ভঙ্গুর বেলকুচি-উল্লাপাড়া সড়কে জনদুর্ভোগ

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার মুকুন্দগাঁতী থেকে কান্দাপাড়া হয়ে উল্লাপাড়া পর্যন্ত সংযোগ সড়কের বর্তমানে বেহাল অবস্থা। খানাখন্দে ভরা সড়কটির মাঝে মাঝে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

সরেজমিন দেখা যায়, বেলকুচি উপজেলার মামুদপুর, কামারপাড়া, কান্দাপাড়ার বিভিন্ন অংশে কান্দাপাড়া বাজার থেকে উল্লাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই করুণ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা কান্দাপাড়া বাজার থেকে উল্লাপাড়া পর্যন্ত।

এলাকাবাসী জানান, বেলকুচির মুকুন্দগাঁতী থেকে কান্দাপাড়া উল্লাপাড়ার সংযোগ সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দে ভরে গেছে। প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে এই রাস্তায়। যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি সড়কের পিচ, সুরকি, ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ওইসব গর্তে পানি আটকে থাকে। এতে যানবাহন দুর্ঘটনায় কবলিত হয় অনবরত। বিশেষ করে কোমলমতি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাতায়াত করে এই সড়ক দিয়ে। এই ভাঙা সড়ক দিয়ে তাদের চলাচল করতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এই সড়কে চলাচলকারী আবদুস সালাম, রহিমা বেগম, স্কুলছাত্রী কানিজ ফাতেমা জানান, সড়ক দিয়ে যানবাহন দূরে থাক পায়ে হেঁটে চলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রতি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সোহাগপুর শ্যাম কিশোর পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে ছাত্র ফাহিম হোসেন জানায়, রাস্তার বেহাল দশার কারণে চলাচল করতে শিক্ষার্থীদের খুবই অসুবিধা হয়। ভ্যানচালক আরিফ জানান, রাস্তায় গর্তে পানি থাকায় গাড়ি চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে রাস্তার সংস্কার করা প্রয়োজন। গাড়ি চালাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অটোভ্যান চালক আবদুল কাদের জানান, রাস্তায় গর্তের কারণে ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারি না। এত খারাপ হওয়ার পরেও রাস্তা সংস্কার হচ্ছে না। উল্লাপাড়া থেকে আগত সিএনজি চালক শরীফ জানান, এই সড়কের মাঝে মাঝে ছোট-বড় গর্তের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই। তারপরও ঝুঁকিক নিয়েই গাড়ি চালাতে হয়।

এ ব্যাপারে বেলকুচি উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাজেদুল জানান, উল্লাপাড়া সংযোগ সড়ক সংস্কারের বিষয়ে জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। অচিরেই কাজ হওয়ার কথা।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামাণিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে উপসহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌস জামান জানিয়েছেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

"