reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নদীতেও অদম্য ব্যাংকার বেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ : তিস্তায় সাঁতরানোর আগে কতটা প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছিলেন?

আরিফুর রহমান বেলাল : ব্যাংকে চাকরি করে আর কতটা প্রস্তুতির সুযোগ পাওয়া যায়? তারপরেও মোটামুটি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এত বড় ইভেন্ট প্রস্তুতি ছাড়া তো আর নদীতে নামা যায় না। শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন সাইকেলিং, দৌড় আর সাতার এই তিন আইটেম প্রায় চার ঘণ্টা অনুশীলন করি।

 

প্রতিদিনের সংবাদ : এর আগে কত কিলোমিটার সাঁতরানোর অভিজ্ঞতা আছে?

আরিফুর রহমান বেলাল : এর আগে আমি প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই বাংলাদেশে সবচেয়ে অ্যাডভেঞ্চার বাংলা চ্যানেলের (১৬.১ কিমি) পাড়ি দিয়েছিলাম। যেখানে আমার সময় লেগেছিল ৪ ঘণ্টা ৭ মিনিটে। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে আসার ৪৪ জন সাঁতারুর মধ্যে আমি ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছিলাম। বঙ্গবন্ধু শেখ মজিব ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথনে (৪২.২ কিমি) ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট শেষ করি এবং শমসেরনগর আলট্রা ট্রেইল (৫০ কিমি) ৪ ঘণ্টা ১৯ মিনিট শেষ করে চতুর্থ স্থান অর্জন করি।

 

প্রতিদিনের সংবাদ : প্রতিদিন কত সময় অনুশীলন করেন?

আরিফুর রহমান বেলাল : পরিবারকে সময় দিয়ে তেমন অনুশীলন করা যায় না। তারপরও নিজের স্বপ্নকে ধরতে অনুশীলন করে যায়। এর পেছনে আমার স্ত্রীর যথেষ্ঠ সাপোর্ট রয়েছে। দুই ছেলে এক মেয়ে তারাও আমার সফলতায় খুশি হয়। তিস্তায় নামার আগে আলাদা করে তেমন অনুশীলনের সুযোগ পাইনি। প্রতিদিন যেমন অনুশীলন করি তেমন করেই তিস্তায় নেমেছিলাম।

 

প্রতিদিনের সংবাদ : সাঁতরানোর সময় কী কী সমস্যায় পড়তে হয়েছিল?

আরিফুর রহমান বেলাল : দেখুন সাগর আর নদী দুটোর বাস্তবতা আলাদা। সাগরে যেমন নোনা পানির জন্য সমস্যায় পড়তে হয় তেমনি নদীতে পড়তে হয় স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের মধ্যে। আপনি জানেন যে, নদীর ঘূর্ণিপাক কতটা কঠিন। যেখানে পড়লে লঞ্চ বা ট্রলারও ডুবে যায়। সেখানে মানুষ পড়লে কেমন হতে পারে সেটা তো নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। তিস্তায় সাঁতরানোর সময় এমন ঘূর্ণির মধ্যে পরতে হয়েছে। সেখান থেকে আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনে এগোতে হয়েছে। বলতে পারেন বেশ কঠিন ও চ্যালেঞ্জের ছিল কাজটি।

 

প্রতিদিনের সংবাদ : ফিনিশিং দিতে কত সময় লাগবে বলে ধরে নিয়েছিলেন?

আরিফুর রহমান বেলাল : তিস্তায় নামার আগে ধরে নিয়েছিলাম মিনিমাম ৮-১০ ঘণ্টা তো লাগবেই। তা ছাড়া এটা ছিল (৪২ কিমি) তাই এমন সময় লাগাটাই স্বাভাবিক। তবে কম সময়ে শেষ করতে পেরেছি এটাই অনেক।

 

প্রতিদিনের সংবাদ : ব্যাংকের কাজ এবং পরিবার থাকার পরও এই ট্রায়াথলনে কীভাবে সময় দেন?

