাদের সবার মনে সহনশীলতা, সংযম, হৃদ্যতা, সম্প্রীতি, পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা সৃষ্টিতে সহায়ক হোক। এই হোক আজকের দিনের প্রার্থনা।

"