কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

  ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

কমলগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি। বিশেষ করে শিক্ষকদের অসচেতনতায় শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসা, মাস্ক ব্যবহার না করাসহ সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন না শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার উপজেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গেলে এই চিত্র চোখে পড়ে। সরকারি নির্দেশনায় গত রবিবার থেকে সকল স্কুল-কলেজে পাঠদান শুরু হয়। 

সরেজমিনে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের তিলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ও অফিস ও শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়। এসময় স্কুলের বারান্ধায় মাস্ক বিহীন অবস্থায় ৫ম শ্রেণির ছাত্র সোহান আহমদ, আহমদ জামান, আব্দুর রহিম ও তুহিনা বেগমকে বই-খাতা হাতে নিয়ে বারান্দায় বসে থাকতে দেখা যায়।

শিক্ষকরা কখন আসবে জানতে চাইলে তারা জানায়, পাশেই প্রধান শিক্ষিকার বাসা। এখনই হয়তো চলে আসবেন। স্কুলে প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থান করার পর সহকারী শিক্ষক নিলিমা সিনহা এসে শিক্ষার্থীদের দিয়ে শ্রেণি কক্ষের তালা খুলিয়ে জাতীয় পতাকা টানান।

আরেকটু পরে আরেক সহকারী শিক্ষক জুলেখা বেগম বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। আসতে দেরি কেন জানতে চাইলে বলেন, তার এক শিশু বাচ্চাকে অন্য একটি বিদ্যালয়ে দিয়ে আসতে গিয়ে দেরি হয়ে গেছে। প্রধান শিক্ষিকার ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, প্রধান শিক্ষক প্রতিনিয়তই বিদ্যালয়ে দেরিতে আসেন। 

একই ইউনিয়নের নয়াপত্তন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলেও দেখা যায় সকাল ১০টার পর বিদ্যালয়ে আসেন সহকারি শিক্ষকরা। অফিস কক্ষের সামনে বারান্দায় বসে আছে কুকুর। তাছাড়া স্কুলটিতে বসার বেঞ্চ সংকটের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই এক সাথে গাদাগদি করে বসে কোনরকম পাঠদান করা হচ্ছে। 

এদিকে ডা. চেরাগ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থাও ভয়াবহ। শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন ঠিকই তবে নেই কোন স্বাস্থ্য সচেতনতা। শিক্ষার্থীদের হাতে ও গলায় মাস্ক থাকলেও নেই মুখে।

তেতইগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাহিরে শিক্ষার্থীদের মাস্ক ও তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র দিয়ে তাপ পরিমাপ করতে দেখা গেছে। তবে শ্রেণিকক্ষে আসন বিন্যাস দুরত্ব বজায় রাখা হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি হওয়া এখানেও গাদাগাদি করে পাঠদান করতে দেখা গেছে।

কমলগঞ্জ সরকারি গণমহাবিদ্যালয়ের সম্মুখে ও ক্যাম্পাসে মাস্ক বিহীন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের অবাধ বিচরণ দেখা গেছে। ক্লাসেও কিছু কিছু শিক্ষার্থীদের মাস্ক বিহীন অবস্থায় পাঠ গ্রহণ ও গাদাগাদি অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। 

আলাপকালে তিলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘তিনি প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসেন। অসুস্থ্যতার কারণে আজ আসতে দেরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিদ্যালয়ের তালা খোলানো ও শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘দুই একটি বিদ্যালয়ের কারণে পুরো উপজেলার বদনাম হবে তা মেনে নেয়া যায়না। বিদ্যালয় সমুহের  বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পিডিএসও/এসএমএস

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমলগঞ্জ,মৌলভীবাজার
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close