শুভশক্তির জয় হোক

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৯:১৩

সম্পাদকীয়

আজ শুভ বিজয়া দশমী। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তিপর্ব ‘দেবীদুর্গার বিসর্জন’। এ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীদুর্গার পৃথিবীতে অবস্থান এ বছরের মতো শেষ হবে। মর্ত্য থেকে দেবী ফিরে যাবেন কৈলাশে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এ বছর দুর্গাপূজা অনাড়ম্বরভাবে উদযাপিত হলেও রাজধানীসহ সারা দেশে আলোকোজ্জ্বল অসংখ্য মন্ডপে চিরায়ত ঢাকের তালে তালে আলোড়িত হয়েছে মানুষের হৃদয়। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়র সবচেয়ে বৃহৎ জাতীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আদিতে চৈত্র মাস তথা বসন্তকালে এই পূজা হতো, যা ‘বাসন্তীপূজা’ নামে খ্যাত। তবে শরৎকালে অনুষ্ঠিত শারদীয় দুর্গাপূজাই অধিক জনপ্রিয়।

২১ অক্টোবর বোধনের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের আচার পর্ব শুরু হলেও মূলত ২২ অক্টোবর ‘দুর্গাষষ্ঠী’র মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠিকতা শুরু হয়, ষষ্ঠীর দিন সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে শুরু হওয়া বন্দনা পূজার সমাপন হয় বিহিত পূজায়। আবাহনের মাধ্যমে মূল মন্ডপে দেবী আসীন হওয়ার পর সন্ধ্যায় দেবীর অধিবাস সম্পন্ন হয়। ২৩ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ২৪ অক্টোবর মহাঅষ্টমী, ২৫ অক্টোবর মহানবমী এবং আজ ২৬ অক্টোবর ‘বিজয়া দশমী’র মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজার শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়েছে। এমনকি অষ্টমী তিথির কুমারী পূজাও এবার ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, সামাজিক মিলন উৎসবও বটে। এ পূজার সময় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সম্প্রীতির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জাতির ঐহিক ও পারত্রিক তথা সামগ্রিক কল্যাণই দুর্গাপূজার মূল লক্ষ্য। অশুভ অসুর শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুভ দেবশক্তির চূড়ান্ত বিজয়ের দিন হিসেবেই দুর্গাপূজার দশমীর দিনটিকে বলা হয় ‘বিজয়া দশমী’। অসুরকুলের দম্ভ-দৌরাত্ম্য থেকে দেবকুলকে রক্ষায় মাতৃরূপী ও শক্তিরূপী দেবী দুর্গার আগমন। অসুরদের দলপতি মহিষাসুরকে বধ করে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা দেবকুলকে রক্ষা করেন। অন্যায় ও অশুভকে পরাস্ত করার মাধ্যমে ন্যায় ও শুভবোধের প্রতিষ্ঠা ঘটে। দেবী দুর্গা সত্য, শুভ ও ন্যায়ের পক্ষের সংগ্রামে মর্ত্যরে মানুষকেও সাহসী করে তোলেন। দূর করে দেন যত গ্লানি, হিংসা-বিদ্বেষ, মনের দৈন্য ও কলুষ। যাবতীয় মহৎ গুণাবলির প্রতি দেবী দুর্গা মানুষকে আকৃষ্ট করেন। ফলে সত্য শুভ ও কল্যাণের এক গভীর প্রতীকী ব্যঞ্জনা নিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব হয়ে ওঠে সর্বজনীন।

পৃথিবীর সব ধর্মে মানবিক সম্পর্কের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আধ্যাত্মিক দিক থেকেও আত্মিক শুচিতা ও বিশুদ্ধতা অর্জন এবং তা লালন করাই পরম লক্ষ্য। কিন্তু মানুষ কখনো কখনো সততা, বিশ্বাস ও ন্যায়নীতিতে অবিচল থাকতে পারে না। ক্রোধ-নিষ্ঠুরতা-জিঘাংসা বাসা বাঁধে মনে। এক অর্থে মহিষাসুর মানব মনের এই নেতিবাচকতা, যা মানুষকে নিয়ে যায় হিংসা, বিদ্বেষ আর কলুষতার পথে তারই প্রতীক। দেবী দুর্গা তার শুভ আবির্ভাবে মানুষকে সেই পতন থেকে রক্ষা করেন। সবাই মিলে এই উৎসব-পার্বণ পালনের মধ্য দিয়েই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সৌহার্দের বন্ধন আরো দৃঢ় হোক। জয় হোক শুভশক্তির।

পিডিএসও/হেলাল