রাজশাহী ব্যুরো

  ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ফাঁদ পাততেন দুই নারী শিক্ষক

শিক্ষকতার পরিচয়ের আড়ালে ফাঁদে ফেলে টার্গেট লোকদের ব্ল্যাকমেইল করতেন দুই নারী শিক্ষক। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) একটি সংবাদ ব্রিফিংয়ে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত একজন সার্জেন্টকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) একটি টিম। এরপর প্রাথমিক তদন্তে ওই দুই নারী শিক্ষকের প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে।

প্রতারক ওই দুই স্কুলশিক্ষক হচ্ছেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার বালিচ গ্রামের আইরিন ইয়াসমিন লিজা (৩৪) ও ঢাকার সাভারের ডেন্ডাবর নতুনপাড়ার বাসিন্দা শামীমা আক্তার (২৪)। তারা দুজনেই সাভারের একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, মৃত ওই অবসরপ্রাপ্ত মজিবুর রহমান রাজশাহীতে প্লট কেনাবেচা এবং প্রাইভেটকার ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা করতেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি নগরীর উপশহরের দুই নম্বর সেক্টরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার ছেলে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই দুই নারী শিক্ষকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এরপরই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, তাদের কাছ থেকে মৃত মজিবুর রহমানের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, শিক্ষকতা পেশার আড়ালে এ দুই নারী মানুষকে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আইরিন জানিয়েছেন, মজিবুর রহমানের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিলো। গত ৬ ফেব্রুয়ারি তারা দুজন স্বেচ্ছায় মজিবুরের বাড়ি এসেছিলেন। ওই রাতে তারা মজিবুরের পাশের ঘরে শুয়ে ছিলেন। পরে মজিবুর রহমান ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে আইরিনকে তার ঘরে ডাকেন। তখন আইরিন না গেলে ম্যাসেঞ্জারেই তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর মজিবুর জানান, রাত ৩টার মধ্যে আইরিন না গেলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। তখন আইরিন ম্যাসেঞ্জার এবং এসএমএসের মাধ্যমে মজিবুর রহমানকে মরতেই বলেন। অভিমানে মজিবুর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

পরদিন সকালে আইরিন ও শামীমা তার ঝুলন্ত লাশ দেখে বাড়ি থেকে মজিবুরের মোবাইল, বাড়ির চাবি এবং নগদ চার লাখ টাকা ও কিছু কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যান।

আরএমপি কমিশনার আরো বলেন, প্রাথমিক তদন্তে প্রতিয়মান হয়েছে এ দুই নারী ব্ল্যাকমেইল চক্রের সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, দুজনকে মজিবুরের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।  

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
নারী শিক্ষক,প্রেমের সম্পর্ক
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close