গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ

  ১৭ আগস্ট, ২০২২

৫২ তাসের ৫৩ খেলা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

বিশ্ব জোড়া জনপ্রিয় একটি খেলা হলো তাস খেলা। পৃথিবীর প্রায় সব দেশের মানুষই অন্ততপক্ষে তাস খেলা না জানলেও প্রায় সবাই তাস দেখেছেন বা এর নাম শুনেছেন। ভার্সিটিতে পড়েছেন অথচ খেলাচ্ছলে জীবনে কখনো তাস হাতে নেননি এমন মানুষ বিরল। তাস মোট চার ভাগে বিভক্ত। সেগুলো হলো ইস্কাপন, হরতন, রুইতন এবং চিড়তন।

প্রায় সবাই শুনে থাকবেন ৫২টা তাসের ৫৩টা খেলা রয়েছে। জুয়া খেলা একটি অনৈতিক কাজ হলেও এই তাস খেলায় চলে জুয়াও। বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে- জুয়া খলা নিরোধে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জুয়া হরেক রকমের হয়ে থাকে। তার মধ্যে তাসের জুয়া একটি বিরাট জায়গা দখল করে নিয়েছে। বাস্তবে সিরাজগঞ্জ জেলা শহরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই চলছে তাসের জুয়া খেলা।

তাছাড়া গ্রাম এলাকায় বিভিন্ন বাগানে, বৈঠক ঘরে, নির্জন স্থানে ও বিভিন্ন জায়গায় তাসের জুয়া খেলা চলে। গ্রামাঞ্চলে দেখা যায়, অনেকে জুয়া খেলায় মত্ত থেকে সময় কাটায়। দিবারাত্রি চলে তাসের খেলা। যারা জুয়ায় বাজি ধরেন তাদের বলা হয় জুয়াড়ি।

অভ্যাসগত জুয়াড়িরা পকেটে টাকা আছে কি নেই; সে নিয়ে মাথা ঘামান না। তারা একবার জুয়ায় বসে ক্রমাগতভাবে হারতে থাকলেও দেখা যায় অন্য জুয়াড়িদের থেকে ধারকর্জ করেও খেলা অব্যাহত রাখেন। জুয়া খেলায় হার-জিত থাকায় উভয়টি সমন্বয় করলে দেখা যায় বেশির ভাগের হারের পাল্লাই ভারী। অভ্যাসগত জুয়াড়িদের অনেকে জুয়া খেলতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন; এমন নজির ভূরি ভূরি। অভ্যাসগত জুয়াড়িদের মধ্যে অনেকে হেরে যখন শূন্য পকেটে ঘরে ফেরে, তখন স্ত্রীর উপর চড়াও হয়। তাদের মধ্যে একটি অন্ধ বিশ্বাস কাজ করে তারা খেলায় মত্ত থাকাকালীন স্ত্রীর অভিশাপে হারের ঘটনা ঘটেছে। তাই ঘরে ফিরে স্ত্রীকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে হারের মনোজ্বালা হালকা করার চেষ্টা করে।

দুর্ভাগ্য যে, সংবিধান কার্যকর হওয়ার দীর্ঘ দিন অতিক্রান্ত হলেও এ বিষয়ে কঠোর সাজার বিধান রেখে কার্যকর আইন প্রণয়নের উদ্যোগও নেয়া হয়নি। কিন্তু তারা যথাযথভাবে সচেষ্ট নয় বলেই দুর্বল আইনের নামমাত্র সাজার ফাঁকফোকর গলিয়ে বাধাহীনভাবে চলছে তাসের জুয়া খেলা।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
৫২ তাসের,৫৩ খেলা
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়