প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন

১১০ কোটি ডোজ দেবে যুক্তরাষ্ট্র

এ সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কোভিড-১৯ টিকার মজুদ বন্ধ করতে ধনী দেশগুলোর কাছে আর্জি জানিয়েছে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো। এদিকে বিশ্বকে ১১০ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের পর কোভিড-১৯ ভার্চুয়াল সম্মেলনে তিনি এমন কথা বলেন।

অধিবেশনে গরিব দেশগুলোর নেতারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ধনী দেশগুলো টিকা মজুদ করার কারণে করোনাভাইরাসের নতুন নতুন ধরনের আবির্ভাব হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। এমনকি ভাইরাস সংক্রমণ এরই মধ্যে অনেক জায়গায় বেড়েও গেছে। ফিলিপাইনস এ পরিস্থিতিতে গরিব দেশগুলোতে টিকার মানবসৃষ্ট খরার ব্যাপারে সতর্ক করেছে। পেরু জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংহতি ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে, আফ্রিকার দেশ ঘানা ধনী দেশগুলোর বিরুদ্ধে টিকা নিয়ে জাতীয়তাবাদের অভিযোগ এনেছে। তাছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস টিকার ক্ষেত্রে এই বৈষম্য ‘জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ফিলিপাইনসের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে মঙ্গলবার জাতিসংঘের অধিবেশনে বলেন, ‘ধনী দেশগুলো জীবন রক্ষাকারী টিকা মজুদ করে রেখেছে। আর গরিব দেশগুলো এক ফোঁটা দুই ফোঁটা করে টিকা পাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে।’ এখন আবার তারা (ধনী দেশ) কথা বলছে, বুস্টার ডোজ নিয়ে। অথচ গরিব দেশগুলো অর্ধেক ডোজ টিকা দেওয়া নিয়েই হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থা অভাবনীয়। এর নিন্দা হওয়া উচিত। যৌক্তিক কিংবা নৈতিক কোনোভাবেই এই স্বার্থপরতা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রয়টার্স বিভিন্ন দেশের মানুষের টিকা নেওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানিয়েছে, বিশ্বে অন্তত এক ডোজ কোভিড টিকা নেওয়াদের প্রায় ৩৫ শতাংশই উচ্চ আয়ের ধনী দেশগুলোর। ২৮ শতাংশ হচ্ছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর।

অন্যদিকে, হাইতি এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর মতো দেশগুলোতে মানুষেরে টিকা নেওয়ার হার ১ শতাংশেরও কম। বুধবার ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদ্দো জাতিসংঘে বলেন, টিকা জাতীয়তাবাদের সবচেয়ে বড় শিকার আফ্রিকার দেশগুলো।

বিশ্বের অন্যান্য অংশে ৭০ শতাংশ মানুষের টিকা নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গেলে এখনো আফ্রিকার প্রায় ৯০ কোটি মানুষের টিকা নেওয়া প্রয়োজন।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আইভান ডুকে বলেছেন, কোভিড টিকা অবশ্যই বিশ্বজুড়ে সমানভাবে বিতরণ করতে হবে। যাতে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের আবির্ভাব না ঘটে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ইমিউনিউটির জন্য সংহতি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদের টিকার প্রয়োজনীয়তার মুখে টিকা মজুদ করা চলতে পারে না।

আইভান আরও বলেন, বিশ্বের কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের প্রয়োজনের তুলনায় ৬ থেকে ৭ গুণ বেশি টিকা মজুদ করে রেখেছে। তারা বুস্টার ডোজ দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে। অথচ অন্যান্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় টিকাটুকুও পাচ্ছে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, করোনা মহামারি কোনো একক দেশের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশের পক্ষে এককভাবে এ সমস্যা নির্মূল করা সমাধান সম্ভব নয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের পর কোভিড-১৯ ভার্চুয়াল সম্মেলনে তিনি এমন কথা বলেন।

এ সময় তিনি উন্নয়নশীল ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে বিনামূল্যে আরও ৫০ কোটি ডোজ টিকা সহায়তার ঘোষণা দেন। এসব টিকা জন্য ফাইজার থেকে অলাভজনক মূল্যে সংগ্রহ করা হবে। যার জন্য খরচ হবে ৩৭ কোটি মার্কিন ডলার।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিনামূল্যে ৬০ কোটি ডোজ টিকা সহায়তার কথা জানিয়েছিল। নতুন ৫০ কোটি ডোজ তার অতিরিক্ত। বাইডেনের এ ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের টিকা সহয়তার পারমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ১১০ কোটি ডোজে।

সম্মেলনে জো বাইডেন ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বের ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে বিশ্ব নেতাদেরসহ ওষুধ কোম্পানি, জনহিতকর এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমরা ছিলাম গণতন্ত্রের অস্ত্রাগার, এবার হবো টিকার ভা-ার।

আমরা ইতোমধ্যেই ১৬ কোটি ডোজ টিকা ১০০টি দেশে পাঠিয়েছি। আমাদের লক্ষ্যমাত্রার বাকি টিকা মধ্য ও নিম্নআয়ের দেশগুলোতে পাঠানো হবে। বাইডেনের এমন বক্তব্যের পর স্পেন ৩ কোটি ডোজ টিকা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আর জাপান জানিয়েছে, তারা আরও ৬ কোটি ডোজ টিকা দেবে। এর আগে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তৃতায় বাইডেন বলেন, বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে ওয়াশিংটনের এ পর্যন্ত ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রতিটি দেশের অন্তত ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে ১১ বিলিয়ন ডোজ টিকার প্রয়োজন। তবে ভ্যাকসিন সংকট বৃদ্ধি পাওয়ায় সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close