লিবিয়ায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি দুই পক্ষের

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় পাঁচ দিনের আলোচনার পর লিবিয়ার বিবদমান দুই পক্ষ স্থায়ী একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই করেছে। ত্রিপোলির আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার ও তাদের বিরোধী পক্ষের সামরিক নেতাদের মধ্যে হওয়া এ চুক্তিতে জাতিসংঘ মধ্যস্থতা করেছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টেফানি উইলিয়ামস এ স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে লিবিয়ার ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। খবর বিবিসির।

২০১১ সালে নেটো সমর্থিত বাহিনী দেশটির শাসক কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই সেখানে সহিংসতা মারাত্মক আকার নিয়েছে; দেশটির অসংখ্য বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতেও বাধ্য হতে হয়েছে। তেলসমৃদ্ধ লিবিয়া আফ্রিকা হয়ে ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম প্রধান রুট।

স্টেফানি উইলিয়ামস বলেছেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে লিবিয়ার ভেতরে-বাইরে শরণার্থী হয়ে থাকা অসংখ্য মানুষ তাদের বাড়িঘরে ফিরতে পারবেন।

চুক্তি অনুযায়ী সব দল যুদ্ধক্ষেত্রগুলো থেকে তাদের সৈন্য ও সামরিক ইউনিটগুলোকে ক্যাম্পে নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে, জানিয়েছেন জাতিসংঘের লিবিয়াবিষয়ক এ বিশেষ দূত। সব পক্ষ লিবিয়ার ভূমিতে, আকাশে কিংবা জলে থাকা সব ভাড়াটে সেনা ও বিদেশি সেনাদের সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতায় আগামী মাসে তিউনিসিয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ত্রিপোলির ন্যাশনাল অ্যাকর্ড সরকার (জিএনএ) ও খলিফা হাফতার নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) মধ্যে আলোচনা রাজনৈতিক আলোচনা শুরুরও কথা রয়েছে।

জিএনএর নিয়ন্ত্রণে আছে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি ও এর আশপাশের এলাকা। খলিফা হাফতারের অনুগত বাহিনী বেনগাজি থেকে দেশটির পূর্বাঞ্চল চালায়। ত্রিপোলি সরকারের পক্ষে রয়েছে তুরস্ক, কাতার ও ইতালি। হাফতারকে সমর্থন দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর।

আফ্রিকার মধ্যে লিবিয়াতেই সবচেয়ে বেশি তেল ও গ্যাস মজুদ রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে হাফতারের অনুগত একটি সশস্ত্র দল দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি তেল ক্ষেত্র ঘেরাও করে রেখেছে। টার্মিনালগুলোতে গুদামজাত তেল বিক্রি করতে অগাস্টে ওই ঘেরাও আংশিক তুলে নেওয়া হলেও নতুন করে তেল উৎপাদন করতে দেওয়া হয়নি।

 

"