আরিফুর রহমান বেলাল : অনেক কঠিন প্রশ্ন করে ফেললেন! (হাসি...)। আমি আর আমার স্ত্রী দুজনেই ব্যাংকার। আমি বর্তমানে রাজধানী মতিঝিলের জনতা ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কাজ করছি। ব্যাংকে সারা দিন সময় দেয়ার পর পরিবারকে সময় দিতে হয়। তার মধ্যেই এগুলো করতে হচ্ছে আমার। সকালে ফজরের নামাজ পরেই হয়তো সাইকেল চালাই বা দৌড়াই। তা ছাড়া বন্ধের দিন একটু বেশি পরিশ্রম করি। বাসায় প্র্যাকটিস করার জন্য মোটামুটি সব ধরনের সরঞ্জাম কিনে রেখেছি। বাইরে যেতে না পারলে বাসায় পরিবারকে সঙ্গে নিয়েই অনুশীলন করি। বলতে পারেন ব্যাংকের কাজ এবং পরিবার থাকার পরও এই ট্রায়থলনে সময় দেওয়া অনেক কঠিন।

 

প্রতিদিনের সংবাদ : সামনের উদ্দেশ্য কী?

আরিফুর রহমান বেলাল : আমি বরাবরই দেশের জন্য কিছু করতে চায়। আর সেটা বড় সুযোগ হচ্ছে আয়রন ম্যান। আমি এটা করতে পারলে দেশের জন্য এটা বড় সম্মানের হবে। যেই স্বপ্নটা আরো দীর্ঘায়িত করে দিয়েছে করোনা মহামারি। সব ঠিক থাকলে আগামী বছর আয়রন ম্যানে অংশগ্রহণ করব ইনশাআল্লাহ।

 

প্রতিদিনের সংবাদ : ট্রায়থলনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কী কী দরকার?

আরিফুর রহমান বেলাল : শুধু অ্যাথলেট নয় যেকোনো কিছু করতে গেলেই আপনার অনুপ্রেরণা দরকার। কিন্তু আমাদের দেশের চিত্রটা অনেকটাই ভিন্ন। কেউ চায় না আপনি, আমি বা অন্য কেউ ওপরে উঠুক (হাসি...)। পরিবারের অনুপ্রেরণা তো অবশ্যই দরকার। তা ছাড়া নিজের কলিগ, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন সবারই অনুপ্রেরণা দরকার।

 

প্রতিদিনের সংবাদ : আপনার ব্যাংক থেকে কতটা সাপোর্ট পাচ্ছেন?

আরিফুর রহমান বেলাল : ব্যাংক আমাকে সুযোগ না দিলে তো আর এত দূর আসতে পারতাম না। তারপরও আমাকে যদি আরেকটু সাপোর্ট দিত তাহলে আরো ভালো কিছু করা সম্ভব। যেমন সামনে আমি দেশের বাইকে আয়রন ম্যানে যাব সেখানে যদি ব্যাংক আমাকে সাপোর্ট দেয় সেটা হবে আমার জীবনের বড় পাওয়া। আমি যদি সফলতা পাই তাহলে আমার ব্যাংকেরও সুনাম হবে। তাই ব্যাংকের সাপোর্টটা আমার অনেক জরুরি।

 

প্রতিদিনের সংবাদ : নিজের সফলতা দেখতে কেমন লাগে?

আরিফুর রহমান বেলাল : সফলতা দেখাতে কার না ভালো লাগে বলেন (হাসি...)। আমি যদি অ্যাথলেট না হতাম তাহলে কেউ আমাকে চিনত না। এখন বিভিন্ন কিছু জয় করার পর আমাকে সারা দেশের মানুষ চেনে এটাই জীবনের বড় পাওয়া। তবে আমি মনে করি একটা জিনিস পরিবর্তন হওয়া খুব জরুরি। সেটা হলো একটা প্রতিযোগিতায় যতজন ফিনিশার আছে সবাই চ্যাম্পিয়ন কিন্তু এখানে প্রথম তিনজনকেই বেশি ফোকাস করা হয় যেটা মোটেও ঠিক নয়। ধরেন যে সবার শেষে ফিনিশ করল সেই কিন্তু সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল। অথচ তার নাম কেউ বলে না। যেটা মোটেও ঠিক নয়। একটা ইভেন্টে সব ফিনিশারই চ্যাম্পিয়ন।

 

প্রতিদিনের সংবাদ : তরুণ ট্রায়থলনদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

আরিফুর রহমান বেলাল : অ্যাথলেট সবচেয়ে কঠিন কাজ। আর এই কঠিন কাজকে সহজ করতে হলে অনুশীলনের বিকল্প নেই। আপনাকে অব্যশই প্রতিদিন বেশ কয়েক ঘণ্টা অনুশীলন করতে হবে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে হবে। প্রথমে ব্যর্থ হবেন কিন্তু ভেঙে পড়লে চলবে না। আপনাকে টিকে থাকার জন্য বারবার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এভাবে করতে থাকলে এক দিন ঠিকই সফলতা ধরা দেবে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close