ব্রেকিং নিউজ

প্রতিবন্ধীর আঁকা বঙ্গবন্ধু

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

নওগাঁ প্রতিনিধি

দাঁতে তুলি চেপে ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে ছবি এঁকেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম। এছাড়াও তার এই তুলির আঁচড়ে মূর্ত হয়েছে দেশের প্রাকৃতিক দৃশ্য। এসব ছবি বিক্রি করে চলছে তার সংসার। তিনি দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন দুই হাত। পা হয়েছে অবশ। হুইল চেয়ারেই কাটে এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিমের দিন। তারপরও তিনি অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম। হুইল চেয়ারে বসে থাকলেও তার মাথা ও মুখ ব্যস্ত। মুখে কামড়ে ধরা তুলিতে ঘাড় ঘুরিয়ে বার বার রং নিচ্ছেন তিনি। চেয়ারের সঙ্গে বিশেষভাবে লাগানো ক্যানভাসে তিনি আঁকছেন ছবি।

সেই ছবি বিক্রি করে চেষ্টা চলছে পরিবারে স্বচ্ছলতা আনার। নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের চককেশব বালুবাজার গ্রামের এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম এভাবেই নিজের জীবন সংগ্রাম করে চলেছেন।

ছোটবেলায় বাবা হারানোর পর বেশ কষ্টে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম। ২০০৫ সালে দিনাজপুরে পল্লীবিদ্যুতের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে পড়ে গিয়ে দুই হাত-পা হারিয়েছেন। চিকিৎসার খরচ পল্লীবিদ্যুৎ নিলেও নেয়নি তার ভবিষ্যৎ জীবনের দায়িত্ব। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

হয়ে সাভারের সিআরপিতে চিকিৎসা নেন দীর্ঘ আট বছর। সেখানে থাকা অবস্থায় শুনেছেন লাভলী নামে একজন মুখ দিয়ে ছবি আঁকতেন। তার সঙ্গে দেখা না হলেও গল্প শুনেই অনুপ্রেরণা। বর্তমানে তিনি নিজ বাড়ির পুকুর পাড়ে বসে মুখের সাহায্যে পেন্সিল ও রঙ তুলি দিয়ে ছবি আঁকেন। অসুস্থতার কারণে বৃদ্ধা মাকে নিয়ে নিজ বাড়ি চককেশব বালুবাজারে আছেন। সিআরপিতে থাকা অবস্থায় তার আঁকা ছবি দিয়ে অনেকগুলো প্রদর্শনী হয়েছে। ছবিগুলো আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে বিক্রি হয়েছে।

প্রতিবেশী মাসুদ রানা জানান, এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছেন। মা সুফিয়া বেগম ইব্রাহিম ও তার বড় ভাই শহিদুল ইসলামকে অভাবের সংসারে অনেক কষ্টে বড় করেছেন। বড় ভাইয়ের সংসারেও অভাব। তাই সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা একটু তার পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তারা তাদের সংসারে ভালো চলবে। সাব্বির রহমান, আকাশ হোসেনসহ স্থানীয় কয়েক জন বলেন, ইব্রাহিমের বর্তমানে শরীরের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো নেই। সরকার কর্তৃক প্রতিবন্ধী ভাতা ও মায়ের বিধবা ভাতা দিয়ে কোন রকমে চলছে তাদের সংসার। ছবি বিক্রি করে যেটুকু আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পরেছে। ইব্রাহিমের পক্ষ হয়ে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের তার প্রতি সহযোগীতার আহব্বান জানান তারা। মাউথ পেইন্টার এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিমের মা সুফিয়া বেগম জানান, ওষুধ, খাবার, দৈনন্দিন খরচসহ সাংসারিক নানা প্রয়োজন মিটাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। ছবিগুলো বিক্রি করে সংসারের খরচ জোগাতে চায় এমদাদুল। তার ছবি কে নেবে বা কোথায় বিক্রি করলে ভালো মূল্য পাবেন, তা জানেন না তারা। এমন অবস্থায় সরকারসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মাউথ পেইন্টার এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকাকে জানান, জীবনের কঠিন সময় পার করছি জানিনা বাঁকি জীবনটা কিভাবে পার করবো। হুইল চেয়ারে বসেই আমার দিন কেঁটে যায়। মুখ দিয়ে ছবি এঁকে করে সেই বিক্রি করে যা পাই তাই দিয়ে সংসার চলে। মায়ের বিধবা ভাতা ও আমার বয়স্কভাতা খুবই সামন্য তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার আঁকা ছবি ছড়িয়ে দিতে চাই দেশ-বিদেশে। কিন্তু ছবি গুলো কোথায় বিক্রি করলে ভালো দাম পাবো বা কে আমার ছবি নিয়মিত নিবে তা জানি না। তাই সরকারসহ সকলের কাছে অনুরোধ করছি আমার পাশে দাঁড়িয়ে একটু সহযোগিতার।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হালিম বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি, ইব্রাহিমকে প্রতিবন্ধী ভাতা ও তার মাকে ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। আগামীতেও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। সেই সঙ্গে তার আঁকানো ছবির একক প্রদশর্নীর পরিকল্পনার কথাও জানান এই কর্মকর্তা।

 

"