প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৭ নভেম্বর, ২০২০

মাস্ক পরাতে মাঠে র‌্যাব

ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশালে ১২৬ জনকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকৃতিতে বইচে হিমেল হাওয়া। সঙ্গে বাড়ছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ও মৃত্যু। এটি দেশে কোভিডের দ্বিতীয় ধাক্কা বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই অবস্থায় টিকা না আসা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক দিচ্ছে ভরসা। ফলে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছে সরকার। মাস্ক পরাতে রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত নামিয়ে করা হচ্ছে জেল-জরিমানা। তবু মানানো যাচ্ছে না জনসাধারণকে। সাজা আর জরিমানা তোয়াক্কা না করে খোলা মুখেই দিব্যি অনেকে ঘুরছেন। এই অবস্থায় কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ধাক্কা ঠেকানোর লক্ষ্যে সবাইকে মাস্ক পরাতে এবার মাঠে নেমেছে র‌্যাব, জেলা প্রশাসন। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাস্ক না পরায় জরিমানা করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশালে ১২৬ জনকে ২৬ হাজার ১৩০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে যাদের মাস্ক ছিল না বরাবরের মতোই তাদের ছিল উদ্ভট সব যুক্তি। অভিযান চলাকালে মাস্ক না পরার যুক্তি কেউ বলছেন, অক্সিজেন নিতে মাস্ক খুলেছি, কেউবা বলছেন দম বন্ধ লাগে। আর ভুলে বাসায় রেখে এসেছি, মাত্রই ফেলে দিলাম কিংবা হারিয়ে গেছে এমন অজুহাতই দিচ্ছেন অনেকেই। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অভিযান চলমান থাকবে জানিয়েছে র‌্যাব। তারা বলছেন, দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় এখন এ ধরনের অভিযান জরুরি হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ভ্যাকসিন আসার আগ পর্যন্ত মাস্কই ভ্যাকসিনের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

------
গতকাল রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে সরেজমিন দেখা যায়, বেশিরভাগ মানুষই মাস্ক পরিধান করছেন। তবে একটা বড় অংশ এখনো মাস্কের ব্যবহারে উদাসীন। এ অবস্থায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখোমুখি হলে অনেকেই বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে বাঁচতে চাচ্ছেন। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন অঙ্কের জরিমানাসহ মাস্ক ব্যবহারে সচেতন করছেন। পাশাপাশি তাদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করছেন।

ফার্মগেট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেওয়া র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামান বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার সবার মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করেছে। প্রত্যেকের মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফার্মগেটের মতো জনবহুল একটা এলাকায় বেশিরভাগ মানুষকে মাস্ক পরিধান করতে দেখা গেছে। তবে অনেকেই এখনো এ ব্যাপারে উদাসীন। কারো কারো সঙ্গে মাস্ক আছে কিন্তু মাস্ক পরছেন না। সবাইকে সচেতন করার জন্য এবং যারা মাস্ক পরছেন না তাদের সংশোধনের জন্য বিভিন্ন পরিমাণ অর্থদ- দেওয়া হচ্ছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত চলমান রয়েছে, অভিযান শেষে জরিমানার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

মিরপুর দারুস সালাম এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিষয়ে র‌্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি দরিদ্র শ্রেণির জনগণের মধ্যে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সামনে শীত তাই সংক্রমণ বাড়তে পারে। অথচ সর্বত্র গাছাড়া ভাব। দেশের মানুষ কোনোক্রমেই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না, মাস্ক পরে না। হাত ধোয়ার চর্চা কারো নেই, শারীরিক দূরত্ব মানছে না, মানুষের মধ্যে ভীতি-আতঙ্ক কেটে গেছে। রাস্তাঘাটে চললে তো মনেই হয় না যে দেশে করোনা আছে। কাঁধের ওপর কাঁধ দিয়ে সবাই চলাফেরা করছে। এমনকি হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগেও একই অবস্থা। মাস্ক পরলে করোনা থেকে ৮০ শতাংশ নিরাপদ থাকা যায়। এজন্যই ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ বাস্তবায়ন করতে হবে। মানুষকে সচেতন হতে হবে।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, ‘জনগণকে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব মানাতে সরকারকে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি জরিমানার দিকে যেতে হবে। পাশাপাশি সরকারের নৌবন্দর, স্থলবন্দর, বিমানবন্দরগুলোতেও নদরদারি বাড়ানো উচিত।’

এদিকে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পরিচালনা করছে ঢাকা জেলা প্রশাসক। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অভিযানে আরো ৮০ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। গত ১০ দিনের অভিযানে প্রতিদিন গড়ে ৯৬ জনকে মাস্ক না পরার কারণে জরিমানা গুনতে হলো। বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানায়, ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নগরীর ১০টি স্থানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় মাস্ক ব্যবহার না করার অপরাধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ৮০ জনকে ১৩ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার পাশাপাশি এক হাজার মাস্ক বিনামূল্যে বিরতণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

গত ১৭ নভেম্বর থেকে পরিচালিত অভিযানের ১০ দিনে ৯৫১টি মামলায় ৯৬২ জনকে জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন। জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ১০ টাকা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো : মাস্ক না পরায় ৩১ জনকে ৩ হাজার ৯৮০ টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে বিনামূল্যে মাস্কও বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াসমিন নতুন ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ মামলায় ১৫ জনকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ২০০ মাস্ক বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে নগরীর কোতোয়ালি মোড়, নিউমার্কেট এলাকায় অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারজান হোসেন। অভিযানে ১৫ মামলায় ১৬ জনকে ২ হাজার ৪৩০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ৫০টি মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।

বরিশাল : নগরীতে মাস্ক ব্যবহার না করায় ৫৩ জনকে অর্থদ- দিয়েছেন পৃথক দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ হেলালউদ্দিন এবং নিরূপম মজুমদারের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শীতে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ ঠেকাতে সরকার সবার মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। এই নিয়ম কার্যকরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর সদর রোড ও হাসপাতাল রোড এবং নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাস্কবিহীন ৫৩ জনকে ৮ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সহায়তা করেন। জনস্বার্থে এই অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়