মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

  ২১ জুন, ২০২১

মাদ্রাসা থেকে পালাতে ছাদ থেকে লাফ, শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকায় ৫তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পালাতে গিয়ে মো. ফয়সাল (১২) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

নিহত শিক্ষার্থী ফয়সাল জেলার বি-পাড়া উপজেলার মহালক্ষীপাড়া গ্রামের মৃত আবুল ফজল মাষ্টারের ছোট ছেলে। 

রোববার বিকেলে বাঙ্গরা বাজারের মারকাযুস সুন্নাহ মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। ফয়সাল উক্ত মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। সে গত ৭ জুন মাদ্রাসায় ভর্তি হয়।

জানা যায়, শিক্ষার্থী ফয়সাল কয়েকদিন ধরে বাড়িতে যাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করছিল। কিন্তু মাদ্রাসা থেকে যেতে দেয়া হয়নি। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার জন্য বলা হয়। পরে রোববার বিকালে প্রতিদিনের মত শিক্ষকদের সাথে ফয়সাল মাদ্রাসার ছাদে উঠে। মাগরিবের নামাজের পূর্বে সকল শিক্ষার্থীরা যখন ছাদ থেকে নামতে যায় তখন ফয়সাল দৌড়ে গিয়ে ছাদ থেকে লাফ দিলে ভবনের পাশে থাকা দোকানের টিনের চালা ভেঙে মাটিতে পড়ে যায়। সাথে সাথে মাদ্রাসা ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মারকাযুস সুন্নাহ মাদ্রাসাটি ওই ভবনের ৫ম তলায় অবস্থিত। খেলাধূলার জন্য ছাত্রদেরকে নিচে নামতে না দিয়ে প্রতিদিন ছাদে নেয়া হয়। ছাদের চারদিকে অল্প উচ্চতার রেলিং দেয়া থাকলেও তা ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়। যা খেলাধূলার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বাঙ্গরা বাজারে এমন আরো ৩টি মাদ্রাসা রয়েছে যেগুলো ৪তলা এবং ৫তলায় অবস্থিত। এবিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মারকাযুস সুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষক মামুন মিয়া জানান, আসর নামাজের পর আমি ও আরেকজন শিক্ষক ছাত্রদের সাথে ছাদে ছিলাম। যখন সময় শেষ তখন ছাত্রদেরকে একসাথে করে নামতে বলি। অন্যরা নামার জন্য আসলেও ফয়সাল না এসে দৌড়ে গিয়ে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যায়। 

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মো. আরিফ হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার সময় মাদ্রাসার পাশে এক দোকানে বসা ছিলাম। আমাকে যখন জানানো হয় তখন যে দোকানের চালার উপর পড়েছে সেই দোকানে যাই। দোকানটি তখন তালাবদ্ধ ছিল। দোকানদারকে দিয়ে তালা খুলে ভিতয়ে গিয়ে দেখি ফয়সাল মাটিতে পড়ে আছে। তার মাথা দিয়ে রক্ত পড়ছে। তাৎক্ষণিকভাবে আমরা তাকে মুরাদনগর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই। তখন ডাক্তার দেখে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, ফয়সাল এর আগেও কয়েকটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে এসেছে। আমার আত্মীয় হওয়ায় তার মা তাকে আমার এখানে এনে ভর্তি করান। সে যেন আবার পালিয়ে না যায় সে জন্য আমরা তাকে সবসময় চোখে চোখে রাখতাম।

শিক্ষার্থী ফয়সালের মা, বড় ভাই ও মামার সাথে কথা বললে তারা জানান, আত্মীয়ের মাদ্রাসা হওয়ায় তার (ফয়সালের) ভালোর জন্যই ভর্তি করিয়েছি যেন হাফেজ হতে পারে। আমাদের ভাগ্যে হয়তো নেই। মাদ্রাসার বিরুদ্ধে তাদের কোনও অভিযোগ নেই বলেও জানান।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পিডিএসও/এসএম শামীম

 

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মুরাদনগর,কুমিল্লা,মাদ্রাসাছাত্র,শিক্ষার্থীর মৃত্যু
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close