যোগ-বিয়োগের চিন্তায় ঝুলে আছে উপকমিটি

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৮:১৮

জিয়াউদ্দিন রাজু

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিষয়ভিত্তিক সব উপকমিটির খসড়া তালিকা জমা পড়েছে দলের দপ্তরে। প্রস্তাবিত সেই খসড়া তালিকা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। ঢাকার দুই মহানগরে দলের এবং সহযোগী সংগঠন যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পরই উপকমিটির অনুমোদন দেবে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব। এবার উপকমিটিগুলো বিতর্কমুক্ত রাখতে ঢাকার দুই মহানগর কমিটি এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই না পাওয়া অনেক নেতাকে উপকমিটিতে রাখা হতে পারে বলে দলের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র মতে, কমিটিগুলো চলতি মাসেই ঘোষণা করা হতে পারে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯টি উপকমিটির খসড়া তালিকা জমা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সম্পাদকরা। ওইসব তালিকা যাচাই-বাছাই করছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা করে সংযোজন-বিয়োজন করবেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। সবশেষে চূড়ান্ত তালিকা পাঠানো হবে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে। প্রস্তাবিত নামের বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেবেন।

দলের উপদপ্তর সম্পাদক শাহিন খান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, কমিটি জমা পড়েছে তবে এর মোট সদস্য সংখ্যা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্যদের পদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হবে।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আমরা দলের ত্যাগী ও সৎ নেতাকর্মীদের খসড়া কমিটিতে রেখেছি। তবে যেহেতু আমাদের সারা দেশে ব্যাপক কাজ করতে হয়েছে তাই এবার কমিটিতে আমরা দ্বিগুণ নেতাকর্মীর নাম প্রস্তাব দিয়েছে।’

উপকমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের উপকমিটিতে সংযুক্ত করা হবে। তবে ‘টেকনিক্যাল’ কমিটি যেমন শিল্প ও বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটিগুলোতে সেই বিষয়ে পারদর্শী ব্যক্তিদেরই দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনি জানান, দলের সব সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পরই উপকমিটির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির বিষয়ে তেমন কিছু বলতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট সম্পাদক শাম্মী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত কমিটি ঘোষণা হলেই আপনারা জানতে পারবেন। এই বিষয়ে আর বেশি কিছু বলতে পারব না।’

দলের কয়েকজন সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খসড়া তালিকায় নাম থাকা প্রত্যেকের বিষয়ে আলাদাভাবে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এজন্য এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে অনেকের বিষয়ে নেতিবাচক তথ্য এসেছে। তাদের বাদ দিয়ে ওই জায়গায় যোগ্য ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। বিতর্কমুক্ত, কর্মঠ ও দলীয় আদর্শের প্রতি অনুগত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হবে। পদ না পেয়ে কেউ যেন দল থেকে বিচ্যুতি না হন সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে উপকমিটিগুলো করা হচ্ছে। ওইসব কমিটিতে সাবেক ছাত্রনেতারাই গুরুত্ব পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি মহানগর আওয়ামী লীগ এবং দলের সহযোগী সংগঠনে পদ না পাওয়া এবং আওয়ামী পরিবারের সদস্যদের রাখা হবে উপকমিটিগুলোতে।

পিডিএসও/হেলাল