নড়াইল সরকারি শিশু পরিবার

নির্যাতন-অসদাচরণের অভিযোগ এতিম শিশু নিবাসীদের

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

নড়াইল প্রতিনিধি

‘অসুস্থ হলে চিকিৎসা মেলে না। কারণে অকারণে চলে নির্যাতন। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না’- এসব অভিযোগ নড়াইল সরকারি শিশু পরিবারের এতিম নিবাসীদের। শিশু পরিবার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এসব নির্যাতন-অসদাচরণের অভিযোগে গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেছে শিশুরা। পরে এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে নড়াইল সরকারি শিশু পরিবারে গেলে নবম শ্রেণির ছাত্র মো. তৌফিক, ৭ম শ্রেণির আসিফ গাজী, ৬ষ্ঠ শ্রেণির রবি, মুন্না, প্রিন্স ও ৪র্থ শ্রেণির হুসাইনসহ অনেকেই অভিযোগ করে ৭ম শ্রেণির ছাত্র সোহান সিকদার ১০-১২ দিন ধরে অসুস্থ থাকলেও তার ঠিকমতো চিকিৎসা করা হচ্ছিল না। তার চিকিৎসার দাবি তুললে কর্তৃপক্ষ পুলিশ নিয়ে রাতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে তুলে কান ধরায় ও চড়থাপ্পড় মারে। এ সময় পুলিশ বলেছে, ‘তোরা গাঁজা ও ফেনসিডিলখোর, জঙ্গি-সন্ত্রাসী হবি। কখনো মানুষ হতে পারবি না।’

তারা আরো জানায়, তাদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ প্রায় সময় অসদাচরণ করে। এক কারিগরি প্রশিক্ষক প্রায়ই তাদের জন্য বরাদ্দ বিস্কুট, মুড়ি, চানাচুর নিয়ে যায়। ডরমেটরিতে ৩০টি ফ্যানের মধ্যে ৭টি ফ্যান নষ্ট। পানি খাওয়ার জগ নেই, গ্লাস নেই। দুপুরের রান্না খাবার রাতে খেতে দেয়।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক আসাদুল্লাহ বলেন, আমরা তাদের সঙ্গে সবসময় ভালো ব্যবহার করি। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর তাদের কিছু দিন ধরে খেলতে ও পুকুরে সাঁতার কাটতে দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে তারা উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠতে পারে। তিনি জানান, শিশু পরিবারে ৬৬ জন ভর্তি থাকলেও নিবাসী উপস্থিত থাকে ৫০-৫৫ জন। কিন্তু সবার জন্যই খাবার রান্না হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রতন হালদার বলেন, শিশুরা কিছুটা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করছে। তারা রোববার রাতে ডরমেটরির চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছে। শব্দ পেয়ে টহল পুলিশ অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে। তবে কাউকে মারধর করেনি। তিনি আরো বলেন, আমরা বরাদ্দের বাইরে তো তাদের দিতে পারি না। তারপরও তাদের অভাব-অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত টিম গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, শিশুরা কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছে। এ নিয়ে আমরা শিশু পরিবারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কীভাবে এর সুষ্ঠু সমাধান করা যায়, সেটা দেখছি।

 

"