টিউশন ফি আদায় সুগম, অভিভাবকরা নাখোশ

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ০৮:০২

বদরুল আলম মজুমদার

নভেল করোনাভাইরাস মহামারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও মাসিক টিউশন ফি আদায় করতে পারবে। গতকাল বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে টিউশন ফি আদায়ের অনুমতি দিয়েছে। তবে তাতে বলা হয়েছে, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার বা উন্নয়ন ফির নামে আনুষঙ্গিক অন্যান্য ফি এ বছর আদায় করা যাবে না। তাছাড়া আর্থিক অক্ষমতার কারণে যেসব অভিভাবক টিউশন ফি দিতে পারবেন না তাদের সন্তানদের শিক্ষা জীবন যাতে ব্যাহত না হয় সে বিষয়েও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এমন ঘোষণায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সন্তুষ্ট হলেও অনেক অভিভাবক খুশি হতে পারেননি। কোভিড-১৯ মহামারির শুরু থেকেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের টিউশন ফি মওফুক চেয়ে আসছেন। তবে মাউশি অধিদপ্তরের সর্বশেষ আদেশের ফলে টিউশন ফি থেকে রেহাই পাওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকল না। অসচ্ছল অভিভাবকদের কাছ থেকে ফি আদায় না করার যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তার সুযোগ অনেক অভিভাবকই নিতে পারবেন না বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে উত্তরা হাইস্কুলের অভিভাবক ফোরামের সভাপতি আমান উল্লাহ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘সরকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষেই কথা বলেছে। শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার নাম করে টাকা আদায় করা হলেও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগ শিক্ষকই বেতন পান না। আর পুনঃভর্তির ফি বাদে অন্য ফিগুলো মওকুফে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। অসচ্ছল বলে যাদের কথা অধিদপ্তর বলছে, সে সুবিধাটা অনেক অভিভাবক লোকলজ্জায় নিতেও পারবেন না। বলতে গেলে সরকার তেলা মাথায় তেল দিল। তারপরও আমরা বলব, এবার সব প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষক যাতে শতভাগ বেতন পান সেটা নিয়ে সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে।’

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এমন নির্দেশনা চাইনি। যারা পুরোপুরি আর্থিক সংকটে আছেন তাদের জন্য টিউশন ফি পুরোটাই ফ্রি করতে হবে। আর যারা মোটামুটি আর্থিক সংকটে আছেন তাদের জন্য হাফ টিউশন ফি করতে হবে। টিউশন ফির ক্ষেত্রে কোন কোন খাত থেকে বাদ দেওয়া হবে সেটিও নির্দিষ্ট করে দিতে হবে।’

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আজকের অদেশের ফলে আমাদের অভিভাবকদের কিছু অসুবিধা হয়তো হবে। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন বন্ধ বা অকার্যকর হয়ে না যায় কিংবা বেতন না পেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবন যেন চরম সংকটে পতিত না হয় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যেন কোনো কারণে ব্যাহত না হয় সে বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যতশীল হতে হবে।’

মাউশি অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন বা উন্নয়ন ফির মতো অনুষাঙ্গিক ফি এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান আদায় করে থাকলে তা ফেরত দিতে হবে অথবা টিউশন ফির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। অপরদিকে কোনো অভিভাবক চরম আর্থিক সংকটে থাকলে তার সন্তানের টিউশন ফির বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনা করবে। কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যাতে ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে যতশীল হতে বলা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেদিকে খেয়াল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক ওমর ফারুক অবশ্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘টিউশন ফি গ্রহণে কিছুটা ছাড় দিতে বলা হয়েছে। এতে অভিভাবকরাও যেমন উপকৃত হবেন তেমনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপকৃত হবেন।’ আরেক শিক্ষক মারুফ হাসান বলেন, ‘সরকার ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘদিন শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন না। টিউশন ফি আদায় না করলে শিক্ষকরা চলবে কী করে? সব দিক বিবেচনা করতে হবে।’

অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তে শিক্ষকরা খুশি হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত। অনেক প্রতিষ্ঠান নানা অজুহাতে শিক্ষক ছাঁটাইসহ বেতন-ভাতা কমিয়ে দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বেতনও দেওয়া হয় না। কোভিড-১৯ এর কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে।

পিডিএসও/হেলাল