৭৪তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ সঠিক গন্তব্যে

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:০৪ | আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী (ছবি : মুঈদ খন্দকার)

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, আজ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে খুব উৎসাহ নিয়ে এ অনুষ্ঠানে এসেছি। যে মানুষটা ১৬ কোটি মানুষকে স্বস্তি দিয়েছেন, শান্তিতে রেখেছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন, আন্তরিকতা দিয়েছেন ও পথপ্রদর্শন করেছেন। তার দেখানো পথে এবং পথ-নকশা অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দেশ সঠিক গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জন্মদিন উদযাপনে রাজধানীর গুলশানস্থ বিচারপতি সাহাবউদ্দিন আহমেদ পার্কে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে দুটি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি ‘পরম্পরা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সংসদ সদস্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর, সংসদ সদস্য এ কে এম রহমত উল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক চেয়ারম্যান এবং সংসদ সদস্য শফিউল মহীউদ্দিন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা উসমান তুরান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুসরণ করার মতো অনেক কিছুই আছে। একজন বহুমুখী প্রতিভার মানুষ তিনি। পাকিস্তান শাসনামলে ছিটমহল নিয়ে ভারতের সঙ্গে নানা ঝামেলা ছিল। সেই ছিটমহলগুলোতে মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করত। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পরে ১৯৭৪ সালে ‘ইন্ধিরা-মুজিব’ চুক্তির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেন। তখন বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অনেকে কটূক্তি করে বলেছেন, তিনি বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এরপর আর কেউ এ বিষয় নিয়ে কথা বলেননি। সর্বশেষ শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে এই সমস্যা সমাধান করেন। এ ছাড়া তার নেতৃত্বে ২০১৪ সালে সমুদ্র বিজয় হয়েছে। দেশের মান উন্নয়নে ও খাদ্য ঘাটতি দূর করে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ দেশকে ডিজিটালাইজেশন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মশা নির্মূল করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বিগত বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার মাঠে ছিলাম। মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস এবং কার্যকরী মশার ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করেছি। দুই মেয়র এ বিষয়ে কাজ করছেন। মেয়ররা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন। ময়লা-আবর্জনার শহর থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তরে কাজ করে যাচ্ছি। বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও কাজ করছি।’ 

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস যখন পৃথিবীর মানুষের জীবন বিপন্ন করে তুলেছে। তখন শেখ হাসিনা বাংলার মানুষকে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়ে, প্রেরণা আর সাহস দিয়ে আগলে রেখেছেন। সব ক্ষেত্রে ঘোষণা করেছেন বিশেষ প্রণোদনা। সারা দেশে ত্রাণ বিতরণ করে দুঃখী মানুষের মুখে তুলে দিয়েছেন খাদ্য।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। তার সুদৃঢ় নেতৃত্বেই বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ দেশের জন্য তিনি যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকেই ফুটপাত দখল করে রাখেন, সড়ক দখল করে রাখেন। বিশাল বিশাল অট্টালিকা বানান, কিন্তু তার সরঞ্জাম পড়ে থাকে ফুটপাতে, সড়কে। এই অবৈধ মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসুন। নইলে অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেব।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সব থেকে বেশি পছন্দ করেন শিশুদের, খেটে খাওয়া মানুষদের। তাই আজকে আমরা ৭৪ জন শিশু নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। আমাদের সিটি করপোরেশনের যারা পরিচ্ছন্নতাকর্মী, প্রতিদিন শহরটাকে যারা সুন্দর রাখেন, তাদেরই বাচ্চারা এখানে অংশ নিয়েছে। তাদের দিয়ে পায়রা উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন করা হচ্ছে।’