আরফাতুল মজিদ, কক্সবাজার

  ০২ ডিসেম্বর, ২০২০

দুই সেতুর শুধু খুঁটি দাঁড়িয়ে ১৪ বছর

*ভেঙে যাচ্ছে পিলার, চুরি হচ্ছে নির্মাণসামগ্রী *রাজনৈতিক কারণে আত্মগোপনে ঠিকাদার *প্রকল্প মেয়াদ পেরিয়েছে ১০ বছর, এখন অর্থ সংকট

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার উত্তর প্রান্তঘেঁষে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে মাতামুহুরী নদী। মাঝে পেকুয়ার উজানটিয়া নদী ছেদ করে গেছে। এই মাতামুহুরী-উজানটিয়া মোহনায় ১৪ বছর আগে সেতু নির্মাণ শুরু করলেও পিলার বা খুঁটি স্থাপন করার পর আর কিছুই হয়নি। একই অবস্থা সৈকতবাজার এলাকায় উজানটিয়া নদীতে নির্মাণাধীন আরেকটি সেতুর। ১০ বছর আগে শেষ হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। অরক্ষিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ভেঙে পড়ছে খুঁটি, চুরি হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী। তার পরও খোঁজ নেই ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের মে মাসে মাতামুহুরী-উজানটিয়া মোহনায় মাসে ২৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের পেকুয়া-মহেশখালী সংযোগ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। একই সময়ে উজানটিয়ার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ করিয়ারদিয়া জনপদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সৈকতবাজার এলাকায় উজানটিয়া নদীতে ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরো একটি সেতুর কাজ শুরু হয়। এ প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১০ সালের ৩০ এপ্রিল। সে সময় এ দুটি সেতুর পিলারের কাজ শেষ করা হয়। কিন্তু এক-এগারোর পর দেশে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে সবকিছু থমকে যায়। সেই থেকে ১৪ বছর ধরে সেতু দুটির নির্মাণ কাজ বন্ধ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেকুয়া-মহেশখালী সংযোগ সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সৈকতবাজার এলাকায় সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। দুটি সেতুরই কাজ পান প্রতিমন্ত্রীর অনুসারী ঠিকাদার গিয়াস উদ্দিনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স চকোরী কনস্ট্রাকশন। কিন্তু ১/১১-এর পর ঠিকাদার আত্মগোপনে চলে গেলে সেতু দুটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে জোট সরকারের সময় শুরু হওয়া এ সেতু নির্মাণকাজ আওয়ামী লীগ সরকারেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় লোকজন।

সরেজমিনে দেখা যায়, করিমদাদ মিয়ার ঘাট এলাকায় নির্মাণ হতে যাওয়ার মতো পেকুয়া-মহেশখালী সংযোগ সেতুটির উদ্বোধনের নামফলকটি ক্ষয়ে গেছে। নদীর তলদেশ থেকে নির্মাণ করা পিলারগুলো পানির স্রোতে কাত হয়ে যাচ্ছে। পিলার ভেঙে প্রায় অর্ধেক অংশের লোহার রড কেটে নিয়ে গেছে অজ্ঞাতরা। সেতুর মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী চুরি হয়ে গেছে অনেক আগেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতু দুটি নির্মিত হলে উজানটিয়া ও মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগে নতুন দ্বার খুলে যাবে। কিন্তু আজ এত বছর ধরে সেতুর নির্মাণকাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর নেই।

করিয়ারদিয়া এলাকার বাসিন্দা জিয়াবুল হক জিকু বলেন, সেতু দুটি নির্মিত হলে চিংড়ি ও লবণ পরিবহনের খরচ কমে যাবে। এতে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বর্তমানে এ এলাকার বাসিন্দাদের কাদা মাড়িয়ে নৌকায় চড়ে নদী পার হতে হয়।

উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ দুটি সেতু নির্মাণকাজ শেষ করার ব্যাপারে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছি। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে একটি টিম এসে পরিদর্শন করে গিয়েছিল। তারা সেতু দুটি অতি শিগগির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সাত বছরেও তাদের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। তবে সেতুটি নির্মিত হলে উপকূলীয় অবহেলিত অঞ্চলগুলোর মাঝে উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হবে।

পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জাহেদুল আলম চৌধুরী এ ব্যাপারে বলেন, সেতু দুটির নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১০ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদার কাজ না করায় কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। তিনি আরো বলেন, সেতু নির্মাণ প্রকল্পে এখন টাকার সংকট রয়েছে। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি এ প্রকল্পের ডিপিটি সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাস হলেই ফের দরপত্র আহ্বান করা হবে।

পিডিএসও/হেলাল

খুঁটি,সেতু,প্রকল্প,পেকুয়া-মহেশখালী সংযোগ সেতু
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়