ব্রেকিং নিউজ

নজর বাংলাদেশের রাজনীতিকদেরও

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৮:২৪

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও আরেক বড় দল বিএনপির নেতারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এই নির্বাচন। একই সঙ্গে ইসলামপন্থি ও বামপন্থি দলগুলোর নেতাদেরও আগ্রহের কমতি নেই এ ব্যাপারে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রশাসনের কাছে নানা প্রত্যাশার কথাও বলছেন তারা। খবর বিবিসির।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অথবা প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন যিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হোন না কেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব একটা হেরফের হবে না। এই বিশ্বাস করেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা।
 
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছে এবং সেখানে বাংলাদেশকে সঙ্গে চাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছিলেন। তিনি বলেন, সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে বাংলাদেশকে সঙ্গে রাখার চেষ্টা নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও দলটির অভিযোগ রয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের হস্তক্ষেপ দেখা যায়। পেছনের দরজা দিয়ে বা নেপথ্যে থেকে পর্দার আড়ালে সব সময়ই বাংলাদেশের রাজনীতিতে কলকাঠি নাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল।

ভূরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে জামায়াত নেতা পরওয়ার আরো বলেছেন, একদিকে চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল—এই দুই টানাটানিতে বাংলাদেশ চরম সংকটে পড়েছে। এসব তৎপরতাকে আমরা শুভ মনে করি না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এসব আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের জোট গঠন এবং তাতে বাংলাদেশকে শরিক করার বিষয় অগ্রাধিকার পেয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর হয়েছে।

তবে এ ইস্যুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ সতর্ক বলে মনে হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের দিকে সবার দৃষ্টি রয়েছে। কিন্তু বন্ধুত্বটা সবাই চায়। এটাই আমি মনে করি। এর বাইরে কেউ কিছু চায় বলে আমি মনে করি না।

ভূরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নিয়ে কোনো কোনো দলের উৎকণ্ঠা বা উদ্বেগ থাকলেও সব দলই তাকিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন এবং তার ফলাফলের দিকে। আওয়ামী লীগ নেত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো ঘাটতি হবে না বলে তারা মনে করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমেরিকা শক্তিধর দেশ, তাতে সন্দেহ নেই। দেশটির নির্বাচন নিয়ে পত্রিকা, মিডিয়া সবাই আগ্রহের সঙ্গে সবকিছু অবলোকন করছে। সেখানে যেই আসুক, তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে। এটাই আওয়ামী লীগের নীতি।’

এদিকে ইসলামপন্থি এবং কওমি মাদরাসাভিত্তিক দলগুলোর চিন্তা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যু এবং মুসলিম বিশ্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হতে পারে, সেই প্রশ্ন থেকে দেশটির এবারের নির্বাচনের দিকে তারা নজর রাখছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প বা বাইডেন কারো পক্ষেই বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে আমরা যোগ দেব না। যিনি নির্বাচিত হবেন, তার সরকার যেন তামাম বিশ্বে যুদ্ধ বা অশান্তি সৃষ্টি না করে এবং তারা যেন শান্তির পথ বেছে নেন; সেটা আমরা আশা করব। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের ব্যাপারে ইসরায়েল যে আগ্রাসী ভূমিকা নিয়েছে, সেক্ষেত্রে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তারা কাজ করবেন। এটাই আমরা আশা করি।

বামপন্থি দলগুলোও বরাবরের মতো যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। দলগুলোর নেতাদের অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, বিশ্বে দেশটির ভূমিকার কোনো পার্থক্য হবে না। এর পরও যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থি রাজনীতি স্থায়ী হলে গোটা বিশ্বেই তার প্রভাব বাড়বে। আর সেজন্যই দেশটির এবারের নির্বাচনকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, দুনিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রভাব এবং হস্তক্ষেপ ইত্যাদির ভেতর দিয়ে তারা পুঁজিবাদী বিশ্বের প্রধান পাহারাদার হয়েছে। সেজন্য তাদের নির্বাচন নিয়ে সবার আগ্রহ দেখা যায়।

দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, চীনকে ঠেকানোর লক্ষ্যে ভূরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন যে কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে; সে ব্যাপারে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি সরকার বা আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিসহ প্রভাবশালী সব দলই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য আরো ভালো সম্পর্কের প্রত্যাশা করছে।

পিডিএসও/হেলাল