reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৪ জুন, ২০২৪

উখিয়ায় অস্ত্রসহ আরসা কমান্ডার গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি জি-৩ রাইফেল ও ৫ রাউন্ড তাজা গুলিসহ আরসার গান গ্রুপ কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৫।

গ্রেপ্তারকৃত আরসার গান গ্রুপ কমান্ডার জাকারিয়া (৩২) উখিয়ার বালুখালী ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এফ-১৭ ব্লকের বাসিন্দা মৃত আলী জোহরের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাতে উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সালাম চৌধুরী জানান, চলমান সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মূর্তিমান আতঙ্কের নাম আরসা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। আরসাসহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদ্যমান অন্যান্য সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো আধিপত্য বিস্তার ও রোহিঙ্গা নাগরিক প্রত্যাবাসনে বিঘ্ন ঘটাতে নিজেদের মাঝে সংঘর্ষ তৈরি, খুন, অপহরণ, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি, অগ্নি-সংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে।

তিনি জানান, সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য আসে, উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসার কতিপয় সদস্য নাশকতার জন্য পাশের দেশ হতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র নিয়ে এসেছে। এ সংবাদে ক্যাম্পে র‌্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ অভিযানকালে র‌্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালানোর সময় আরসা সন্ত্রাসী জাকারিয়াকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র উল্লেখ করে লে.কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জাকারিয়া ২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে এসে ১০ নম্বর ক্যাম্পে পরিবারসহ বসবাস শুরু করেন। মিয়ানমারে অবস্থানকালে আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির সাথে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং আরসায় যোগদান করে। বাংলাদেশে প্রবেশের প্রথম দিকে তিনি আরসার নেট দল (সংবাদদাতা) এবং পরবর্তীতে গান গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে। এরপর ২০২৩ সালের শেষের দিকে তিনি ১০ নম্বর ক্যাম্পের ব্লক-এফ/১৭ এর ব্লক কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পান। এ সময় তার নেতৃত্বে আরসার অন্য সদস্যদের নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণ, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ কার্য পরিচালনা হতো।

তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাবের মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানের সময় আরসা সন্ত্রাসীদের হামলায় গোয়েন্দা সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করলে তিনি মিয়ানমারের পালিয়ে যান। কিছুদিন পর আবারও বাংলাদেশে এসে আরসার গান গ্রুপ কমান্ডার হিসেবে বিভিন্ন কিলিং মিশন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন। তিনি অস্ত্র চালনায় দক্ষ হওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংগঠিত বিভিন্ন নাশকতা, মারামারি, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি, অপহরণ, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করতেন বলে জানায়। জাকারিয়ার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি দুবার কারাভোগও করেছেন। জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে উখিয়া থানার সোপর্দ করা হয়েছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close