প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১২ এপ্রিল, ২০২১

ভারতে লকডাউনের পথে ৫ রাজ্য

মহামারি নভেল করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল ভারত। প্রতিদিনই ভয়ানক হারে বেড়েই চলেছে সংক্রমণ। সর্বশেষ এক দিনে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দেড় লাখ। এমন অবস্থায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল রবিবার শুরু করেছেন টিকা উৎসব। তবে একের পর এক রাজ্যে যেভাবে সংক্রমণের অবনতি ঘটছে, তাতে লকডাউনের পথেই যেতে আগ্রহী রাজ্য সরকারগুলো। এরই মধ্যে আংশিক লকডাউন দিয়েছে কিছু রাজ্য। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য মহারাষ্ট্রে চলছে রাত্রিকালীন কারফিউ, মধ্যপ্রদেশে দেওয়া হয়েছে এক দিনের লকডাউন, উত্তরপ্রদেশে রাত্রিকালীন কারফিউ, দিল্লিতে জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা ও পশ্চিমবঙ্গে সরকারি-বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে অর্ধেক জনবল হাজিরা বিধি জারি করা হয়েছে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমস অনলাইনের।

ভারতে প্রথমবার এক দিনে শনাক্ত ছাড়াল দেড় লাখের গন্ডি। গতকাল রবিবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত শনিবার সকাল থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট করোনা আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৫৮ হাজার ৮০৫ জন। এদিকে এক দিনে মারণ ভাইরাসে প্রাণ হারালেন ৮৩৯ জন। এ নিয়ে মোট প্রাণহানি ঘটল ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৭৫ জনের। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১১ লাখ ৮ হাজার ৮৭ জন। এখন পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৩ করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন। এদিকে করোনার হ্রাস টানতে ভারতে জোরালোভাবেই চলছে টিকা প্রদান। গতকাল পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ১০ কোটি ১৫ লাখের বেশি মানুষ। টিকাদান বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে গতকাল শুরু হয়েছে টিকা উৎসব। বুধবার পর্যন্ত বেশি সংখ্যক টিকাকরণ করাই এই উৎসবের লক্ষ্য। টিকা উৎসব উপলক্ষে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘যাদের টিকার প্রয়োজন তাদের সাহায্য করুন। কোভিড আক্রান্তরা যাতে চিকিৎসা পায়, তা নিশ্চিত করুন। নিজে মাস্ক পরুন এবং কেউ করোনা আক্রান্ত হলে ওই এলাকায় মাইক্রো-কনটেনমেন্ট জোন তৈরি করুন।’

------
তবে টিকাদান বাড়ালেও যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে চিন্তার ভাঁজ সবার কপালে। শুধু বাড়তে থাকা সংক্রমণই নয়, চিন্তা বাড়াচ্ছে করোনার নতুন স্ট্রেইনও। সংক্রমণের বড় সংখ্যাটিই যে মহারাষ্ট্র রাজ্যে, সেটা বলাই বাহুল্য। মহারাষ্ট্র ছাড়াও পাঞ্জাব, কর্ণাটক, ছত্তিশগড়, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রীতিমতো উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে শনাক্তের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের।

করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে সর্বদলীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি আরো ১৫ দিনের জন্য লকডাউনের পক্ষে মত দেন। আজ লকডাউনের ঘোষণা আসবে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ঘোষণা দিয়েছেন, দিল্লির অবস্থা ভয়াবহ। তবে রাজ্যে হাসপাতাল পরিস্থিতি নাজুক হলে লকডাউন দেওয়া হবে। মানুষজনকে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণজমায়েত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশে যোগী সরকার গতকাল থেকেই রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছে। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্যটিতে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close