ক্যাম্পাস ডেস্ক

  ২৩ নভেম্বর, ২০২১

‘বশেফমুবিপ্রবি-তে গবেষণার সব সুযোগ থাকবে’

একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়া মানে ‘শূন্য থেকে শুরু করা। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে চলেছে জামালপুরে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেফমুবিপ্রবি)।

আর নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়টির নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, প্রখ্যাত ভূতত্ত্ববিদ ও দক্ষপ্রশাসক প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ। তার নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছার নামে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বিশ্বমানের গবেষণাসমৃদ্ধ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রূপে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে কাজ করে করছে কর্তৃপক্ষ।

ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দেশের উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়া তোলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও আমরাও এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার দিকে জোর দিয়েছি।

ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদকে ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বশেফমুবিপ্রবির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। দায়িত্বগ্রহণের পরই তিনি বঙ্গমাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় দেশের ‘রোল মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে’ পরিণত করার মহাপরিকল্পনা হাতে নেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমিত সম্পদের মাঝেই বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের গবেষণা কার্যক্রমে উৎসাহ ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সামাজিক বনায়ন, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন, মুজিববর্ষের ইতিহাস শীর্ষক বই প্রকাশসহ বছরজুড়ে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর ‘অবিনাশী জনক তুমি’ শীর্ষক স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ দিনের কর্মসূচি পালন করা হয়।

গত ১৮ মাস ধরে করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে এর মাঝেই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনার সংস্কার কাজ করা হয়। এই সময়ে অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ, হলের সংস্কার, প্রশাসনিক ভবন, ডরমিটরি সংস্কার করে ব্যবহারের উপযুক্ত করা হয়। বর্তমানে দুটি হোস্টেল শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

করোনার প্রভাবে যাতে শিক্ষার্থীদের সেশনজটের মতো সমস্যায় পড়তে না হয় সেজন্য ক্যাম্পাস খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের আটকে যাওয়া পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়। এখন প্রতিটি বিভাগেই পুরোদমে ক্লাস চলছে। করোনা মহামারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দরিদ্র অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হয়।

বশেফমুবিপ্রবির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্যই বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই যেন তারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। আমরা সব সময় তাদের পাশে রয়েছি এবং থাকব। এক্ষেত্রে আমাদের ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক-কর্মকর্তা সবাই সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করে চলেছেন। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টিকে এক অনন্য জায়গায় নিয়ে যেতে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করছি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বশেফমুবিপ্রবিকে রোলমডেল হিসেবে গ্রহণ করবে আমি এমন স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে চলেছি।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close