নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
দুজন চিকিৎসককে শোকজ
নবাবগঞ্জে অ্যান্টিভেনম না পেয়ে চালকের মৃত্যু

ঢাকার নবাবগঞ্জে অ্যান্টিভেনম থাকা সত্ত্বেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের অবহেলায় মহানন্দ (৫০) নামে ইজিবাইক চালকের মৃত্যুর অভিযোগে দুজন চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকেলের দিকে দুজন চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। আগামী ৩ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া দুজন হলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নাসিফ আনোয়ার ও এ টি এম সিদ্দিকুর রহমান।
মহানন্দ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পানিকাউর এলাকার পান্নাথ মন্ডলের ছেলে।
জানা যায়, মহানন্দ সোমবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে অটো গাড়ি গ্যারেজে রেখে বাড়িতে ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি আসতেই তাকে একটি সাপে ছোবল দেয়। পরে স্বজনরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর নেওয়া হয় মিটফোর্ড হাসপাতালে। সেখান থেকে অন্য একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, নিহতের স্বজনরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে পেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে মঙ্গলবার দুজন চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (প.প) শহিদুল ইসলাম বলেন, সাপেকাটা রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি তিনি মঙ্গলবার সকালে জেনেছেন। ভ্যাকসিন থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা না দিয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করায় চিকিৎসক নাসিফ আনোয়ার ও এ টি এম সিদ্দিকুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অ্যান্টিভেনম থাকা সত্ত্বেও কেন তা দেওয়া হলো না এমন প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসক নাসিফ আনোয়ার বলেন, হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম ছিল। কিন্তু ওই সময় রোগীর আইসিওর প্রয়োজন পড়ে। আমাদের হাসপাতালে আইসিও না থাকায় এবং রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে মিটফোর্টে স্থানান্তর করা হয়। কারণ দর্শানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা স্বীকার করেন।
এদিকে জানতে চেয়ে চিকিৎসক এ টি এম সিদ্দিকুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তার কোনো সাড়া মেলেনি।
পিডিএস/আরডি









































