উত্তরা আওয়ামী লীগের নেতারা হঠাৎ কেন এক টেবিলে!

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২০, ১৯:১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বৃহত্তর উত্তরা তথা ঢাকা-১৮ আসন এলাকার সিনিয়র নেতা, ওয়ার্ড এবং থানার কাউন্সিলরা ঈদ পরবর্তী এক পূনর্মিলনীতে সবাই এক টেবিলে বসে বৈঠক করেছেন। গত ১২ বছরে উত্তরা রাজনীতিতে এমনটা দেখা না গেলেও মঙ্গলবার দুপুরে নেতারা এই বেঠক করেন। সাহারা খাতুনের মৃত্যুজনিত কারণে ঢাকা-১৮ আসন শূন্য হওয়া এবং উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নেতারা এমন একটি বৈঠকে বসেছেন বলে জানিয়েছে বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র। বৈঠকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র নেতারা প্রায় সবাই অংশ নেন। যারা উত্তরায় রাজনীতি করে নগর আওয়ামী লীগে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছেন। এ নেতাদের অনেকেই এবারের উপনির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এর বাইরে উত্তরা সব কয়টি থানা ও ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমবারের মতো অত্র এলাকার ওয়ার্ডগুলো থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলরদেরও বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত একটি থানার নেতা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, সামনে এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সাহারা খাতুনের মৃত্যুর পর এবার উত্তরার স্থানীয় নেতাদের কাউকে এখানে নমিনেশন দেওয়ার জোর দাবি দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে উপস্থাপনের জন্য মূলত আমরা একসাথে বসেছি। বিগত তিনটি নির্বাচনে এখান থেকে দলের প্রবীন নেতা প্রয়াত সাহারা খাতুন এমপি থাকায় স্থানীয়দের কোনও সুযোগ তৈরি হয়নি। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছর পর স্থানীয়দের অনেকেই এমপি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাছাড়া অনেক প্রবীন নেতা আছেন যারা তৃর্ণমূলের ভোটে এগিয়ে থেকেও এমপি নির্বাচনের সুযোগ পাননি। গুঞ্জন রয়েছে এবারও উত্তরার বাইরে থেকে কাউকে দলের নমিনেশন দেওয়া হতে পারে। এমন গুঞ্জনের সূত্র ধরে, নেতারা ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে বসেছেন। স্থানীয়দের মধ্যে দলের নমিনেশন দিতে হবে অথবা রাজনীতি করেন এমন কাউকে দলীয় নমিনেশন দেওয়ার দাবি তারা তুলবেন। কোনও অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে এমপি হিসেবে তারা মেনে নিতে চান না, দলের তৃণমূল নেতাদের মতামাতের ভিত্তিতে  এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে তারা দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টাও করবেন বলে জানা গেছে।

বৈঠক সূত্র আরও জানায়, সাহারা খাতুন একজন আপাদমস্তক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এজন্য স্থানীয় নেতারাও সবাই উনার সঙ্গে কাজ করেছেন। কিন্তু কিছু দিন থেকে শোনা যাচ্ছে এবার এ আসন থেকে কোনও ব্যবসায়ীকে নমিনেশন দেওয়া হতে পারে। দেশের মূল ধারার গণমাধ্যমগুলোতেও এমন খবর উঠে এসেছে। ঢাকা-১৮ আসনে কোনও অরাজনৈতিক ব্যক্তির নমিনেশন এবার মেনে নেওয়া হবে না বলে কোন কোন বক্তার বক্তব্য থেকে উঠে আসলেও সিনিয়র নেতারা এই ইস্যূতে ভবিষ্যতে একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্লাটফরম থেকে কথা বলবেন বলে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়। 

বৈঠকে নগর উত্তরের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন ব্যাপারি ও তার ছেলে কাউন্সিলর আনিসুর রহমান নাঈম ও বিএনপি থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলর আলী আকবর আলী ছাড়া সবাই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নগর উত্তর আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা ও সাবেক সহ সভাপতি আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন।