আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  ৫ ঘণ্টা আগে

গাজায় জিম্মি নিজ নাগরিকদের ‘মেরে ফেলার নির্দেশ’ দিয়েছিল ইসরায়েল

ফিলিস্তিনের গাজায় জিম্মি নিজ নাগরিকদের ‘মেরে ফেলার নির্দেশ’ দিয়েছিল ইসরায়েল। ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ত স্বীকার করেছেন, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে জিম্মি থাকা ইসরায়েলি বন্দীদের নিহত হওয়ার আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও তিনি গাজা উপত্যকায় হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইসরায়েলি আক্রমণে হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর কাছে থাকা জিম্মিরা মারা যেতে পারে-এমন আশঙ্কা থাকার পরও আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি অনড় ছিলেন।

গ্যালান্ত ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আরোনাথ এবং চ্যানেল ১২কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘৭ অক্টোবরের (২০২৩) ঘটনার পর এবং ২৭ অক্টোবর স্থল অভিযান শুরু হওয়ার আগে আমি সতর্কবার্তা পেয়েছিলাম যে, আমরা যদি হামলা চালাই তাহলে গাজায় থাকা জিম্মিরা নিহত হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার এবং পরে স্থল অভিযান বাস্তবায়নের ব্যাপারে অনড় ছিলাম।’

গ্যালান্ত ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বলেছিলাম, আমাদের এবং হামাসের মধ্যে মাত্র একটি বিষয়ে মিল রয়েছে। আমরা উভয়েই জিম্মিদের ধরে রাখতে চাই। তারা তাদের চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে দেখে, আর আমরা তাদের আমাদের নিজেদের মানুষ হিসেবে দেখি।’

গ্যালান্ত জোর দিয়ে বলেন, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালেও সরকার ‘জিম্মিদের মুক্ত করার জন্য যা যা করা সম্ভব ছিল, তার সবকিছু করেনি।’ তিনি উল্লেখ করেন, তারা সেনাবাহিনীকে ‘হ্যানিবাল নির্দেশনা’ (ঐধহহরনধষ উরৎবপঃরাব) বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নীতির আওতায় বন্দীদের অপহরণকারীদের সঙ্গে বন্দীদেরও হত্যা করা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা নিয়ে ইসরায়েল সরকারের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

যদিও কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তা নিজেদের দায় স্বীকার করেছেন, তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটির তদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিও প্রতিহত করে আসছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, ৭ অক্টোবরের ঘটনা ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতাগুলোর একটি।

গ্যালান্ত বলেন, উগ্রপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ একাধিকবার সরকারের কাছ থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে জিম্মি বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালেই তেল আবিব একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারত। পদত্যাগ করা জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন–গভির সম্পর্কে গ্যালান্ত বলেন, জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে তাঁর বারবার অভিযান ও প্রবেশ উত্তেজনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার পেছনেও এটি ভূমিকা রেখেছিল।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়