সেই নার্গিস এই নার্গিস

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৩১ | আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৫৬

কাইয়ুম আহমেদ

তিনি নার্গিস। যার শুরুটা হয়েছিল একজন নায়িকা হিসেবে। পরবর্তীতে নায়িকা থেকে বহু চলচ্চিত্রে বোন, ভাবী এবং মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নার্গিসের ধারণা, তার সময়কালের অনেক প্রযোজক, পরিচালক নাটকে এবং চলচ্চিত্রে নেই বলে তিনিও খুব একটা ডাক পান না তার কর্মক্ষেত্রে। কিন্তু তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিচালকরা কিছু চরিত্রের জন্য তারই ওপর নির্ভর করেন। এমনই একটি চরিত্রের জন্য পরিচালক মান্নান শফিক নার্গিসকে নিয়ে একটি জনসচেতনতামূলক তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন।

বুধবার সেই নার্গিস ‘আপনজন’ হয়ে এসেছিলেন বাসায়। তাকে পেয়ে আমার ছেলে-মেয়েরা যেন নিজের কাউকে অনেকদিন পর কাছে পেয়েছিল বলে মনে হয়েছে। নার্গিসের সাথে গল্পে গল্পে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই তিনি মঞ্চ এবং টিভি নাটকে অভিনয় করেন। কমার্শিয়াল স্টেজ শো-গুলোতে অভিনয় করতেন সেসময়। তার অভিনীত প্রথম মঞ্চ নাটক ‘কুয়াশার কান্না’। এটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন আনিসুর রহমান। এরপর আরও বহু মঞ্চ নাটকে তিনি অভিনয় করেছিলেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘আয়না’ সিরিজে তিনি অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি ‘বউ কথা কও’, ‘হীরামন’-এ অভিনয় করেছেন। নার্গিসের এক ছেলে বাঁধন ও এক মেয়ে তুলি। দুই সন্তান যখন ছোট তখনই স্বামীকে হারিয়েছেন নার্গিস। এরপর অনেক কষ্টে দুই সন্তানকে মানুষ করেছেন তিনি। একজন অভিনেত্রী হিসেবে তিনি যেমন দর্শকের মন জয় করেছেন, ঠিক তেমনি মা হিসেবেও একজন গর্বিনী মা।

নার্গিস যখন স্কুলের ছাত্রী, সেই সময়ে তারই বড় বোন অভিনেত্রী আনোয়ারাকে খান আতাঊর রহমান তার ‘ঝড়ের পাখি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য নিতে এসেছিলেন। কিন্তু আনোয়ারা তখন এতই ব্যস্ত ছিলেন যে, খান আতার ইচ্ছে মতো তারিখে শিডিউল দিতে পারেননি। আর তাই তারই ছোট বোন নার্গিসকে নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেন খান আতা। ব্যস, আর যায় কোথায়।

শুরু হয় ‘ঝড়ের পাখি’ দিয়ে নায়িকা নার্গিসের পথচলা। ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান প্রযোজিত ‘ঝড়ের পাখি’ মুক্তি পায়। যদিও এটি নির্মাণ করেছিলেন খান আতা নিজে। কিন্তু নাম যায় সিবি জামানের। ‘ঝড়ের পাখি’তে অভিনয়ের সময়ই খান আতা হোসনে আরা নাম থেকে নার্গিস নামকরণ করেন। তবে ই আর খান তার নাম দিয়েছিলেন শবনম ক্যালী। ‘ঝড়ের পাখি’র পর নার্গিস ‘অবদান’, ‘গুনাহগার’, ‘চম্পা চামেলী’, ‘ভাই আমার ভাই’, ‘আদালত’, ‘নোলক’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘রাজকুমারী চন্দ্রভান’, ‘রং বেরং’, ‘মায়ার বাঁধন’, ‘সারেং বউ’, ‘স্মৃতি তুমি বেদনা’, ‘কলঙ্কিনী’, ‘রামের সুমতি’,‘সংঘর্ষ’, ‘পিঞ্জর’সহ আরও বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।