ফ্রান্সে শনাক্ত রোগী ছাড়াল ১০ লাখ

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে হিমশিম খাওয়া ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৪২ হাজার ৩২ জনের দেহে প্রাণঘাতী ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে। এ নিয়ে মহামারি শুরুর পর থেকে দেশটিতে মোট ১০ লাখ ৪১ হাজার ৭৫ জনের কোভিড-১৯ শনাক্ত হলো। বিশ্বের সপ্তম দেশ হিসেবে ফ্রান্স এ উদ্বেগজনক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।

শনাক্তকরণ পরীক্ষার আওতা বাড়ানোয় ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিপুলসংখ্যক কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হচ্ছে। দেশটিতে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত লকডাউনের সময় ৩১ মার্চ এক দিনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫৭৮ জন রোগী মিলেছিল। সংক্রমণের ফের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বরই ১০ হাজারের বেশি রোগী পায় দেশটি। এক মাস পর, ৯ অক্টোবর মেলে ২০ হাজারের বেশি রোগী; বৃহস্পতিবার সংখ্যাটি প্রথমবারের মতো ৪০ হাজার পেরিয়ে যায়।

শুক্রবার ফ্রান্স করোনাভাইরাসে নতুন ২৯৮ জনের মৃত্যুর খবরও দিয়েছে। এ নিয়ে কোভিড-১৯ দেশটির ৩৪ হাজার ৫০৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিল। সংক্রমণ কমাতে ফ্রান্সের সরকার দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় রাত্রিকালীন কারফিউও জারি করেছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জিন ক্যাস্টেক্স বৃহস্পতিবার জানান, করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ছয় সপ্তাহের জন্য ৩৮টি বিভাগে কারফিউর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এখানে এবং পরিস্থিতি গুরুতর। কারফিউর প্রভাব ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষের ওপর পড়বে।

এরপরও দৈনিক শনাক্তে লাগাম টানা না গেলে বিধিনিষেধ আরো কঠোর করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। শুক্রবার তিনি বলেছেন, দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ থেকে ৫ হাজারের মধ্যে নামিয়ে আনার পর কারফিউ শিথিল করা হবে। সর্বশেষ আগস্টের শেষদিকে দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন এই সীমার মধ্যে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। “অন্তত আগামী গ্রীষ্ম পর্যন্ত এই ভাইরাসকে নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে আমাদের,” বলেছেন ম্যাক্রোঁ। করোনায় ৮৪ লাখের বেশি শনাক্ত রোগী নিয়ে তালিকায় সবার ওপরে আছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের শনাক্ত রোগীও ছাড়িয়েছে ৭৮ লাখ। করোনাভাইরাসে মৃত্যু সংখ্যায় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে এখনো দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে মোট কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৩ লাখের বেশি।

 

"